জাহেদুল আলম, রাউজান

এখন শুষ্ক মৌসুমেও রাউজান পৌর সদরের মুন্সিরঘাটায় হাজার পথিককে পথ চলতে হয় আবর্জনায় ভরা দূষিত কাদা পানির মধ্য দিয়ে।
সদরের মুন্সিরঘাটা সংলগ্ন দাশপাড়া, পালিতপাড়া, শরীফপাড়ার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে শেষ ফাল্গুনের খরতাপেও এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
প্রায় প্রতিদিন দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে সয়লাব থাকে সংযোগ সড়কটি। তাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই।
দাশপাড়া-পালিতপাড়া সড়কের পাশে প্রায় ১৫ বছর আগে করা পৌরসভার ড্রেনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ময়লাযুক্ত পানি ড্রেন গড়িয়ে রাস্তা ডুবে যায়। গত ১২ মার্চ এ অবস্থা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত সোমবার রাত থেকে মুন্সিরঘাটা এলাকার একটি হোটেল, কলোনি, বাসাবাড়ির দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা, পানি, টয়লেটের মূলমূত্র ড্রেন দিয়ে ছাড়ায় দাশপাড়া-পালিতপাড়া সড়কটি ডুবে গেছে। এতে সকাল থেকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত ওই ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ দূরবর্তী বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘরে বাইরে যাতায়াত করেছে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় মুনাফালোভী বাড়ি মালিক, হোটেল মালিকদের ওপর বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার জনগণ। এলাকার বাসিন্দা মো. বেলাল, সুমন দাশ, দীপক দাশ, অমল দাশ, ডা. অরবিন্দু দাশসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপাড়া রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু হওয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে বিস্তৃত দাশপাড়া-পালিতপাড়া সংযোগ সড়কের পাশে যে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়, তা কোনসময় পৌরসভার কর্মীরা পরিষ্কার করেনি। আমরা নিজেরা মাঝেমধ্যে নিজেদের অর্থ খরচে পরিষ্কার করি। কিন্তু ড্রেনটির এখন বেহাল অবস্থা। এ ড্রেনে প্রতিদিন জামাল কলোনী, মুন্সিরঘাটার একটি হোটেল, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসিক ঘরগুলোর ময়লা আবর্জনা, উচ্ছিষ্ট পানি ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। আর রাত হলে টয়লেটের দুর্গন্ধযুক্ত মলমুত্রও এ ড্রেনে ছাড়া হচ্ছে। প্রতিদিন অতি মুনাফালোভীরা এ কাজ করছে। গত সোমবার রাতে এ অবস্থা আরো বেহাল হয়ে দাঁড়ায়। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দাশপাড়া-পালিতপাড়া সড়কের বড় একটি অংশ ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। সকালে শিশু শিক্ষার্থীদের সেই পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল করতে হয়েছে এদিক-সেদিক। অনেককে দূরবর্তী বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়েছে। তাছাড়া উৎকট গন্ধে নাকবন্ধ করেও যেন চলার উপায় নেই। এ কারণে মশার উৎপাতে দিনের বেলায়ও মশারি টাঙাতে হয়। রাস্তার পাশের বাসিন্দা মধ্যবয়সী চন্দনা দাশ বলেন, ‘ড্রেন, সড়ক পানিতে ভরপুর থাকায় দুর্গন্ধে ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। দিনরাত ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’ গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায় লাভনী ঘোষ নামের এক শিক্ষিকাকে দাশপাড়া-পালিতপাড়া রাস্তার পাশের একটি বাড়িতে টিউশনি করে বের হয়ে নিজের বাসায় ফিরতে হয়েছে বিকল্প সড়কপথে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও বার বার পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের মৌখিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ যাবৎ কোন কাজ হয়নি। দিন দিন এ সমস্যা বাড়ছে। মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। অথচ দাশপাড়া, পালিতপাড়া ও শরীফ পাড়ার কমপক্ষে দুই-তিন হাজার মানুষের চলাচলের পথ এ সড়কটি। পৌরসভা সদরের মুন্সিরঘাটা থেকে কয়েকশ ফুট দূরত্ব। অথচ এ অবস্থা। যেন বাতির নিচে অন্ধকার। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দেখেও যেন দেখছে না। তাদের ঘুম ভাঙছে না। এতে স্থানীয়দের মাঝে রোগবালাই ছড়াবার আশঙ্কাও আছে।

Share