আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

দে শে বিভিন্ন সময় সংঘ টিত নানা অপরাধ তোলপাড় করে। কিছুদিন আলোচনা, মাতামাতি চলে। এরপর নীরবতা! আবার আরেকটি নৃশংসতা, পাশবিকতা। এভাবে চলে অপরাধের মাত্রা। অনেক সময় অপরাধ করে অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। অথবা প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকে। ধরা পড়লেও নানা চাপের মুখে থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অথবা সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে থাকতে হয় সংশয়ের দোলাচলে।
নানা ধরনের অপরাধ কর্মকা- আমাদের গ্রাস করছে। বেড়ে চলে সহিংসতা ও নৃশংসতার ঘটনা। বেপরোয়া অপরাধীরা। পত্রিকার পাতা খুললেই কোন না কোন স্থানের পাশবিকতা আর নিষ্ঠুরতার খবর চোখে পড়ে। এসব অপরাধের খবর পড়ে গা শীতল হয়ে যায়। শংকিত হই নিজেকে নিয়ে, নিজেদের পরিবার ও সমাজকে নিয়ে। কেন জানি মানুষ দিনকে দিন অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাড়তে উন্মত্ততা আর অস্থিরতা। অপরাধের দৃশ্যগুলো হার মানাচ্ছে অন্ধকার যুগকেও। ভাবাচ্ছে সচেতন সব মানুষকে। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের নৈতিকতা, সততা, আন্তরিকতা, সভ্যতা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্নগুণগুলোর। সেখানে স্থান নিচ্ছে হিং¯্রতা, পাশবিকতা, অনৈতিকতা সহ সব খারাপ বৈশিষ্ট্য। কবে হবে এসবের অবসান তা জানা নেই কারো! কখন মানুষ নিরাপদ ও শান্তিতে দিনযাপন করবে বলা মুশকিল। ‘অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে, মানুষ মনুষ্যত্ব ফিরে পাবে’।- এ আশায় দিন গুণে নিরীহ ও অসহায় এবং হতাশায় নিমজ্জিত মানুষগুলো।
কেন এই সহিংসতা, নৃশংসতা কিংবা পাশবিক নির্যাতন তার কারণ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধ নির্মূলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তা বের করতে হবে। কেননা বেড়ে চলা অপরাধ নির্মূল করতে না পারলে বড় ক্ষতি হবে সমাজ ও দেশের।
সব ধরনের অপরাধের পাশাপাশি কিশোর অপরাধকেও আমলে নিয়ে তার প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা কিশোর অপরাধ পরিবার ও সমাজকে নষ্ট করে দেয়। নড়বড়ে করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতিকে। অনৈতিকতা ও বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের সকলকে সচেতনতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা রাজনৈতিক সব নেতৃত্বকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ অপরাধের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় অপরাধীরাও পার পেয়ে যেতে পারে অনায়াসে।
কেন এই অস্থিরতা? আমরা কি পারি না আমাদের এই দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে?
সাম্প্রতিক সময়ে কোটাবিরোধী আন্দোলন ও তাতে সংঘটিত ঘটনাগুলো আমাদের ভাবিয়ে তুলে। ভাবিয়ে তুলে একটি একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে ডাক্তার-সাংবাদিকদের মাঝে পাল্টাপাল্টি দৃশ্যগুলো। কেন আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারি না? পারিনা বের মূল অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে? এ অবস্থা থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে।
অপরাধ থেকে উত্তরণে – মানুষের মাঝে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক, নাটক, সিনেমা ইত্যাদিতে সামাজিক ও নানা বাস্তব ঘটনাকে তুলে ধরতে হবে। কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রটেকশন দেওয়া যাবে না অপরাধীকে। নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে প্রশাসনকে। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শিশু ও নারীর নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। যাবতীয় মাদক ও নেশা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। অপরাধ নির্মূলে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ‘থেমে যাক অপরাধ’- এ কামনা সর্বক্ষণ।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

Share