নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম হেলথ পয়েন্ট হাসপাতালের পরিচালক কাজী মোদাচ্ছের আহমদ বেশ কয়েকটি স্টলে ঘুরে ফ্ল্যাটের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও ছিল। ফ্ল্যাটের অবস্থান, সাইজ ও দর-দাম জানতে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরছেন তিনি। তিনি বললেন, অনেকগুলো কোম্পানি একই ছাদের নিচে প্লট আর ফ্ল্যাট প্রদর্শন করছে। দেখে-শুনে সাধ ও সাধ্যের প্লট-ফ্ল্যাট কিনতে অনেক সহায়ক হবে। শুধু মোদাচ্ছের আহমদ নন, মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিতে মেলায় ছুটে আসছেন প্রচুর লোক। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে ওঠে আবাসন খাত নিয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব মেলা। তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে গত ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা। মেলায় বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি ছাড়াও নির্মাণসামগ্রী, ব্যাংক, গৃহসজ্জা কোম্পানির অনেক স্টল রয়েছে। রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, মেলায় পাঁচশ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি ৫ হাজার প্লট ও ২ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য প্রদর্শনী করেছে। ভালো সাড়াও মিলছে। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুবিধাও রয়েছে। অর্থলগ্নি

ব্যাংকগুলো ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার মেলায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য উপস্থাপন করেছে। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকদের চাহিদা বিবেচনা করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে আবাসন কোম্পানিগুলো।
র‌্যাংকস এফসি নিয়ে এসেছে সাতটি প্রকল্প। নাসিরাবাদ হাউজিং, খুলশী, মেহেদীবাগ ও এমএমআলী রোড এলাকায় রয়েছে প্রকল্পগুলো। প্রতিবর্গফুটের দাম ধরা হয়েছে আট হাজার থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা। অনেকটা উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার সার্ভিসেস অফিসার ইমতিয়াজ বাশার। তিনি বললেন, আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় শুধুমাত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস স্থাপনের জন্য অত্যাধুনিক একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠান স্পেস বুকিং দিয়েছে।
ফিলনে প্রোপাটিজ পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, খুলশী ও ২নং গেট এলাকায় চারটি প্রকল্পে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য প্রদর্শনী দিয়েছে। প্রস্তুতকৃত ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য অনেকেই বুকিং দিচ্ছেন বলে জানান কর্মকর্তারা। এপিক প্রোপার্টিজের জেলারেল ম্যানেজার (সেলস-মার্কেটিং) প্রকৌশলী ডিএম মাসুদুল হাসান জানান, চারটি নতুন প্রকল্প আনা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের অবস্থা চিন্তা করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্যানমার প্রোপার্টিজ, সিপিডিএল, শেঠ প্রোপার্টিজ, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট, এএনজেট প্রোপার্টিজ, এয়ারবেল টেকনোলজি, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ইকুইটিসহ বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি স্টল সাজিয়েছে। সবকটি স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি দেখা যায়।
এএনজেড প্রপার্টিজের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদুল হক জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০টি এপার্টমেন্ট নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে এএনেজেড। এর মধ্যে ঢাকায় ৬টি এবং চট্টগ্রামে ৪টি প্রকল্পে এপার্টমেন্ট ইউনিটের সংখ্যা শতাধিক। পূর্ব নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, হিলভিউ হাউজিং সোসাইটি এবং লালখান বাজার হিলপার্ক প্রকল্প রয়েছে। ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডী, বারিধারা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। ১৩৭২ স্কয়ার ফিট থেকে সর্বোচ্চ ২৭৩১ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত ফ্ল্যাট রয়েছে।
এসএস নুর কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান এসএম শহীদুল্লাহ রনি জানান, মুরাদপুর এলাকায় হাটহাজারী রুটে ১৭তলার একটি প্রকল্প রয়েছে। ১০ তলা পর্যন্ত একশ ফ্ল্যাট ও আড়াইশ দোকান রয়েছে। এছাড়াও আবাসন, শো-রুম ও অফিস স্পেস রয়েছে।
মেলায় আবাসন কোম্পানি ছাড়াও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান স্টল সাজিয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকের স্টলে গৃহঋণ ও আমার একাউন্ট নামের একটি নতুন প্রকল্পের বিষয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার কর্মকর্তা মনজুর আহমদ ও ফারহানা তাবাসছুম বলেন, আমার একাউন্টে অনেক সুবিধা রয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক হোমলোন বিষয়ে নানা তথ্য দিচ্ছেন কর্মকর্তা।
মেলায় রড ও গৃহসজ্জা সামগ্রী নিয়ে রয়েছে কয়েকটি স্টল। আধুনিক বিশ্বের উপযোগী ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে সেম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেম ইউপিভিসি লি. (ইউপিভিসি-আন প্লাস্টিসাইজড পলিভিনাইল ক্লোরাইড) দরজা ও জানালা তৈরি করছে। ২০১৪ সাল থেকে নিজস্ব কারখানা ঢাকা ও চট্টগ্রামে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এ পণ্য আগুন, তাপ ও শব্দ প্রতিরোধক। উন্নত বিশ্বে কাঠ ও এলুমিনিয়াম ফ্রেব্রিকেশনের বিকল্প হিসাবে ইউপিভিসি’র ব্যবহার বাড়ছে। তারই অংশ হিসেবে দেশে নির্মাণ শিল্পের নতুন সংযোজন সেম ইউপিভিসি দরজা ও জানালা। এলুমিনিয়াম বা কাঠের তুলনায় এটি টেকসই ও সাশ্রয়ী। সেম ইউপিভিসি ও অগ্নিনিরোধক, আগুন ছড়াতে পারে না। বড় অগ্নিকা- থেকে ভবনকে রক্ষা করে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের চার দিনব্যাপী এ আবাসন মেলার সমাপনী দিন আজ। এবারের মেলায় বিভিন্ন আবাসন কোম্পানিসহ সাতটি নির্মাণ ও ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৭৬টি স্টল রয়েছে।

Share
  • 18
    Shares