জিএসপি সুবিধা বাতিল ও ফিরে পাওয়া নিয়ে দেশের ভেতরে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র জানায়, কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের সংগঠন করার সুযোগসহ ১৬টি শর্ত পূরণ হলে জিএসপি সুবিধা ফেরত দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন বার্তায় শর্ত পূরণে তৎপর হয় সরকার। পূরণ করা হয় একে একে সব শর্ত। কিন্তু স্থগিতের পর সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময়েও জিএসপি সুবিধা ফিরে পায়নি বাংলাদেশ।
শর্ত পূরণের পরও জিএসপি সুবিধা ফিরে না পাওয়ায় গত বছরের আগস্টে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা আর জিএসপি সুবিধা চাই না। কাজেই এ নিয়ে আমরা কোনো আবেদন করব না। এছাড়া আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছি। এটি যখন হবে তখন আমরা এমনিতেই জিএসপি সুবিধা পাব না। কাজেই জিএসপি নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’
তোফায়েল আহমেদের ওই মন্তব্যের পর গত পাঁচ মাসে অনেকটাই আড়ালে চলে যায় জিএসপি ইস্যু। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী টিপু মুনশি আবারও বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। সোনারগাঁ হোটেলে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বাণিজমন্ত্রী জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সহায়তা চান।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে টিপু মুনশি বলেন, জিএসপি আমাদের ইমেজের সঙ্গে জড়িত। জিএসপি স্থগিত হওয়ায় আমরা ইমেজ সংকটে আছি। আমি খুবই আশাবাদী ভবিষ্যতে বিষয়টির সমাধান হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু রপ্তানির কথা চিন্তা করলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিএসপি আমাদের জন্য তেমন কিছু নয়। তবে এর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং জড়িত। আমরা এখন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, এখানে তৈরি পোকের বাইরে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হবে। সেগুলোতে জিএসপি সুবিধা পেলে আমরা অনেক শুল্কমুক্ত সুবিধা ইউএস’র বাজারে পেতে পারি। সুতরাং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং, ভবিষ্যত রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে জিএসপি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত। সে সঙ্গে তাদের ১৬টি শতের বিপরীতে আমরা কী কী করেছি তা দেখা উচিত এবং তাদের যদি কোনো বিষয়ে অবজারভেশন থাকে সেগুলো পূরণ করার দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, জিএসপি নিয়ে অতীতে কী হয়েছে সেই প্রসঙ্গ না টেনে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। জিএসপি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভবিষ্যতে যাতে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাকের বাইরে রফতানি বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টিকফাতেও আমাদের এ প্রসঙ্গ তোলা উচিত।
২০১৩ সালে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত হলেও এ পদক্ষেপের জন্য ২০০৭ সালে দাবি জানায় আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এন্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও)। তখন থেকেই শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তাজনিত শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে সংগঠনটি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের দাবি করে।

Share