নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা অফিস

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ওই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকা-ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার ধানমন্ডির পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির প্রধান মনোজ কুমার মজুমদার এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার মুক্তির দাবিতে ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে কমিটি গঠন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২০ সদস্যের এ কমিটির

আহ্বায়ক নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হন শাহাদাত হোসেন। তাদের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে গত ২৮ ও ৩০ মার্চ উপজেলা সদরে দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন আসামি নুর উদ্দীনসহ কয়েকজন। পরে তারা সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে দেখা করেন।
পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সেখানে সিরাজ তাদের ‘একটা কিছু করে’ নুসরাতকে শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও একজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে। এই পরিকল্পনার কথা তারা দুই ছাত্রী ও দুই ছাত্রের সঙ্গে শেয়ার করে। এর মধ্যে এক মেয়েকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ৩টি বোরকা ও পলিথিনের ব্যাগে কেরোসিন আনার। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহাদাতের হাতে এ সব হস্তান্তর করে।
পিবিআই জানায়, গত ৫ এপ্রিল হত্যার মূল পরিকল্পনা করা হয়। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় ছাদে শাহাদাতসহ চারজন ছিল। তাদের মধ্যে একজন নারী। পরে দুজন ছাত্র ও দুজন ছাত্রী বোরকা পরে সাইক্লোন সেন্টারের টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন। তারাই নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়েছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তাদের ক্ষোভ ছিল অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে আলেম সমাজকে হেয় করেছে নুসরাত। এছাড়া শাহাদাত হোসেন দফায় দফায় নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তার ভেতরেও একটা চাপা ক্ষোভ ছিল।
পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় আসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর আগে নুসরাতের ক্লাসে গিয়ে শম্পা তাকে বলেন, সাইকোলজি ভবনের ছাদে নিশাতকে (নুসরাতের বান্ধবী) মারধর করছে। তখন নুসরাত দৌড়ে সেখানে গেলে আসামিরা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই দিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা।
জাবেদ ৭ দিনের রিমান্ডে : নুসরাত হত্যার এজহারভুক্ত আসামি জাবেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শনিবার বিকেলে ফেনী জজ কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল শরাফ উদ্দিন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আল আলম আদালতের কাছে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় ছাদে শাহাদাতসহ চারজন ছিল। জাভেদকে তাদের অন্যতম বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে জাবেদকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

Share
  • 1
    Share