ইফতেখারুল ইসলাম

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কোন ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রথমে রাজনৈতিক নেতারা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সামরিক বাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করতে সেনা বাহিনীর একজন মেজরকে দিয়ে পরে ঘোষণাটি পাঠ করানো হয়েছিল। দৈনিক পূর্বকোণকে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেছেন মীর্জা আবু মনসুর। তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত এমপিএ। মুক্তিযুদ্ধকালিন জোনাল কমা-ার তিনি।
পূর্বকোণকে তিনি বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা স্বাধীনতাা স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঘোষণাই ছিল মূলতঃ বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন। বঙ্গবন্ধুর এ আহ্বানের ফলশ্রুতিতে সেদিন থেকে শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে ২৫ মার্চের মধ্যরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বাঙালি নিধনের প্রত্যুত্তরে বীর বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাধ্যমে।
স্বাধীনতার ঘোষক এবং ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তৎকালিন ইপিআর সিগন্যাল বার্তার মাধ্যমে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা মরহুম এম আর সিদ্দিকী ও মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সুস্পষ্ট ঘোষণা লাভ করেন। চট্টগ্রামের বীর জনতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনতার সুতিকাগার চট্টগ্রাম থেকেই শুরু করেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ঐ রাতেই চট্টগ্রামে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্যাটেলিয়ন। যার অন্যতম নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরকে (আমাকেসহ) কয়েকজন উদ্যমী ও সাহসী যুবককে দায়িত্ব দেয়া হয়, যে কোন উপায়ে কালুরঘাটে অবস্থিত বেতার কেন্দ্র হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার। আমরা পরদিনের জন্য অপেক্ষা না করে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর পরের দিনের সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রকাশের উদ্যোগ নিই। এ কাজের জন্য ছাত্রনেতা শওকত হাফিজ খান রুশ্নিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের পত্রিকা মালিক ও সম্পাদকরা এ দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিতে অস্বীকৃতি জানান। একমাত্র নগরীর হাজারি লেন থেকে প্রকাশিত দৈনিক সমাচারের সম্পাদক সেকান্দর হায়াত মজুমদার ও ওই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী পরদিনের পত্রিকায় ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন’ এ ব্যানার শিরোনাম করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরদিন বুলডোজার দিয়ে ওই পত্রিকা অফিস গুঁড়িয়ে দেয়। এদিকে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক মরহুম এম এ হান্নানের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবককে দায়িত্ব দেয়া হয় কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র হায়েনামুক্ত করতে। পরদিন মধ্যাহ্নে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা অসীম সাহসিকতার সাথে অনায়াসে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র হায়েনামুক্ত করেন। এরপর ওই কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ করি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রকৌশলী ফজলে এলাহী, অনুষ্ঠান প্রযোজক বেলাল মোহাম্মদ ও আবুল কাশেম সন্দ্বীপি। ২৬ মার্চ দুপুরে মরহুম এম এ হান্নান ও আবুল কাশেম সন্দ্বীপি পর্যায়ক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে লব্ধ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এরপর পরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মুক্তিযুদ্ধের যৌথ কমা- থেকে নির্বাচিত এমপিএ হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রামে কর্মরত বাঙালি সৈনিক, পুলিশ ও ইপিআর বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করতে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ইপিআর এর সেক্টর অধিনায়ক ক্যাপ্টেন রফিকের সাথে যোগাযোগ করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বেতারে প্রচারের জন্য অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা চট্টগ্রামে কর্মরত আছেন। তাদের কাউকে দিয়ে এ ঘোষণা প্রচার করলে গ্রহণযোগ্যতা আরো বহুগুণ বাড়বে। তারপর ক্যাপ্টেন চৌধুরী খালেকুজ্জামানের মাধ্যমে মেজর শওকতের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাঁর সিনিয়র মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় সাড়া দিয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ষোলশহর দুই নং গেটে অবস্থান করছেন। এরপর আমি ২৬ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টায় ২ নম্বর গেটে জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বেতারে পাঠ করার অনুরোধ করি। আমার প্রস্তাব শুনে তিনি প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর তিনি তাঁর অধীনস্থ কিছু কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ঘোষণা পাঠ করতে রাজি হলে তাকে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে নিয়ে যাই। সে সময় তাঁর সাথে ছিলেন ক্যাপ্টেন অলি আহমদ, ক্যাপ্টেন সুবেদ আলী ভুঁইয়া, ক্যাপ্টেন হারুন, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ। তিনি সেখানে গিয়ে আমাদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করেই সন্ধ্যা ৭টায় বেতার ঘোষণা দেন ‘ও গধলড়ৎ তরধঁৎ ৎধযসধহ, ফড় যবৎব নু ফবপষধৎব ঃযব ওহফবঢ়বহফবহপব ড়ভ ইধহমষধফবংয’ তাঁর এই ঘোষণায় চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তার এমন ঘোষণায় আমরা নিজেরাও হতভম্ব হয়ে পড়ি। এহেন বিভ্রান্তিকর ঘটনা সৃষ্টির কারণ তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে বাঁচাতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ভাই ও আমাকে ঘোষণাপত্র তৈরি করে দিতে বলেন। তখন আমরা চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা মরহুম এম আর সিদ্দিকী ও জহুর আহমদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে জানতে পারি তারা দুইজনই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগরতলা যাওয়ার জন্য ফটিকছড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন। আমি আমার নতুন ভকস ওয়াগন (নং চট্টগ্রাম খ-৬০০) গাড়িটি নিজে চালিয়ে মোশাররফ ভাইসহ রাত দেড়টার দিকে রওনা দিয়ে ফটিকছড়ির দৌলতপুর মরহুম আবদুল বারী চৌধুরীর বাড়িতে যাই। দৌলতপুরে গিয়ে শুনলাম তারা আগরতলার দিকে রওনা হয়েছেন। মরহুম এ কে খানকে ঘটনাটি জানানোর পর তিনি আমাদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি লিখে দেন। তা ছিল “ও সধলড়ৎ তরধঁৎ ৎধযসধহ, ড়হ নবযধষভ ড়ভ ড়ঁৎং মৎবধঃ ষবধফবৎ ইধহমধনধহফযঁ ঝযবরশয গঁলরনঁৎ জধযসধহ ফড় যবৎবনু ফবপষধৎব ঃযব ওহফবঢ়বহফবহপব ড়ভ ইধহমষধফবংয, অষষ ধৎসং ভড়ৎপবং রহপষঁফরহম ঊ.ই.জ, ঊ.চ.জ, চড়ষরপব. অহংধৎং, ঠউচ ধৎব ৎবয়ঁবংঃবফ ঃড় লড়রহ রহ ষরনবৎধঃরড়হ ংঃৎঁমমষব ধহফ লড়রহ রহ কধষঁৎমযধঃ ইৎরফমব ধং বধৎষু ধং ঢ়ড়ংংরনষব ঃড় ভরমযঃ ভড়ৎ ষরনবৎধঃরড়হ ড়ভ ইধহমষধফবংয.”
মোশাররফভাইসহ আমি পরদিন সকাল ৮টায় ঘোষণাটি নিয়ে আসি। ২৭ মার্চ সকাল ১১টায় মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে ঘোষণাটি পাঠ করেন। এরপর সেদিন পাঁচ মিনিট পর পর আরো কয়েক দফা ঘোষণাটির রেকর্ড প্রচার করা হয়। মেজর জিয়ার নির্দেশে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমরা বেতার কেন্দ্র ত্যাগ করে কালুরঘাট সেতুর দক্ষিণ তীরে চলে যাই। তখনই হানাদার বাহিনী বেতারকেন্দ্রে কয়েক দফা শেলিং করে। সেদিন রাতে বিদ্রোহী সেনা, পুলিশ ও ইপিআই সদস্যদের জড়ো করে এবং যানবাহন সংগ্রহ করে মেজর শওকত ও ক্যাপ্টেন রফিকের নেতৃত্বে তাদেরকে সন্ধ্যায় হানাদারমুক্ত করতে পাঠাই। কিন্তু তারা চকবাজারের পর আর অগ্রসর হতে পারেননি। ইতিমধ্যে খবর আসে মেজর জিয়া কাউকে কিছু না বলে বোয়ালখালীর করেলডেঙ্গা পাহাড় ঘুরে কক্সবাজার চলে গেছেন। এসময় ক্যপ্টেন রফিক মুক্তিবাহিনীর জন্য সহসা অস্ত্র ও গোলা বারুদের একটি তালিকা আমাকে দেন। সেই তালিকা নিয়ে ২৮ মার্চ আগরতলা যাই। ২৯ মার্চ সেখানে পৌঁছে ৯১-বিএসএফ’র অধিনায়কের সাথে দেখা করে ক্যাপ্টেন রফিক প্রদত্ত অস্ত্রের তালিকাটি তাকে দিই। তার কাছে জেনেছি আওয়ামী লীগ নেতা এম আর ছিদ্দিকী ও জহুর আহমদ চৌধুরী আগরতলায় আছেন। তার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে আগরতলার সাংবাদিক অনিল ভট্টাচার্যসহ ত্রিপুরার তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী শচীন সিংহের সাথে দেখা করি। এম আর ছিদ্দিকী ও জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে বিদায় নিই। ২ এপ্রিল ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ’র মাধ্যমে অন্তত ১২ বাক্স গোলাবারুদ আমাকে দেন। এসব অস্ত্র নিয়ে চট্টগ্রামে আসার সময় দাঁতমারা এলাকায় পৌঁছলে দেখি ২৫ থেকে ৩০টি গাড়িভর্তি সেনাবহর আসছে। আমরা শত্রু মনে করে লুকিয়ে পড়ি। পরে জানতে পারি মেজর জিয়া ওই বহর নিয়ে ভারত গিয়েছিলেন। আমার ছোট ভাই মির্জা আকবর ও চাচা আখতার মিয়া তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে নারায়ণহাট হতে রামগড় গিয়ে জিয়ার সাথে দেখা করি। রামগড়ের তৎকালিন এসডিও এবং রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মান্নান রামগড় ডাক বাংলো খুলে দেন।
২৭ মার্চ বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষণার পর আমাদের সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ রামগড় চলে যেতে বাধ্য হন। রামগড়ে আশ্রয় নেয়ার পর একটি দলকে পাঠাই বেতারকেন্দ্রের ট্রান্সফারমারটি নিয়ে আসার জন্য। ওই দলে মির্জা মোহাম্মদ বাবর (মরহুম), নুরুল আলম চৌধুরী, হারুন খান প্রমুখ ছিলেন। তারা সফলতার সাথে ট্রান্সফারমারটি ত্রিপুরার সাবরুমে নিয়ে আসেন।
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে হাজারো শরণার্থী ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন। তারা আমাদের নানুপুরের বাড়ি হয়ে ভারতে যেতেন। আমার পিতা মির্জা আবু আহমদ একজন মুসলিম লীগ নেতা হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখেন। শরণার্থীদের জন্য আমাদের বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলে নিজ খরচে সেটি চালান। যেহেতু আমাদের বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা এবং শরণার্থীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল, পাক বাহিনীর কাছে খবরটি পৌঁছে যায়। তারা গান পাউডার দিয়ে আমাদের বাড়িটি পুড়ে দেয়। খবর পেয়ে নুর আহমদ চেয়ারম্যান শহর থেকে আমাদের বাড়িতে ছুটে গিয়ে পাক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেন। অনেক কথা কাটাকাটির পর তারা ওনাকে হত্যা করে এবং আমার ছোট ভাই মির্জা মোহাম্মদ আকবর ও ফুফুকে বন্দী করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে এসডিও কোর্টে চালান দিলে এসডিও এম আর আলী তাদেরকে টাউন বেইল দেন।
হরিণা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের সময় আগস্টের প্রথম দিকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর নির্দেশে আমাদের ১৪ জন এমপিএ এমএনএ’কে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের জন্য বিহারের চাকুলিয়া সেনা প্রশিক্ষণ কলেজে পাঠানো হয়। আমি ছাড়া চট্টগ্রামের আরো দুইজন ছিলেন এই দলে। তাঁরা হলেন মরহুম ডা. এম মান্নান এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রশিক্ষণশেষে আমাদেরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত মেজর হিসাবে কমিশন দিয়ে অগ্রবর্তী এলাকায় নিয়োগ দেয়া হয়। আমাকে ১ নং সেক্টরের কমা-ার মেজর রফিকের অধীনে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া নিয়ে গঠিত ১ নং সেক্টরের জোনাল কমা-ারের দায়িত্ব দেয়া হয়। আমার নেতৃত্বে ফটিকছড়ির জঙ্গল খিরাম এলাকায় জোনাল কমা-ের একটি ‘কমা- ক্যাম্প’ স্থাপিত হয়। সেসময় আমি ছদ্মনাম ব্যবহার করি। আমার নাম ছিল ‘মালেক সাহেব’। ওই সময় আমাকে ধরার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে প্রশাসন। চালানো হয় অনেকগুলি সফল অপারেশন।
তিনি বলেন, ২৩ মার্চ মেজর জিয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল যখন সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের জন্য যাচ্ছিলেন তখন তার দলের একজন ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান যে আমার ক্লাসমেট ছিল তার সাথে যোগাযোগ করেছি অস্ত্র খালাস না করার জন্য। তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত সবার প্রচেষ্টায় তা সফল হয়েছিল। যদি সেই অস্ত্র খালাস হতো তাহলে পাকসেনাদের শক্তি অনেক বেড়ে যেত।

Share
  • 83
    Shares