শারূদ নিজাম

আজ সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে কিছু লোক অবাধ্য লালসায়, অদম্য কুপ্ররোচনায়, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে ধরাকে সরা, ঘরকে বাজার, পবিত্র স্থানকে কলুষিত করছে। কোষাগারে কোন টাকা দিতে যাবেন ট্রেজারী চালান যত না তার ডাবল অফিস খরচ, পণ্য ক্রয় করবেন ভ্যাট নিচ্ছে চালান ছাড়া, কর্তৃপক্ষ বেমালুম নিরীহদের উপর খড়গ চালান। সেবক যারা তাদের কাছে যাবেন তো জরুরী সাহায্য না করে আবার অযথা হয়রানি। কোর্টে যাবেন একযুগেরও বেশী সময় ধরে চলে আসা মামলার কোন সুরাহা নাই। ডাক্তারখানায় যাবেন ফিস ১২০০ টাকা নিয়ে কোন ঔষধ লিখবে না। লম্বা একটা লিস্ট ধরিয়ে দিবে হাবিযাবি টেস্টের। সরকারী স্কুলে যাবেন ভর্তি নিয়ে লটারীর নামে নতুন এক প্রহসন। সরকারী ব্যাংকে যাবেন উপরের ঠেলা আর বামহাতের অভ্যেস ছাড়া কোন কাজ হবে না। একজনের বসার জায়গায় নয়জন বসে কাজ করে।
সাপ্লাই, কন্ট্রাক্টরী করবেন ১০০/=টাকার কাজে ৩৫/৪০ টাকা দিতে হয় চেইন অফিসারদের খরচ বাবদ। তা আবার এখন ডায়মন্ডবয়দেরও একটা ভাগ দিতে হয়। দুঃখের বিষয়! যাতনার সময়!! নাম যার “সমাজসেবা” তাদের আসলে কি সমাজের কল্যাণে কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না? এত বাণিজ্য কেন তাতে? কারা বাম হাতের কাজ সারে? কারা উর্ধতন অফিসারের নাম ভাঙ্গায়। এইতো গত এক বছরে ব্যবসায়ী সংগঠনের দুর্নীতি ও জালিয়াতী বিষয়ে গিয়েছি কয়েকবার সমাজসেবা অধিদপ্তর অফিসে। বড় এক কর্মকর্তা, গাড়ীতে আসা যাওয়া করেন। হরেক রকম দায়িত্বে থাকা ভদ্রলোক দায়িত্বভারে একদম বেসামাল। তিনবার গেলে একবার দেখা মেলে। বারবার বলেন উপরে আপনাদের কোন জ্যাক নেই, আমরাতো ঠেলায় আছি। আমাদের যেভাবে মহাশয়রা চালাচ্ছেন সেভাবে চলছি। কিছুক্ষণ থেমে বলতে শুরু করেন। আপনাদের কথা পুরোটা ঠিক। কিন্তু আপনার পক্ষে কিংবা সঠিক কাজ করতে গেলেই ট্রান্সফার কিংবা ওএসডি। ভাই এই বয়সে আর পাহাড়ী হতে মন চায় না। পারলে মন্ত্রী সচিবকে লাগান, কাজ হয়ে যাবে।
আমরা সাধারণ ভূখানাঙ্গা মানুষ। এই ছোট্ট জীবনের ছোট্ট পরিসরে কতইবা আর তথাকথিত উপরওয়ালার সাথে আমাদের সখ্য। সব উপরওয়ালার সবচেয়ে বড় উপরওয়ালার পানে আমরা হাত তুলে চেয়ে আছি, সু নজরের আশায়।

Share