সুকান্ত বিকাশ ধর ম সাতকানিয়া

সাতকানিয়ায় ডলু নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বালু মহাল ইজারা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন স্তরে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। গত ৭ এপ্রিল ডলু নদীর বালু মহাল ইজারা বাতিল ও অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে লিখিত এ আবেদন করা হয়।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, সাতকানিয়ার প্রধান নদী হচ্ছে ডলু। ডলু নদীকে কেন্দ্র করে দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া বহুবছর আগে থেকে ডলু নদীর দুই তীর ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাট বাজার, স্থাাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বছরের পর বছর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ডলুর গতিপথ পরিবর্তনসহ দুই তীরে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদসহ বেশ কিছু স্থাপনা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়েছে। শত শত ফসলি জমি হয়েছে ভাঙনে বিলীন। উপজেলার সোনাকানিয়া, মির্জাখিল, রূপকানিয়া, ঢেমশা, আমিলাইশ, চরতি, এওচিয়া, নলুয়া ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ ডলুর ভাঙনে হয়েছে নিঃস্ব।
কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ডলুর বালু নিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে এলাকার সাধারণ মানুষ বরাবরই অসহায়। ওই প্রভাবশালী মহল নামে বেনামে প্রতিবছর বালি মহাল ইজারা নিয়ে পুরো ডলু নদীকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে নিজেদের দখলে রাখে। নিয়মানুযায়ী বালু মহালের সীমানা থেকে বালু উত্তোলনের কথা। কিন্তু ইজারাদাররা ইজারার অজুহাতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহার করছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন। অন্যদিকে, ইজারার বাইরেও দখলে নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তারা। সাম্প্রতিক সময় তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালী মহলটি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ১৫-২০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ ব্যবহার করে ড্রেজার মেশিন চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থাানীয়রা বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত। কারণ তাদের ভিটে বাড়ির অবশিষ্ট অংশটিও আসন্ন বর্ষায় ডলুর গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে স্থাানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কাছে বালু মহালের ইজারা বাতিল করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে লিখিতভাবে।
এ ব্যাপারে আবেদনকারীদের মধ্যে নলুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক অমল দাশ মানিক বলেন, স্থানীয়রা ডলুর ভাঙন থেকে রেহায় পাচ্ছে না শুধুমাত্র অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে। বিষয়টি আমরা দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েও প্রতিকার পাইনি। অথচ সরকার ও স্থানীয় কেএসআরএম এর স্বত্তাধিকারী মো. শাহজাহানের পক্ষ থেকে ডলুর ভাঙন রোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও ভেস্তে যেতে বসেছে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কারণে। তাই এলাকার কয়েকশ মানুষের সই নিয়ে লিখিত আবেদন করেছি জেলা প্রশাসকের কাছে। আমরা চাই ডলু তার নিজস্বতা ফিরে পাক। অর্থলোভী কিছু মানুষের কারণে দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী না হোক। তাই ডলুর বালু মহাল ইজারা বন্ধের মাধ্যমে রোধ করা হোক বালি উত্তোলন। প্রায় একই অভিযোগ স্থাানীয় আরও অনেকের।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কাছে আবেদন করা হয় তখন আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখি। এক্ষেত্রেও তাই করা হবে। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ডলুর বালু মহাল ইজারা বন্ধ বা বাতিলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Share