নিজস্ব প্রতিবেদক

বীমা কোম্পানিগুলোকে ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্য বীমা চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল শুক্রবার নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে বীমা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমি যখন ইউরোপে পড়তে যাই তখন সর্বপ্রথম আমার দুটি কাজ করতে হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ব্যাংক একাউন্ট ও অপরটি স্বাস্থ্য বীমা। তাছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতে প্রত্যেকটি মানুষের স্বাস্থ্য বীমা করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাস্থ্য বীমা যা আছে তা কোনো শতাংশের মধ্যে পড়ে না। তবে কোনো কোনো কোম্পানি স্বাস্থ্য বীমা চালু করলেও তা খুব সীমিত আকারে। এখন মধ্যবিত্ত বা নিম্মবিত্ত কোনো মানুষ অসুস্থ হলে সর্বস্বান্ত হতে দেখা যায়। একটু ভালো চিকিৎসার জন্য এসব মানুষদের বাড়ি বন্ধক থেকে শুরু করে জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। এছাড়া আইসিইউতে ভর্তি হতে হলেতো কথাই ইেন। কারণ তখন ৪ থেকে ৫ দিনের চিকিৎসা খরচ মেটাতে হয় কয়েক লাখ টাকা। তাই বীমা কোম্পানিগুলোকে স্বাস্থ্য বীমা চালু করার অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতালের জন্য করুন। ধীরে ধীরে এ স্বাস্থ্য বীমা ব্যাপক আকারে চালু করুন। বীমার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বীমার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। ৭৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে দু-চারটার জন্য বা কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পুরো সেক্টরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ুক সেটাতো হতে পারে না। শুধু বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নয়, আপনারা যারা বীমা কোম্পানির সাথে যুক্ত আছেন তাদের অনুরোধ করবো যাতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে আপনারা কাজ করবেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বড় ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে খুব বেশি হয়রানি হয় না, কারণ বড় ক্ষতিপূরণ দাবি করে বড় কোম্পানিগুলো বা শক্তিশালী ব্যক্তিবর্গরা। কিন্তু ছোট ক্ষতিপূরণের সময় দেখা যায়, অনেক ঘুরতে হয়। এটি যাতে না হয়। এ লক্ষ্যে দয়া করে আপনারা কাজ করবেন। যাতে আস্থার সংকট দূর হয়।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বীমা খাতে প্রিমিয়াম আদায় ছিল এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটু বেশি। আর সেটি ২০১৭ সালে ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটা ভালো দিক। কিন্তু এখনো জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান হচ্ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর ভারতের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান হচ্ছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে সেটি অন্তত ১০ শতাংশ। ভারত থেকেও আমরা ৫ গুণ পিছিয়ে আছি। তাহলে এই ক্ষেত্রে আরো অনেক কাজ করা প্রয়োজন।
তাছাড়া বীমা সম্পর্কে জনসাধারণের সংশয় রয়েছে প্রয়োজন আছে সচেতনতারও। কারণ এই দুটি কারণে বীমা খাতে ভারতের পর্যায়ে আমরা যেতে পারিনি। এজন্য এই সংশয়গুলো দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে আরো কাজ করতে হবে। তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা ভারতকে অতিক্রম করতে পারবো ।
তিনি বলেন, শিল্পখাত এখন কৃষিখাতকে ছাড়িয়ে গেছে। কারখানার জন্য বীমা হয়, শ্রমিকের জন্য গ্রুপ বীমা হয় না। তাই এখনো শ্রমিকরা আহত, অঙ্গহানি ও নিহত হলে দানশীল বা মালিকদের বদান্যতার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই শ্রমিকদেরও বীমার আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জীবন বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা আফরোজ ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
সেলিনা আফরোজা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বীমা করা বাধ্যতামূলক করা হলেও তারা বীমা করতে চাননা। শীঘ্রই ১৯ লাখ সরকারি কর্মকর্তাকে বীমার আওতায় আনা হবে। বীমা না করে কোনো প্রবাসীকে বিদেশ যেতে দেওয়া হবে না। এনজিওরা যে বীমা করছে তা বীমা কোম্পানির আওতায় আনা উচিত। কোটি টাকা দামের গাড়ির বীমা করা থাকে, কিন্তু যিনি চালান তার বীমা করা হবে না কেন? পৃথিবীতে এমন কোনো কোম্পানি নেই যারা গ্রাহকের দীর্ঘায়ু কামনা করে। শুধুমাত্র আমরা বীমা কর্মীরা গ্রাহকের দীর্ঘায়ু কামনা করি।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বীমা নিয়ে মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই। মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় এ ব্যাপারে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ এ খাতে কোটি মানুষ জড়িত। গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি মেলা আয়োজন করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। মানুষ এসব মেলায় এসে নানা বিষয়ে নতুন ভাবে জানতে পারে।
এদিকে মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে বিএনপি নেতারা যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন এতে বোঝা যায় যে তারা আবারো তাদের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির দিকে এগোচ্ছে। ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে তারা সাময়িক বিরতি দিলেও সুযোগ পেলে আবার জনগণের ওপর ছোবল মারবে। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের আর সেই সুযোগ দেবে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কিছু ভুল-ত্রুটিও ছিলো যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। তবে যারা নির্বাচন সুষ্ঠ হয়নি বলে অভিযোগ করছে তারা নিজেরাই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাাণিত হয় যে সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বাদে ভালো নির্বাচন হয়েছে।

Share
  • 4
    Shares