স্পোর্টস ডেস্ক

ইমরুল কায়েসের জীবনটা জাতীয় দলের অন্যসব ক্রিকেটারের মতো নয়। সবাই যেখানে চোখ মেললেই অমিত সম্ভাবনা দেখেন, সেখানে ইমরুলের জীবনে সম্ভাবনা শব্দটাই বড় অপ্রতুল। এ কারণে তিনি নিজেকে দেশের সবচেয়ে দুর্ভাগা ক্রিকেটার বলে মনে করেন। এই আসি, এই যাই এভাবেই কেটে যাচ্ছে ইমরুলের ক্যারিয়ার। কিন্তু বার বার ধাক্কা খেতে খেতে ক্লান্ত ইমরুলের ভাবনায় আসে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথা। এবারের বিশ্বকাপেও অবশ্য তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা বিসিবি বস ক’দিন আগে স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছিলেন সেটা। এছাড়াও সুযোগ হয়তো মিলবে না আয়ারল্যান্ড সিরিজেও। সত্যিই কি এতোটা অযোগ্য ইমরুল? অতীত কি বলে? গত দুই বছরের হিসাবে সেটা পরিষ্কার, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাংলাদেশের জন্য একরকম দুঃস্বপ্ন ছিলো। সে সময় রান করেছিলেন শুধু ইমরুল আর মুশফিক। তবুও বাদ পড়লেন পরের ত্রিদেশীয় সিরিজে। ইমরুলের পরবর্তি ফেরাটা হয়েছিলো এশিয়াকাপে। মূল স্কোয়াডের অংশ হয়ে না। হঠাৎ পাওয়া নোটিশের ভিত্তিতে। মরুর দেশের গা ঝলসানো গরম আর ভ্রমণক্লান্তি নিয়েই সেবার পৌঁছানোর বারো ঘন্টার মাঝে মাঠে নেমে করলেন ৭২ রান। এরপরের জিম্বাবুয়ে সিরিজেও স্কোয়াডে জায়গা করে নেন তিনি। সেবার তিন ইনিংসে করেছেন ১৪৪, ৯০ ও ১১৫ মোট ৩৪৯ রান। এরপরের সিরিজেও যথারীতি ছিলেন। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৪ ও ০ রান করার পর আবার কোপ পড়ল ইমরুলের ওপর। ২০১৬ নিউজিল্যান্ড সফরে ভালো করার পরও এবার কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাঁকে নেওয়া হয়নি। শোনা গিয়েছিল, ১৬ জনের স্কোয়াড করে তাঁকে নেওয়া হবে। পরে নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ বছর কাটিয়ে দেওয়া আর কোনো ক্রিকেটারের এমন উত্থান-পতন আছে কি না, সন্দেহ! তবে এতোকিছুর পরও ক্রিকেট ছাড়েন না ইমরুল। কেননা ক্রিকেট কে যে তিনি ভালোবাসেন, আর ভালোবাসার জিনিসকে ছাড়া এতোটা সহজও নয়। ইমরুলের ভাষ্যে, ‘ক্রিকেট খুব ভালোবাসি। এটা রক্তে মিশে গেছে। ক্রিকেট না খেললে হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়া যায়। কিন্তু এখনো বয়স আছে। ক্রিকেটের বাইরে সেভাবে কিছু চিন্তা করতে পারি না। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে তাই পারি না। আচ্ছা বলুন, একজন ক্রিকেটার হিসেবে সব সময় আপনার লক্ষ্য থাকবে কী? জাতীয় দলে খেলা। সেখানেই যদি কোনো আশা না থাকে, তবে আর তো কোনো পথ খোলা থাকল না। মাঝেমধ্যে ভীষণ হতাশ হই। পরে অবশ্য মেনে নিই, এটা আমার ভাগ্যে লেখা। হয়তো কারও কারও চোখে আমি মুগ্ধতা ছড়ানো ব্যাটসম্যান নই, ধ্রুপদী ব্যাটসম্যান নই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের হয়ে রান তো করেছি। রান করতে গেলে বেসিক অন্তত থাকতে হয়।’ এভাবে বার ধাক্কা খেতে খেতে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছেন ইমরুল। যেটি একজন ক্রিকেটারের জন্য বড় বিপদজনক। দেশের ঘরোয়া লীগে মন নেই, আসলে ভালো করেই বা কি হবে তার! তবে এতোকিছুর মাঝে ১১ বছর যুদ্ধ করা ইমরুল স্বপ্ন দেখেন বিশ্বকাপের। আশাহত হননি বরং আছেন ডাকের অপেক্ষায়। শুরুতে না হোক হয়ত ২০১৮ এশিয়া কাপ কিংবা ২০১১ বিশ্বকাপের মতো আবারো দলের প্রয়োজনে ডাক পড়বে তার। আর আবারো তিনি বিশ্বের বুকে উচু করে ধরবেন লাল সবুজের পতাকা। অবিশ্বাস্য কিছু করে আনন্দে ভাসাবেন গোটা বাংলাদেশকে।

Share