সেকান্দর আলম বাবর , বোয়ালখালী

জীবনটা কাটিয়েছেন সুর আর সঙ্গীতকে ভালবেসে। পুরো জীবনে নিজের সবকিছু উজার করে দিয়েছেন সংস্কৃতি চর্চার পেছনে। ১৯৭৯ ও ৮৯ সালে দু’ বার নতুন কুঁড়ির পুরস্কার জিতে ভূষিত হয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মানে। তবে জীবনের শেষ বেলায় এসে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তাও পাচ্ছেন না গুণী এই শিল্পী। নেই চিকিৎসার খরচ জোগানোর অর্থ, জোটে না দু’ বেলা দু’ মুঠো ভাতও। তিনি আর কেউ নন, বোয়ালখালীর সংস্কৃতি জগতের গর্বিত সন্তান গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত ও নাট্য পরিচালক শিল্পী বাবুল আচার্য্য। প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক সত্য সাহা আর সুবল দাশের সাথে কাজ করা এ মহান শিল্পীর জীবন এখন সংকটাপন্ন।
একসময়কার সবল দেহের শরীরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে বাবুল আচার্য্যর। কঙ্কালসার দেহটা নিয়ে রাতদিন পার করে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন যেন তিনি। কথা বলতে গেলে ফ্যাল ফ্যাল তাকিয়ে থাকছেন। কথা বলতে একেবারে নারাজ। অভিমানে নিজেকে কঠিন করে ফেলেছেন। রাগে ক্ষোভে ম্যূহমান তিনি, অনেক বেদনায় আলতো আলতো করে বললেন, ‘লিখে কী হবে? সবতো শেষ হয়ে গেছে! বললেন, আমার একটু বিশ্রাম দরকার। বিনা চিকিৎসায় আর কত সময় পার করব। তার চেয়ে মৃত্যুই যে ভাল!’ ছল ছল করে পানি গড়িয়ে পড়ল তাঁর চোখ থেকে। যেন সব ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। সবশেষ বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে কী এ খবরটি পৌঁছানো যায় না?’ তাঁর ছাত্র জনপ্রিয় তবলা বাদক লিটন শীল জানান, স্যারের এ অবস্থা দেখে খুবই কষ্ট পাচ্ছি। একটু সুচিকিৎসা পেলে হয়তো স্যার ভাল হয়ে উঠত। আমরা যতটুকু পারছি সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। তবে তা খুবই নগণ্য। স্যারের দরকার হৃদয়বান মানুষের কিংবা সরকারের বড় সহযোগিতা।
জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা আচার্য্য পাড়ায় সঙ্গীত পরিবারেই জন্ম এ গুণী শিল্পীর। বাবা বিশ্বেশ্বর আচার্য্যও ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। তাঁর হাতেই গানের হাতেখড়ি বাবুল আচার্য্যরে। ৫ ভাই বোনের মধ্যে তিনি সকলের বড়। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। যুদ্ধে হারান বাবাকে। পরিবারের বোঝা টানতে হয় তাঁকেই। তাই লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি। সঙ্গীত চর্চা করে তিনি জীবিকা অর্জন করেছেন। তাঁর দীক্ষায় সৃষ্টি হয়েছে গুণী শিল্পী মেঘনা চৌধুরী, রীতা চৌধুরী, দীপক আচার্য্য, ফজলুল কবির, শরফুন নাহার মুক্তা, প্রদীপ বিশ্বাস, নির্বাচিতা পায়েল, জাহানারা বেগম স্বপ্নারা। দেশ স্বাধীন থেকে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক গানে সুর করেছেন তিনি। করেছেন শতাধিক নাটকের মঞ্চায়ন।
এক ছেলে এক মেয়ের জনক বাবুল আচার্য্য এখন মানুষের পথপানে চেয়ে থাকেন একটু সহযোগিতার আশায়। জীবনের এ বেলায় এসে আর্থিক সহযোগিতা চান ভক্ত আর রাষ্ট্রের কাছে।

Share