নিজস্ব প্রতিবেদক

‘উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিন পার্বত্য জেলায় সেনা মোতায়েন থাকবে। সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে নির্বাচনী দায়িত্বে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আমরা কমিশনকে জানিয়েছি। এই ব্যাপারে শীঘ্রই পরিপত্র জারি হবে। যেহেতু ১৮ মার্চ নির্বাচন, এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।’ গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ৫ম উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম এসব কথা বলেন। কবিতা খানম পক্ষপাতমূলক আচরণ না করার নির্দেশনা দিয়ে আরো বলেন, ‘কোনো প্রলোভন যেন আপনাদের স্পর্শ না করে। প্রার্থীরা শুধু প্রার্থী হিসেবেই থাকবে। অন্য কোনো পরিচয়ে তারা যেন আপনাদের কাছে পরিচিত হতে না পারে। তাহলে পক্ষপাতমূলক আচরণের সুযোগ থাকবে না। প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। বাকি চারটি ধাপের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে করতে চাই।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন,

‘চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির ২ প্লাটুনের সাথে অতিরিক্ত ১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় গত সংসদ নির্বাচনের মত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের হতে দেয়া হবেনা। নির্বাচনকালীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিলাগালা থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলাসহ কক্সবাজার নির্বাচনের সময় পর্যটক না যেতে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে। সেখানে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবে।’
কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রথম ধাপের নির্বাচনে ২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ইসি শাস্তির আওতায় আনবে।’
সভায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা সভাপতিত্ব করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগের জেলা প্রশাসক, নির্বাচন কর্মকর্তা, র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Share