নীড়পাতা » শেষের পাতা » হাটহাজারী ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনে ভেজাল ডিজেল

ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ ইউএনও’র

হাটহাজারী ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনে ভেজাল ডিজেল

নিজস্ব সংবাদদাতা , হাটহাজারী

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড শেরে বাংলা মাজার সংলগ্ন মেসার্স হাজি এম. ছিদ্দিক আহমদ সওদাগর ফিলিং স্টেশনে ভেজাল ডিজেল চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ পাম্পের ভেজাল ডিজেল ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ভেজাল ডিজেল বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ক্ষতিপূরণ আদায় করেন তিনি। সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী সদরের মেসার্স হাজি এম. ছিদ্দিক আহমদ সওদাগর ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ভেজাল ডিজেল

বিক্রির অভিযোগ আনেন দ্রুতযান সার্ভিসের মালিক আব্দুর রহিম মুন্নাসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিক ও চালক। তারা জানান, বুধবার রাতে এ পাম্প থেকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারীর দ্রুতযান সার্ভিসের ১১টি বাস-মিনিবাস ডিজেল কিনে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে এগারটি গাড়ি প্রতিদিনের মত চলাচলের সময় হঠাৎ সড়কে আটকে যায়। সব গাড়ির চালকরা একই অভিযোগ করে মালিকপক্ষকে। পরে গাড়ি থেকে রাতে নেয়া ডিজেল বের করে দেখা যায় সেগুলো ভেজাল। অভিযোগ নিয়ে বাস মালিকপক্ষ পাম্পে এসে দেখেন কর্তৃপক্ষ ভেজাল ডিজেলগুলো সরিয়ে নিয়ে বিষয়টি আড়াল করতে চাচ্ছেন। এসময় বাস মালিক-শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন পাম্প কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি পাম্প থেকে ভেজালের অভিযোগে চিহ্নিত ডিজেল জব্দ করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। বিকেলে ইউএনও উভয় পক্ষকে উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে তাদের সামনেই জব্দকৃত কয়েক রকম ডিজেল পরীক্ষা করে ভেজাল বলে চিহ্নিত করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাম্প মালিক আবু তাহের ছিদ্দিককে ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের নেয়া ডিজেলগুলো পাল্টে নতুন ডিজেল ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের নির্দেশ দেন। ডিজেলের কারণে যদি গাড়ি চালানোয় সমস্যা হয় তাহলে সার্ভিসিংয়ের পাশাপাশি গাড়ির মালিকপক্ষের আজকের সারাদিনের উপার্জনের ৫০% ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন।
ইউএনও রুহুল আমিন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, তেলের টাঙ্কি একই কিন্তু তেল পেলাম তিন রকম। পাম্পটির ডিজেল ভেজাল চিহ্নিত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাস মালিকপক্ষে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাম্প মালিক ডিজেল পাল্টে দিবেন। নতুন তেল নেয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতে সমস্যা করলে সার্ভিসিং করে দিবেন, পাশাপাশি আজকের (বৃহস্পতিবার) বসে থাকা গাড়িগুলোর সারাদিনের উপার্জনের ৫০% ক্ষতিপূরণ দিবে পাম্প মালিক। যদি পাম্প মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে উনার এনওসি বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেয়া হবে। পেট্রোল পাম্পে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনও জানান।

Share