নীড়পাতা » শেষের পাতা » বঙ্গবন্ধু মুক্তিকামী মানুষের শৃঙ্খল মোচনের প্রেরণাদীপ্ত অগ্নিশলাকা

শততম জন্মদিন উৎসব উদ্বোধনীতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

বঙ্গবন্ধু মুক্তিকামী মানুষের শৃঙ্খল মোচনের প্রেরণাদীপ্ত অগ্নিশলাকা

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাঙালি ও বাংলাদেশের নন, তিনি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের শৃঙ্খল মোচনের প্রেরণাদীপ্ত অগ্নিশলাকা। এই আগুনের পরশমণিতে অন্ধকার চূর্ণ হয়, তাই তিনি আলোর ফুল। তিনি আরো বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে তারা মানবসভ্যতার ইতিহাসকেই অস্বীকার করে। আজ প্রমাণিত হয়েছে যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চেয়েছিল তাদের নামই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি গতকাল (শুক্রবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালনোপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের রাখাল রাজা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বাঙালির ৩ হাজার বছরের ইতিহাসে বার বার ভিনদেশি শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর হাতে নিগৃহীত, শোষিত ও নিপীড়িত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিল না। আমরা নবাব সিরাজদ্দৌলাকে বাংলার শেষ নবাব বললেও তিনি বাঙালি ছিলেন না, তাঁর মাতৃভাষা ছিল পশতু। পাল, সেন ও গুপ্তরাও বাঙালি ছিলেন না, এরা বাঙালিকে নানাভাবে অবদমিত করেছে। এই কালো অধ্যায়ের অবসান রচনা করে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই

আমাদের স্বাধীনতার আস্বাদন দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাঙালি আজ গর্বিত জাতি। আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাই বাংলাদেশ আজ গরীব রাষ্ট্র নয়। উন্নয়নের মহাসড়কে উত্তীর্ণ হয়ে শেখ হাসিনা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এ অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ প্রতিরোধের ব্যারিট তৈরি করতে হবে।
সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে শুধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রই উপহার দেননি, তিনি সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানবিকসত্তাকে জাগ্রত করার প্রণোদনা দিয়ে গেছেন। তাই তিনি মানব থেকে মহামানবে পরিণত হয়ে হিমালয় সমউচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়নে অসম্ভবকে সম্ভব করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্তির সংগ্রামে দৃপ্তপথে এগিয়ে যাচ্ছেন মৃত্যুভয়কে জয় করে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক তানভীরুল নাহিদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদ্যাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. খোরশেদ আলম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদ, মীরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ.এম. সোহেল, ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম, প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়–য়া এফআইইবি, জেলা শিশু একাডেমির শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস সুতলানা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অনুপ বিশ্বাস, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল প্রমুখ।
শেষে শিশুদের নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।-বিজ্ঞপ্তি

Share