নীড়পাতা » প্রথম পাতা » হালদা প্রকল্পের কাজ স্থগিত, রিভিউ চলছে

২০ মার্চ থেকে নদীতে ড্রেজার চলাচল বন্ধ

হালদা প্রকল্পের কাজ স্থগিত, রিভিউ চলছে

মোহাম্মদ আলী

হালদা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করে এটির পুনরায় রিভিউ করছে মন্ত্রণালয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া প্রফেলারের আঘাতে মা মাছের মৃত্যুর কারণে ২০ মার্চ থেকে নদীতে বন্ধ করা হচ্ছে ড্রেজার চলাচল। প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের জন্য নদীতে এসব ড্রেজার ব্যবহার করা হয়।
এদিকে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নদীর গুরুত্বপূর্ণ কুম ভরাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিম সংগ্রহকারীরা।
কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারী অভিযোগে বলেন, হালদা প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর বাঁকে ভাঙ্গনরোধে ব্লক দেওয়া হচ্ছে। এতে বাঁকে বিপুল পরিমাণের বালির বস্তা ফেলা হয়েছে। অথচ এসব বাঁকে রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) অবস্থান ও প্রজননের সময় ডিম ছাড়ে। কিন্তু বাঁক ভরাটের কারণে এবার মা মাছ সমস্যা পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নকালে হালদার ব্রিডিং গ্রাউন্ডের ৯টি কুমের মধ্যে ৭টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালিভর্তি বস্তা ফেলার কারণে কুম ভরাট হয়েছে। অথচ এসব কুমে রুই জাতীয় মা মাছ অবস্থান করে এবং ডিম দেওয়া মওসুমে ডিম ছাড়ে। তাছাড়া আগামী কিছু দিনের মধ্যে নদীতে ডিম ছাড়বে রুই জাতীয় মাছ। নদীতে এখন মাছের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থায় নদীতে ড্রেজার চলাচল করলে মা মাছ প্রফেলারের আঘাতে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগেও নদী থেকে দুইটি মৃত মাছ পাওয়া গেছে। পরে এগুলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার্স রিচার্স ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সুতরাং প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এসব বিষয় মাথায় রাখা দরকার।’
মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ‘হালদার চলমান সমস্যা নিয়ে আমি গত বৃহস্পতিবার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, চলমান প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি আরো রিভিউ’র মাধ্যমে হালদাবান্ধব করে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া প্রজনন মওসুমের কারণে নদীতে ড্রেজার চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।’
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রকল্পটি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আমার আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, নদীতে রুই জাতীয় মাছে প্রজননের সময় আসন্ন। এখন নদীতে মাছের বিচরণ বেড়েছে। এ অবস্থায় নদীতে ড্রেজার চলাচল করলে মা মাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বেশি। তাই ড্রেজারের মাধ্যমে প্রকল্পের যেসব কাজ হয় তা ২০ মার্চের মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘হালদা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ২১২ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ মৎস্য প্রজনন ও বর্ষার জন্য ৬ মাস বন্ধ থাকবে। আপাতত ড্রেজার নিয়ে যেসব কাজ থাকবে তা বন্ধ রাখা হবে।’

Share
  • 21
    Shares