নিজস্ব প্রতিবেদক

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জানার শেষ নেই। পৃথিবীতে শুধু পাঁচটি মহাসাগর না ছয়টি মহাসাগর আছে। সেই একটি মহাসাগরের একজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিল্পের সব শাখায় আছেন রবীন্দ্রনাথ। নাটক, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, চিঠি, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন এক কথায় সাহিত্য বলতে রবীন্দ্রনাথকে বুঝায়। অভ্যূদয় সংগীত অঙ্গনের একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল

মান্নান কথাগুলো বলেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অভ্যূদয় সংগীত অঙ্গন। সংগঠনের সভাপতি প্রদ্যোৎ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সুমন বসাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান ও চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক রীতা দত্ত। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন মিলি চৌধুরী। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে অভ্যূদয় সংগীত অঙ্গনের শিক্ষার্থীরা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রণজিৎ রায়।
মো. আবদুল মান্নান আরো বলেন, বাংলাদেশে এমন একজনও মানুষ নেই যে রবীন্দ্রনাথের সব বই পড়েছেন। আসলে তা সম্ভবও না। যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, পাহাড় ততদিন থাকবে রবীন্দ্রনাথ।
অধ্যাপক রীতা দত্ত বলেন, গতকাল ছিল কবি ওবায়দুল হকের জন্মবার্ষিকী। তিনি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, বাংলার মানুষ রবীন্দ্রনাথকে আরো ভালো করে চিনেছে কবি ওবায়দুল হকের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ এক অবিস্মরণীয় প্রতিভার নাম। তিনি শুধু সাহিত্যিক না, তিনি ছিলেন সভ্যতার পরিবর্তক। তিনি গানের মাধ্যমে মুক্তি চেয়ে বলেছেন ‘ গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’। তাঁর কথা, গানের ভাষা বুঝতে হলে আগে তাঁকে জানতে হবে। তাঁর লেখায় ছিল হিংসাবিহীন মুক্তির আন্দোলন, গোঁড়ামি থেকে মুক্তির আন্দোলন, প্রতিহিংসা থেকে মুক্তির আন্দোলন। তাই আমাদের সন্তানদের উৎসাহিত করতে হবে রবীন্দ্রনাথের বই পড়তে। তিনি অভ্যূদয় সংগীত অঙ্গনের শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নিজেকে প্রকৃত শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার উপদেশ দেন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী ও ভারত থেকে আমন্ত্রিত রবীন্দ্র শিল্পী অভিজিৎ মজুমদার।

Share