নীড়পাতা » প্রথম পাতা » বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত

নাজিম মুহাম্মদ

ব্যাংকের ভল্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী থানার ওসি, র‌্যাবসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একটি সংকেত যাবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা চাইলেই ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারবেন যে ভল্ট কি নিজেরা খুলেছেন নাকি তাদের অজান্তে খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ ধরনের একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের কাছেই পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো সেই আদেশ মানছে না। ফলে ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগের মধ্যে আছে পুলিশ। এ অবস্থায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে সব ব্যাংক ব্যবস্থাপককে একটি এসএমএস পাঠানো হয়েছে। তাতে আগামী তিনদিনের সরকারি ছুটিতে ব্যাংকের যেকোনও ধরনের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (এসবি) মনজুর মোরশেদ এই এসএমএস পাঠান।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংককে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ব্যাংকের ভল্টসহ পুরো ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের একটি এ্যাপস ব্যবহার করতে হবে। ওই এ্যাপসে ব্যাংকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিকটবর্তী থানা, র‌্যাব অফিস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত থাকতে হবে। ব্যাংকের ভল্ট খোলার কিংবা ভল্টের আশেপাশে জীবন্ত কোনও কিছুর অস্থিত্ব ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ১০ জনের কাছে বার্তা যাবে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। এই কাজটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরই করতে হবে বল চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই চিঠি সম্পর্কে অনেকেই অবহিত নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, ভল্টের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) ও ক্যাশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এ ধরনের একটি এ্যাপস ব্যবহার করে থাকেন। তবে পুলিশকে সেখানে সংশ্লিষ্ট করা হয়নি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির ব্যাপারেও তিনি অবহিত নন বলে জানান।
তবে একটি বিদেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, আগে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করার সময় এই এ্যাপস ব্যবহারের কড়াকড়ি তিনি দেখেছেন। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে তার প্রচলন নেই। এ ব্যাপারে উপরমহল থেকেও তিনি কোনও ধরনের নির্দেশনা পাননি।
একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরাও বিষয়টি অবহিত নন।
নগরীর কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান, উদ্যোগটি বেশ ভালো। কোতোয়ালী এলাকার আওতায় প্রায় সবকটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। আমার কাছে থাকা সরকারি মুঠোফোনে দুটি ব্যাংক থেকে নিয়মিত এসএমএস আসে। তবে অধিকাংশ ব্যাংকের এসএমএস আসে না।
পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া বলেন, এ ধরনের এ্যাপস ব্যবহার করা গেলে ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ কিছুটা কমতো। কিন্তু কোনও ব্যাংক থেকে আমাদের কিছু বলা হয়নি।
সদরঘাট থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, তিনটি ব্যাংক থেকে আমার কাছে থাকা সরকারি নম্বরে নিয়মিত এসএমএস আসে। এতে উক্ত তিন ব্যাংকের ভল্ট কেউ খুললে আমি বুঝতে পারি। দিনের বেলা ভল্ট খুললে হয়তো আমরা ভাববো ব্যাংকের কর্মকর্তারাই সেটা করেছেন। কিন্তু রাতে কেউ যদি খুলে তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই চুরির ঘটনা হবে। এ ধরনের এ্যাপস ব্যবহার করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবস্থা নিতে পারবে। অধিকাংশ ব্যাংকের এসএমএস আসে না।
গত কয়েকদিনে চট্টগ্রামে একাধিক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। পুলিশ কয়েকটি গ্রুপকে এ ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ গত বুধবার নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয় যার সদস্যরা মাত্র ৬ সেকেন্ড সময় পেলেই যেকোনও ধরনের তালা খুলে ফেলতে পারে। নগরীতে এ ধরনের আরও কয়েকটি দল চুরি করছে বলে পুলিশ জানায়।

Share
  • 3
    Shares