স্পোর্টস ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাট করে ৬১ ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ ওভার। দুই ইনিংস মিলিয়ে টাইগারদের মোট ব্যাটিং করা ওভার ১১৭। দিনের হিসাবে সর্বোচ্চ সোয়া দিন। যার ফল হচ্ছে, বৃষ্টিতে দুদিনেরও বেশি সময় খেলা না হওয়ার পরও পৌনে একদিন হাতে রেখে ইনিংস হারের লজ্জা। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ৫২ রানে জয়ী স্বাগতিক কিউইরা দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে হারায় ইনিংস ও ১২ রানের ব্যবধানে। ফলে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিজেদের করে নেয় নিউজিল্যান্ড। আগামীকাল ভোরে দুই দেশের মধ্যে ক্রাইস্টচার্চে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ হারলে ওয়ানডে সিরিজের পর টেস্টেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুববে। সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে পঞ্চম সফরের গল্পটাও শেষ হবে আগের চার সফরের একই স্ক্রিপ্ট দিয়ে। পুরো সফরে ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি হতাশ করেছেন বোলাররাও। নিউজিল্যান্ডের পেস স্বর্গে স্বাগতিক পেসাররা যখন আগুন ঝরিয়েছেন, তখন বাংলাদেশের পেসারদের পানির মতোই সহজভাবে খেলেছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। তবে বোলারদের চরম দৈন্যদশার মাঝেও দ্বিতীয় টেস্টে কিছুটা আলো ছড়িয়েছেন আবু জায়েদ রাহী। তৃতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগে সেই আবু জায়েদ বলছেন, নিজের প্রতি আস্তে আস্তে বিশ্বাস বাড়ছে তারা। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাট করা এক ইনিংসে তিন উইকেট নেন রাহী। আট রানে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচের তৃতীয় দিন কিউইদের বেশ ভালো ধাক্কাই দিয়েছিলেন তিনি। রাহী মনে করেন, ওয়েলিংটন টেস্টে নিজের পারফরম্যান্স তাকে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার রসদ। গতকাল তিনি বলেন, ‘এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে। নিজের প্রতি বিশ্বাস জন্মেছে- আমি সুইং করাতে পারি; আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানরা এই বল খেলতে কষ্ট করতে হচ্ছে। নিজের প্রতি বিশ্বাস ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ মাত্র আড়াই দিন খেলেই ওয়েলিংটন টেস্ট হেরে যাওয়ার পেছনে দোষ দেওয়া হয় স্বাগতিকদের ম্যাচ জেতানো রস টেলরের দুটি ক্যাচ বাংলাদেশি ফিল্ডাররা হাতছাড়া করাকে। রাহীর বলেই সেই দুটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাদমান ইসলাম, যার অন্তত একটি ধরতে পারলে রাহীর বোলিং ফিগার আরও ভালো হতো। আর ম্যাচটাও হয়তো বাঁচাতে পারত বাংলাদেশ। তবে ক্যাচ মিসের বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার, ‘ক্যাচ যে কারোরই মিস হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। হয়ত এভাবেই দুটা ক্যাচ মিস হয়ে গেছে, যেটা কপালে ছিল না। ব্যাপারটাকে এরকমই নিই।’ একজন পেসার হিসেবে রাহী যে একজন পেসারকেই অনুসরণ করবেন এটা স্বাভাবিক। তবে কে সেই অনুসরণীয় পেসার? কথার ফাঁকে তার নামও জানিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ তারকা। জানান, ইংলিশ পেসার জেমস এন্ডারসনের বোলিং কিংবা বোলিং একশন অনুসরণ করেন তিনি। বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই, যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু করি, তখন থেকেই জেমস এন্ডারসনের বোলিং একশন অনুসরণ করি। তার বোলিংই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ।’ নিজের একটু ভালো করলেও দল ব্যর্থ হচ্ছে। এজন্য অবশ্য খারাপ লাগছে রাহীরও, ‘নিজের পারফরম্যান্স থেকে ভালো ফল আসাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল ভালো করলে আরও বেশি ভালো লাগতো।’ নিউজিল্যান্ড সফর থেকে তরুণরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে বেশি বেশি টেস্ট খেলা প্রয়োজন। রাহীর মুখে শোনা গেছে বেশি টেস্ট খেলার আক্ষেপের কথাও।

Share