নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিমানবন্দর হওয়া প্রয়োজন হাটহাজারীতে। আর সঠিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রয়োজন সিটি কর্পোরেশন ও মেট্রোপলিটন এলাকা সম্প্রসারণ।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চিটাগাং চেম্বার আয়োজিত ২৭তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। মেলা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। অন্যদের মধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামে নিয়োজিত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি ও চেম্বারের সহ সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিমানবন্দর সমূহের মোট যাত্রীর ৭২ শতাংশ হয় ঢাকায়। আর চট্টগ্রামে হয় ১৭ শতাংশ। ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবকাঠামোগত সুবিধা তেমন নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে আগামী ৫ বছর পরে চট্টগ্রামে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি থাকবেন। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রয়োজন। দ্বিতীয় আর একটি বিমান বন্দর হতে পারে হাটহাজারীতে। তাহলে সেটা যেমন চট্টগ্রাম শহরের কাছে হবে, তেমনি বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরীর জন্যও হবে সুবিধাজনক। এ প্রসঙ্গে বলেন, হাটহাজারিতে একটি এয়ারপ্যাড ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর আর এলাকা বাড়েনি। অথচ অনেক দূর পর্যন্ত শহর চলে গেছে। মেট্রোপলিটন এলাকাও বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ এখন বহুদূর এগিয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর আকাশ থেকে দেখলে, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখলে হঠাৎ ভুল হয়। আমি কি চট্টগ্রাম শহরে আছি, না অন্য কোথাও। রাজধানীর হাতিরঝিলে গেলে মনে হয় প্যারিস শহরের কোথাও যেন। এভাবে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। আর মাথাপিছু জমির পরিমাণ সবচেয়ে কম। সেই দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাল রপ্তানি করছি, এ বছরে আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩ লাখ টন। নেপালে ভূমিকম্পের পর ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল সাহায্য পাঠিয়েছি। বাংলাদেশ এখন সাহায্য নেয় না, বরং সাহায্য দেয়। সঠিক নেতৃত্ব আর সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে সম্ভব হয়েছে এই পরিবর্তন। শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে ১০০ অর্থনৈতিক জোন হতে যাচ্ছে। আগে আমাদের দেশে জিডিপিতে কৃষি খাতে অবদান ছিল সব থেকে বেশি। এখন শিল্প খাতের অবদান সব থেকে বেশি। মিরেরসরাই, সীতাকু- এবং ফেনীর কিছু অংশ নিয়ে যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী হতে যাচ্ছে তা প্রায় মূল চট্টগ্রাম শহরের সমান। সেখানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কয়েকটি শিল্প উৎপাদনে যাবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, চিটাগাং চেম্বার একটি অনন্য সাধারণ কাজ করেছে। সেটা হলো এই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বোম্বের পরে ভারতীয় উপমহাদেশে আর কোথাও নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন প্রথমবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান ১৯৯৬ সালে, তখন তিনি এই জায়গাটি চিটাগাং চেম্বারকে দিয়েছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, আর ২০৪১ সালে উন্নত দেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখি তা ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করছেন। এখানে কোনরকম চাঁদাবাজির খবর পেলে শক্ত হাতে দমন করা হয়। সর্বশেষ ব্যক্তি আমি যে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি বলেন, সেই ১৯৭১ সাল থেকে ভারত আছে বাংলাদেশের পাশে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও খুব ভাল। ভারত প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি ) দিয়েছে বাংলাদেশকে। আমরা সব দেশে যা দেই, তার অর্ধেকের বেশি এটা।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরের কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। এখান থেকে সিঙ্গাপুর ব্যাংকক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ টনের ওজন স্কেলের কারণে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বেড়ে গেছে। ভোক্তার ওপর প্রভাব পড়ছে। এ বাধা দূর করতে হবে। মেলার জন্য একটি স্থায়ী ভেন্যুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানশেষে তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ২৭তম সিআইটিএফ-এর অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। শ্রেষ্ঠ অংশ অংশগ্রহণকারী নির্বাচিত হয়েছে থাই প্যাভিলিয়ন। স্পেশাল ফরেন পার্টিসিপেন্ট হিসেবে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন। শ্রেষ্ঠ দেশীয় প্রস্তুতকারক নির্বাচিত হয়েছে এস এইচ কারুকর্মা। প্রিমিয়ার গোল্ড ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্ট এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

Share
  • 1.2K
    Shares