প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের

ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ শাসকরা এতদাঞ্চলকে শাসন করার জন্য যেমনি সাম্প্রদায়িতাকে বিভিন্ন ফর্মে ব্যবহার করেন তেমনি সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বর্ণ ও ধর্মকে মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাই ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আলফ্রেড লায়াল ১৮৭৫ সালে এক প্রবন্ধে বলেন “ভারতের ২৪ কোটি লোক রক্ত, বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত”। সুতরাং ব্রিটিশ শাসন অব্যাহত রাখার স্বার্থে এ বিভক্তি অটুট রাখা শ্রেয় এবং ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তাঁরা তা রেখেছিল বটে। এখানে উল্লেখ্য ঊনিশ শতকের শেষার্ধে কংগ্রেস এবং বিংশ শতকের শুরুতে মুসলিম লীগের উদ্ভব হয়। কংগ্রেস ক্রমেই ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারক-বাহক হয়ে উঠে। আর মুসলিম লীগ প্রথমে মুসলমানদের ধারক-বাহক হয়ে উঠলেও পরে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলনের অগ্রদূত হয়ে উঠে। তবে দীর্ঘ ১৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনামলের শেষে আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে পেলাম হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও মুসলিম জাতীয়তাবাদ। এ রাজনীতির পরিণতিতে বাংলা ভাগ হয়ে যায়। ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি হওয়ার যে আকাক্সক্ষা বায়ান্ন সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরু হয় তা ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। এ যেন মাতৃগর্ভে শিশুর বেড়ে উঠা, জন্মলাভের উদ্দেশ্যে।
বস্তুতঃ দ্বি-জাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ১৪ আগষ্ট ১৯৪৭ সালে জন্ম নেয় পাকিস্তান ও ভারত নামক দ’ুটো রাষ্ট্র। তবে পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনামলে বাঙালিদের বিভিন্নভাবে নির্যাতিত এবং চরম বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি তারা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হানে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে ১৯৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট-নির্বাচন, ১৯৫৮’র সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণ অভ্যুত্থান সর্বোপরি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী, অগ্রদূত ও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। অবশেষে ৭ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) দাঁড়িয়ে ১৯ মিনিটের এক যাদুকরী ভাষণের মাধ্যমে পুরো বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর করে তোলেন। তার এই উদ্দীপ্ত ভাষণকে একদিকে স¦াধীনতা ঘোষণা অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনাও বলা যেতে পারে। এ ভাষণের পর মুক্তিকামী বাঙালি মানসিকভাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর নিজ বাড়ী থেকে রাত ১:২০ মিনিটে গ্রেফতারের পূর্বে রাত ১২:২০ মিনিটে তিনি স্বাধীনতার মহান বার্তাটি চট্টগ্রামে প্রেরণ করেন এবং তা যথারীতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ মহান বার্তাটি নি¤œরূপঃ
ঞযরং সধু নব সু ষধংঃ সবংংধমব, ভৎড়স ঃড়-ফধু ইধহমষধফবংয রং রহফবঢ়বহফবহঃ. ও পধষষ ঁঢ়ড়হ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ ইধহমষধফবংয যিবৎববাবৎ ুড়ঁ সরমযঃ নব ধহফ রিঃয যিধঃবাবৎ ুড়ঁ যধাব, ঃড় ৎবংরংঃ ঃযব ধৎসু ড়পপঁঢ়ধঃরড়হ ঃড় ঃযব ষধংঃ. ণড়ঁ ভরমযঃ সঁংঃ মড় ড়হ ঁহঃরষ ঃযব ষধংঃ ংড়ষফরবৎ ড়ভ ঃযব চধশরংঃধহর ড়পপঁঢ়ধঃরড়হ ধৎসু রং বীঢ়বষষবফ ভৎড়স ঃযব ংড়রষ ড়ভ ইধহমষধফবংয ধহফ ভরহধষ ারপঃড়ৎু রং ধপযরবাবফ.
এরপরই শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ৯ মাসের লড়াই এবং এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মদান ও তিন লক্ষ মা-বোনের ত্যাগের এর বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। জন্ম নেয় স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের।
তবে এটা সত্য যে, দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বঙ্গন্ধুর নামেই। তাঁর মতো আত্মত্যাগ খুব কম বাঙালি রাজনীতিবিদই করেছেন। জীবনের ১১ বছর কেটেছে জেলে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিজে পাননি। পরিবারকে দিতে পারেননি। তথাপি স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। তিনি বাঙালির অনেক বছরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, সৃষ্টিতে সহায়তা করেছেন। এ জাতির জন্য একটি স্বাধীন ভূখ- উপহার দিয়েছেন। এজন্য বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক অনন্তকাল বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী থাকবে। অথচ এ স্বাধীন দেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন পরে হলেও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় খুনীদের শাস্তি হয়েছে। এতে বাঙালি জাতির বুকভাঙ্গা দীর্ঘদিনের দুঃখ বেদনার কিছুটা অবসান হলেও বিশ্ববাসীর কাছে জাতির পিতাকে হত্যার কলংকের তিলক আজীবন আমাদেরকে বহন করে যেতে হবে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ। দেশের মানুষের মন তিনি অতি সহজে পড়তে ও বুঝতে পারতেন। তাঁর প্রতিটি কথা উচ্চারিত হতো হৃদয় থেকে অতি সাবলীলভাবে। স্বাধীনতোত্তর দেশ পরিচালনায় বিভিন্ন সময় যে কথাগুলো উচ্চারিত হয়েছে তা যেন আজো প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু দু’একটি অমর বাণী পাঠকদের জ্ঞাতার্থে উদ্ধৃত করা হল।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ৩ জানুয়ারী ১৯৭৩ সালে বরগুনায় জনসভায় বলেন, “এদেশে এখনো কিছু সংখ্যক লোক, এত রক্ত যাওয়ার পরেও যে সম্পদ আমি ভিক্ষা করে আনি, বাংলার গরিবকে দেয়ার জন্য পাঠাই, তার থেকে কিছু অংশ চুরি করে খায়। এদের জিহ্বা যে কত বড়, সে কথা কল্পনা করতে আমি শিহরিয়া উঠি। এই চোরের দল বাংলার মাটিতে খতম না হলে কিছুই করা যাবে না। আমি যা আনব এই চোরের দল খাইয়া শেষ করে দেবে। এই চোরের দলকে বাংলার মাটিতে শেষ করতে হবে”।
সরকারী কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ১৫ জানুয়ারী ১৯৭৫ এর পুলিশ সপ্তাহ ও বার্ষিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে বলেন, “সমস্ত সরকারী কর্মচারীদের আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে, তাদের সেবা করুন। যাদের অর্থে আজকে আমরা চলছি, তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে আপনারা অবশ্যই তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একটা নিরাপরাধ লোকের ওপরও যেন অত্যাচার না হয়। তাতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁেপ উঠবে। আপনারা যদি অত্যাচার করেন, শেষ পর্যন্ত আমাকেও আল্লাহর কাছে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কারণ আমি আপনাদের জাতির পিতা, আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনাদের নেতা”।
বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক দর্শন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। তাঁর “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” ও “কারাগারের রোচনামচা” পড়লে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি বলতেন “রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে যদি এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি সুনিশ্চিত না হয়”। ৭ মার্চ ১৯৭১ ভাষণে এটা আরো সুস্পষ্ট। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাগুলোকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সরকার ২০২০ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। আশা করি বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকীতে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দল-মত-নির্বিশেষে সকলের সার্বিক সহযোগিতা যা বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছেন।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন ও অহংকার। তাই আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে যে কোন নীতিমালা মুক্তিযুদ্ধের আলোকে হওয়া উচিত। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে বুঝি, সামরিক ও বেসামরিক, স্বৈরতান্ত্রিক, আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর ধ্বসাবশেষের উপর সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারসহ মৌলিক চাহিদাগুলো সুনিশ্চিত হবে। যদি কোন রাষ্ট্রে ব্যক্তির গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়, সেখানে গণতন্ত্র গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়। তবে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজও আবশ্যক।
বস্তুতঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ সমতার দর্শনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। লেনিনের ভাষায়, “সমতার গণতন্ত্র (ফবসড়পৎধপু সবধহং বয়ঁধষরঃু) দর্শনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত। চীনে তে, শিয়াং পেং এর নেতৃত্বে, “সমাজতান্ত্রিক কাঠামোয় বাজার অর্থনীতি (সধৎশবঃ বপড়হড়সু রিঃযরহ ংড়পরধষরংঃ ভৎধসবড়িৎশ)” প্রচলন করা হয়েছে। তবে কি পরিস্থিতিতে, কেন করা হয়েছে সেটা আমাদের গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে। পুঁজিবাদের উপর ভিত্তি করে যে অর্থনৈতিক নীতিমালা ইতিমধ্যে প্রণীত হয়েছে তা বাংলাদেশে বেকার সমস্যার সমাধানে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি বরং এতে দেশে বেকারসহ হত-দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এবং ধনী গরীবের বৈষম্যের মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে অনেকটা সাংঘর্ষিক।
আমাদের মনে রাখতে হবে সংবিধান অনুযায়ী জনগণই রাষ্ট্রের মালিক এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সংরক্ষণের একমাত্র ধারক-বাহক। বিশ্বায়নের এ যুগে অপার সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে সর্বক্ষেত্রে আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে-এতে বঙ্গবন্ধুসহ ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মা এবং মুক্তিযোদ্ধারা শান্তি পাবে। আমার মতো সমগ্র দেশবাসী সেদিনের অপেক্ষায় থাকবে, যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হবে, যেদিন আমাদের সংবিধানে একটি ধারা সংযোজিত হবে, “ডড়ৎশ রিষষ পড়হংরফবৎবফ ধং সধঃঃবৎ ড়ভ যড়হড়ঁৎ ভড়ৎ বাবৎু ধনষব পরঃরুবহ ড়হ ঃযব ঢ়ৎরহপরঢ়ষব ঃযধঃ যব যিড় রিষষ হড়ঃ ড়িৎশ ংযধষষ হড়ঃ বধঃ”
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুসহ তার বিশ্বস্ত ৪ সহকর্মী জাতীয় নেতা সকলেই শহীদ হয়েছেন সত্য; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া নিরন্তর প্রবাহিত ধারণাটি স্বাধীনতা এবং বাঙালির সেক্যুলার অস্তিত্বের শত্রুপক্ষ আজো ধ্বংস করতে পারেনি। তাঁরা একের পর এক হত্যাকান্ড চালিয়ে স্বাধীনতার মূল স্তম্ভগুলোকে ভেঙে ফেলে বাংলাদেশকে আবারো “পাকিস্তান” বা “তালেবান” রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল। সাময়িক সাফল্যও অর্জন করেছিল তাঁরা। কিন্তু চূড়ান্ত সংগ্রামে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা স্বাধীনতার মিত্রের মুখোশ ধারণ করে পুনরায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল ও জনগণকে আগামীতে আরো সতর্ক থাকতে হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের সংগ্রামী মানবগোষ্ঠীর অনেক ভুল-ত্রুটি, উত্থান-পতন, জয়-পরাজয়ও হয়েছে। তথাপি তাঁরা শত্রুপক্ষের দ্বারা তৈরি ভয়াবহ কিলিং ফিড অতিক্রম করে এখনো এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধু আরদ্ধ সাধনা সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাসহ এদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে। এ সংগ্রামে সারথী হিসেবে পেয়েছি আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যাঁর দূরদর্শী নেৃতত্বে বর্তমানে যে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে তা কোন শক্তি আর থামাতে পারবে না; জয় আমাদের হবেই-ইন্্শাআল্লাহ।
“বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ”-এ শব্দগুলো আজো মহান আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা। একজন বাঙালি হিসেবে আমি যখন বিশ্বের দিকে তাকাই, দেখতে পাই তিনিই-সেই মানুষ, যিনি আমাদের মর্যাদার আসনে পৌঁছে দিয়েছেন, একটি দেশের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তাই এবারের স্বাধীনতা দিবসে সবার কাছে অনুরোধ, “আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যে কেউই আসতে পারেন; কিন্তু কেউ যেন কখনো আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতের দেয়াল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি না নামান”।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলে গেছেন বহুদূরে, রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। আর কেউ বঙ্গবন্ধুও হতে পারবে না, তবে বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ছিল-আছে-থাকবে অনন্তকাল। পরিশেষে অন্নদাশংকর রায়ের কন্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই :
“যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান।
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”
দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

লেখক : প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি এবং ডিরেক্টর, বোর্ড অব ডিরেক্টরস্্, জীবন বীমা কর্পোরেশন। একাডেমিক এডভাইজার, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।

Share