পূর্বকোণ ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে অন্তত দুই সন্ত্রাসীর বর্বরোচিত হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে ঢাকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। আহত হয়েছেন আরও ৪৯ জন। এদের মধ্যেও একাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তবে হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ^ নেতৃবৃন্দ এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এবং আরেকটি স্থানে এ হামলা হয়।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডডার্ন প্রথমে ৪০ জনের প্রাণহানির কথা জানান। পরে স্থানীয় পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, এই ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আল নূর মসজিদে প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন। আর লিনউড মসজিদে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে ‘দেশের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলির মধ্যে’ একটি বলে অভিহিত করেছেন।
এই ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের পাশের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নামাজ শুরুর ঠিক ১০ মিনিট পর অন্তত দুই বন্দুকধারী দু’টি মসজিদে গিয়ে সেজদারত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এরপর তারা জানালার কাচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যায়। উভয় মসজিদেই ৩শ’ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারী দু’জন সামরিক পোশাক পরে মসজিদ দু’টিতে ঢোকে। এরপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তাক করে নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। একজন হামলাকারী তার মাথায় ক্যামেরা স্থাপন করে তা লাইভস্ট্রিম করে। হামলার ভয়াবহতা ভিডিও গেমসের চেয়েও বর্বরোচিত মনে হয়েছে অনেকের কাছে।
এক হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত এই হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের মৌলবাদী মানসিকতার লোক ছিল বলে জানা গেছে। তবে হামলার ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মসজিদের কাছেই মাঠে অনুশীলন করছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অনুশীলন শেষে তারা মসজিদটিতে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। খেলোয়াড়রা সেখানে গিয়ে শুনতে পান মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মাঠের দিকে চলে যান। সেসময় তাদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা প্রহরা ছিল না।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার (১৬ মার্চ ) বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে হামলার কারণে সে ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।
হামলার পর টুইটার বার্তায় নিজেদের নিরাপদ থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।
এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, গুলিতে বেশ কয়েকজন সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলার পর ক্রাইস্টচার্চে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্ত মসজিদ দু’টিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে সেখানে সেখানে প্রবেশ না করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের সব স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Share
  • 1
    Share