নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়কে যানজট নিরসনে নগরীর বেশ কিছু মোড়কে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে গাড়ি না থামানোর নির্দেশনা দিয়ে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাফিক বিভাগ এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে লাল রঙের উপর সাদা রঙ দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘এখানে বাস থামিবে না’ শব্দটি যেন নজরেই পড়ছে না বাস চালকদের। ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া এ নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে সতর্কীকরণ এসব বোর্ডগুলোর সামনেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী নিতে দেখা যায় লোকাল সিটি সার্ভিসগুলোকে। এদিকে বাস চালকদের নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি থামানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশরা প্রতিটি মোড়ে দায়িত্ব পালন করলেও বেপরোয়া এসব চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। নগরীর কয়েকটি যানজট চিহ্নিত গুরুতপূর্ণ পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে ইপিজেড মোড়, আগ্রাবাদ মোড় ও

টাইগার পাস মোড়। গতকাল সরেজমিনে এসব মোড় ঘুরে দেখা যায়, মোড়গুলো শুরু হওয়ার আগে ও পরে বাস থামানো নিয়ে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। আর এ আইন পালনে চালকদের বাধ্য করতে সেখানে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের। তবে শুধুমাত্র আগ্রাবাদ মোড় ছাড়া বাকি মোড়গুলোতে ট্রাফিক বিভাগের এ নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি বাস চালকদের। অবশ্য বাসগুলোর এ আইন না মানার পেছনে প্রধান কারণ হলো যাত্রী। কেননা বাসে আগে ওঠার প্রবণতা নিয়ে মোড়গুলোর মুখেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। ফলে অধিক যাত্রী নেওয়ার লোভে আইন মানছেন না বাস চালকরা। যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ইপিজেড মোড়। বিমান বন্দর সড়কের এ মোড়টিতে যানজটের ভোগান্তি যেন পথচারিদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আর তাই যানজট নিরসনে এ মোড়টির রাস্তার দু’পাশে বাসের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। তবে অধিক যাত্রী নেওয়ার আশায় এ মোড়ের যেখানে বাস থামানো নিষেধ করা হয়েছে সেখানেই বাসগুলো থামাতে দেখা যায় চালকদের। এসময় এ মোড়ে আইন অমান্য করা ১০ নং রুটের একটি বাসের চালক মো. জাকিরের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তার কাছে নির্ধারিত স্থানে বাস না থামানোর কারাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি লেখাপড়া জানি না। যেখানে যাত্রী দেখি সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলি। আর এ মোড়ে সবসময় এভাবেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলি। পুলিশওতো কখনো ডাক দেয়নি।’
নগরীর টাইগার পাস মোড়েও দেখা যায় এমনই চিত্র। এসময় এ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সজল পূর্বকোণকে বলেন, ‘শত চেষ্টা করেও তাদের আইন মানাতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। অবৈধভাবে পার্কিং এর দায়ে প্রতিদিন এসব বাস চালকদের জরিমানা ও মামলা করা হচ্ছে। তবুও তারা সচেতন হচ্ছে না’।
এদিকে ইপিজেড মোড় ও টাইগার পাস মোড় থেকে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ে। এখানে বাসগুলোকে নির্ধারিত স্থানে থামার জন্য মাইকিং করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের। শুধু বাস নয়, যাত্রীদেরও এ মোড় থেকে সরে নির্দিষ্ট ছাউনিতে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে অনুরোধ করতে শোনা যায় এখানে। ফলে এ মোড়ে বাস বা যাত্রী কাউকেই আইন অমান্য করতে দেখা যায়নি।
ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) হারুন-অর-রশিদ হাজারী পূর্বকোণকে বলেন,‘যানজট নিরসনে গত সপ্তাহের বুধবার থেকে বেশ কিছু মোড়কে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে গাড়ি না থামানোর নির্দেশনা দিয়ে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে অভ্যাসজনিত কারণে এ নির্দেশনা মানছে না গাড়ি চালকরা। তারা যেখানে যাত্রী দেখে সেখানেই গাড়ি থামায়। এছাড়া অনেক সময় যাত্রীরাও যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নামতে চায়। কেউ কষ্ট করে নির্ধারিত বাস টার্মিনালে নেমে একটু কষ্ট করে হাঁটতে চায় না। তিনি আরো বলেন, যতদিন না পর্যন্ত গাড়ি চালক এবং যাত্রীরা এই আইন না মানার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে ততদিন পর্যন্ত সড়কে পরিবর্তন আসবে না। তাই সড়ককে নিরাপদ রাখতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বাস চালকদেরও সচেতন হতে হবে’।

Share