মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন

ডিসেম্বর ২০১৪ শেষ দিকে বাড়ি গেলাম। মেঝভাইয়ের সাথে দেখা হতেই আমার মনেহল মেঝভাই খুব অসুস্থ। জানতে চাইলে তিনি বললেন পেট ব্যথা এবং খেতে পারেন না। ঐদিনই তাকে শহরে এনে ডাক্তার দেখালে ডাক্তার ভালো কোন সংবাদ দিতে পারলেন না। বললেন যে কয়দিন থাকে!
বিকালে দু’ভাই বাসায় এসে খেলাম। মায়ের সাথে পুরো বিকেল কাটালেন মেঝভাই। প্রসঙ্গত মা-ছেলে ছিলেন পান খাওয়ার পাগল। দ্ইুজনে বসে এক-বিকেলে অসংখ্য পান খেলেন। তারপর বাড়ি ফিরে গেলেন মেঝভাই। ১১ জানুয়ারি ২০১৫ সকাল হতে মা শুধু চটফট করতে লাগলেন। একটিই কথা মেঝভাইকে শহরে নিয়ে আস। উল্লেখ্য যে, মেঝভাই এতটা অসুস্থ বিষয়টি কাউকে বলিনি। অনেক বুঝিয়েও মাকে শান্ত করা যাচ্ছিল না। তখন মাও তেমন সুস্থ নন। মায়ের অবস্থাও প্রায় শেষ দিকে।
১২ জানুয়ারি বাড়ি হতে ফোন এল মেঝভাই আমাকে দেখতে চায়। চলে গেলাম। মেঝভাইয়ের পাশে বসে অনেক কথা। এই ছিল তার সাথে শেষ কথা। বললাম মেঝভাই আম্মা খুব চটফট করছে আপনাকে দেখতে চায়। কিন্তু কিভাবে আনব মাকে। প্রসঙ্গত মাকে তখন চলাফেরা করানো প্রায় অসম্ভব ছিল। ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ মেঝভাই না ফেরার দেশে চলেন গেলেন।
মেঝভাই যে চলে যাবেন মা ঠিকই বুঝে গেছেন। মায়ের অবস্থা দেখে আমিও অনুমান করেছিলাম মেঝভাই থাকবেন না। মা শুধু বলছিলেন আমার ছেলের কি হয়েছে। মেঝভাই নাই। মায়ের পাশে গিয়ে যখন বলেছি ঠিক তখন থেকে মা আর কিছুই বলেননি। মা একেবারে চুপ হয়ে গেছেন। এই হল মা।
মাকে দেখেছি যখনই আমাদের কিছু হচ্ছে তো অনেক আগে থেকেই বলতে পারতেন। উপলব্দি করতেন।চটফট করতেন। মা চলে যাওয়ার পর এমন করে কেউ বুঝে না, আমার কি হবে আর কি চাই। মায়ের শূন্যতা চারদিকে। চারপাশে। মা-তুমিহীন দিনগুলো ঠিক দিনের মত। যখন তুমি ছিলে মনে হত দিনগুলো তোমার মতই। ভাল থেকো ওপারে।
আজ মা চলেন গেছেন ৪ বছর শেষ। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ। মাকে বিদায় দিয়ে এসেছি। মায়ের প্রতিটি স্মৃতি ঘর জুড়ে। মায়ের প্রতিটি ডাক আমাকে ঘিরে রেখেছে। মায়েরা কেন যে চলে যায়।। প্রতিটি সন্তানের জন্য মা’দের বেঁচে থাকা দরকার। মা-তোমাকে ছাড়া প্রতিটি দিন আমার কাছে কঠিন হয়ে উঠে, তোমাকে পাগলের মত খুঁজি। ইদানিং তোমার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনগুলোতে আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ি। দোয়া কর মা, যেন সুস্থতার সাথে তোমার কাছে ফিরে যেতে পারি।

Share