নীড়পাতা » প্রথম পাতা » মাত্র পাঁচ মিনিটের ‘বিলম্বে’ বাঁচলেন তামিম-মুশফিকরা

নিরাপত্তাই ছিল না টাইগারদের : আজ ফিরছেন

মাত্র পাঁচ মিনিটের ‘বিলম্বে’ বাঁচলেন তামিম-মুশফিকরা

স্পোর্টস ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামালার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। হতচকিত ও বিহ্বল ক্রিকেটাররা আজ নিউজিল্যান্ড সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) বিমানে উঠবেন। তামিম-মুশফিকসহ ১৯ সদস্যের ক্রিকেটারদের বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে। কারণ, হামলার ঘটনার সাথে সাথেই কিউই বোর্ড ও বিসিবি মিলে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টটি বাতিল ঘোষণা করে। আজ ভোর থেকে শুরু হওয়ার সূচি থাকা তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগে গতকাল অনুশীলন শেষ করে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতে হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামের অদূরবর্তী মসজিদ আল নুরে যাচ্ছিলেন দলের খেলোয়াড়রা। মসজিদে প্রবেশ করতে যাবেন ঠিক এই সময় এক আহত মহিলার অনুরোধে তামিম-মুশফিকরা ঘটনা অনুধাবন করতে পেরে বাসেই আশ্রয় নেন। মুলত টেস্ট শুরুর আগের দিন অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুটা দেরি করে ফেলায় মসজিদে পৌছাতেও দেরি হয়ে যায় টাইগার সদস্যদের। আর এই ৫ থেকে ৬ মিনিটের বিলম্বের কারণেই প্রাণে বেঁচে গেছেন ভাগ্যবান টাইগাররা। মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে এক আহত মহিলা টাইগার সদস্যদের হামলার ঘটনার কথা জানালে সবাই আবার বাসেই আশ্রয় নেন। সেখানে অরক্ষিত অবস্থায় ১০-১৫ মিনিট কাটানোর পর পাশের একটি পার্ক দিয়ে প্রথমে মাঠে ও পরে ড্রেসিংরুম থেকে পুলিশ প্রহরায় হোটেলে ফিরে যান তামিমরা।
সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট সদস্যরা বেঁচে ফিরলেও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সন্ত্রাসী হামলায়। বিস্ময়কর শোনালেও সত্য বাংলাদেশ দলকে বহনকারী বাসটি যখন মসজিদের সামনে পৌছায় তখন সেখানে বা কাছে পিঠে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় নিউজিল্যান্ডের কোন বাহিনীই ছিল না, ছিল না লিঁয়াজো অফিসারও। অথচ কয়েকটি জঙ্গি হামলার কারণে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। সর্বোচ্চ স্তরের ভিভিআইপি এমনকি প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। ২০১৬ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পর্যন্ত অংশ নিতে আসেনি অসিরা। নিউজিল্যান্ডও অনেক গড়িমসির পর সেই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। বিপরীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাইরের কোনো দেশে সফর করতে গেলে তাদের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়, তা রীতিমত বিস্ময়কর। নামকাওয়াস্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই নেয়া হয় না ক্রিকেটারদের জন্য। সেটা যে কতটা সত্য, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জঙ্গি হামলার পর। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় বাংলাদেশ দল দেশের বাইরে সফর করতে যায়, এ বিষয়টা হয়তো আগে জানা ছিল না কারো। এবার ক্রাইস্টচার্চ ঘটনায় এ বিষয়টা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে আসলো সবার সামনে এবং চারদিক থেকেই সমালোচনা তৈরি হয়েছে, কেন ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিসিবিও তাদের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে কথা বলে না। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না? এসব বিষয় নিয়ে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে তিনি এর উত্তর দিয়েছেন এবং এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে যাতে বাংলাদেশ দলের আর কোনো সফর এমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনুষ্ঠিত না হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলেছিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’ অর্থ্যাৎ, বিসিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তামিম-মুশফিক-রিয়াদদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক কাজ করছে। গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় বাংলাদেশ দল টিম হোটেলে অবস্থান করছিলো বলে জানান বিসিবি সভাপতি। ভক্তরা আশা করছেন টাইগার সদস্যরা আজ মধ্যরাতের কিছু আগে সুস্থ্য ও প্রানবন্ত অবস্থাতেই দেশের মাটি স্পর্শ করবেন।

Share