নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩ ফুট রাস্তার জন্য দুই মাস ধরে প্রায় অবরুদ্ধ শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির ১০ হাজার বাসিন্দা। এক বছর দুর্ভোগ শেষে সড়কটি চালু হওয়ার পর এখন দ্বিতীয়বারের মতো দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাকলিয়ার শাহ আমানত সোসাইটির একমাত্র সড়কটি সংস্কারশেষে ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়। দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য এক বছর দুর্ভোগ সহ্য করেছিল সোসাইটির বাসিন্দারা। এখন আরাকান সড়ক ছয় লেন ও সংস্কারের পর সোসাইটির সড়কটি নিচু হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা লাঘবে সোসাইটির সড়কের প্রবেশ মুখে ২৫-৩০ ফুট অংশ উঁচুকরণের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। সংস্কারের জন্য রিটেইনিং ওয়াল ও লোহার গাঁথুনি নির্মাণ করে দুই মাস ধরে পড়ে রয়েছে। নির্মাণ কাজের অগ্রগতি না থাকায় যেনতেনভাবে পড়ে রয়েছে। এরফলে সোসাইটির ১০৮টি ভবনের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়কের ৫০ ফুট অংশের জন্য আবাসিকে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী লোকজন ও মহিলাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ ও রোগীদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে ৫-৬ জন শ্রমিক কাজ করে। ধীরগতির কারণে কয়েক মাস ধরে দুর্গতি লেগে রয়েছে। ড্রেন ঢালাইয়ের জন্য লোহার গাঁথুনি দেওয়া হলেও ঢালাই না করায় দুর্ভোগ কমছে না।
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আনিস ওয়ারেচী বলেন, কাজ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সোসাইটির বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা মেয়রের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ১০৮টি ভবনের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা দুই মাস ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সহ্য করে আসছে।
সোসাইটির বাসিন্দা এক বাসিন্দা জানান, গাড়ি ঢুকতে না পারায় তার গর্ভবতী স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিকল্প পথ ঘুরে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাহমুদুল হক মনছুর (৫০) নামে এক বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়েছে স্বজনদের। ৪/৫ জন স্বজন কোলে নিয়ে সৈয়দশাহ রোড হয়ে প্রায় ২ কি.মি রাস্তা ঘুরে যেতে হয়েছে। অথচ ওই বাসিন্দার নিজস্ব যানবাহন রয়েছে। সড়কের দুরবস্থার জন্য গাড়ি ব্যবহার করতে পারেনি। তার বোন তাহেরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু মানুষকে অবরুদ্ধ করে অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়ে সেই উন্নয়নের দরকার কি ?
আলতাফ হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিক লাগবে ২০ জন। কিন্তু নিয়োগ দিয়েছেন ৪/৫ জন। তার মধ্যে থাকে অর্ধেক নারী। কারণ নারীদের বেতন পুরুষের চেয়ে অর্ধেক। তিনি বলেন, স্লোব তুলে ফেলায় ও ড্রেনের লোহার গাঁথুনি দেওয়ায় উল্টো মহিলা ও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এক দোকানি বলেন, এখানে মালামাল নিয়ে গাড়ি ঢুকতে না পারায় খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। যার ব্যয় ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

Share