নিজস্ব প্রতিবেদক

কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ২০১৭ সালের এক হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কিডনি রোগে ১৫ হাজার ৩৩৬ জন লোকের মৃত্যু ঘটেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা হলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা থেকে রোগীরা সহজেই মুক্তি পেতে পারে। কিডনি রোগের চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রোটিনের আধিক্য বেশি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পরিমাণমত পানি পান করতে হবে এবং শাক সবজি বেশি খেতে হবে। বিশ^ কিডনি দিবস উপলক্ষে দৈনিক পূর্বকোণ আয়োজিত ‘বিশ্ব কিডনি দিবস প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক টকশোতে বিশেষজ্ঞ আলোচকগণ এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার পূর্বকোণ সেন্টারের স্টুডিও থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. প্রদীপ কুমার দত্তের সঞ্চালনায় টকশো-তে আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রফেসর অব নেফ্রোলজি ডা. দীপ্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি ইউনিটের প্রধান প্রফেসর ডা. এম এ কাশেম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. বাসনা মুহুরী ও ইনস্টিটিউট অব এপ্লাইড হেলথ সায়েন্সেস এর প্রিন্সিপাল এবং নেফ্রোলজি বিভাগের

প্রফেসর ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক।
পূর্বকোণ : কিডনি রোগ কি কি? এই রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞান সম্মত কি ব্যবস্থা আছে এবং বাংলাদেশে কোন কোন কিডনি রোগ বেশি হয়?
ডা. দীপ্তি চৌধুরী : কিডনি রোগ প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটা হচ্ছে একিউট কিডনি ইনজুরি এবং আরেকটি হচ্ছে ক্রনিক কিডনি ডিজিস। একিউট যে কিডনি ইনজুরি হয় সেটা হলো হঠাৎ করে কিডনি কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। এটার কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া। কারণ ডায়রিয়াতে অতিরিক্ত পানি এবং লবণ খরচ হয়ে কিডনি হঠাৎ করে অকেজো হয়ে যেতে পারে। এরপর অতিরিক্ত বমি হলে মানুষ যদি খেতে না পারে তাহলে লবণ এবং পানি শূণ্যতার কারণে হঠাৎ করে কিডনি অকেজো হয়ে যেতে পারে তারপর কোনো ড্রাগে যদি এলার্জি হয় তাহলেও কিডনি অকেজো হয়ে যেতে পারে।
কিডনি দিবসের তাৎপর্য হলো সুস্থ জীবন ধারায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনি স্ক্রিনিং অন্তর্ভুক্ত করা। প্রতিটি কিডনি রোগী যেন মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা (ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টারল নিয়ন্ত্রণ) এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ পায় প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য নীতিতে গরীব ও অনগ্রসর লোকের জন্য ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য যেন সাবসিডির ব্যবস্থা থাকে।
পূর্বকোণ : বাংলাদেশের বর্তমান কিডনি অবস্থার প্রেক্ষিতে পাঠকদের জন্য একটি তথ্য বহুল ডাটা তুলে ধরা হলো।
বিশ্বের ১৩ মিলিয়ন লোক ‘হঠাৎ কিডনি বিকল’ রোগে ভুগছেন এর ৮৫% লোক স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে। যার মধ্যে ১.৭ মিলিয়ন লোক প্রতি বছর মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছে ১৫ হাজার ৩৩৬ জন। যেকোন রোগে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যার মধ্যে এটা প্রায় ১.৯৫ পার্সেন্ট। প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় এই মৃত্যুর হার ১৪.০৪ এবং ২০১৭ সালের ৯৪ পার্সেন্ট মৃত্যুর কারণ কিডনি। বিশ্বে প্রতি বছর ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ২.৪ মিলিয়ন রোগী মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশে প্রায় ২০ মিলিয়ন কিডনি রোগী আছে। এর মধ্যে ৮ লাখ রোগীর ডায়ালাইসিস দরকার কিন্তু মাত্র ৩০ হাজার লোক ডায়ালাইসিস করতে পারে।
এছাড়া বিশ্বের জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ৭৫ বছর এবং এর বেশী বয়স্কদের অর্ধেক জনসংখ্যাই দীর্ঘ মেয়াদী কিডনী রোগে আক্রান্ত। ৬৫-৭৪ বছর বয়স্কদের প্রতি ৫ জনে ১ জন এবং প্রতি ৪ জনে ১ জন মহিলা দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রনিক কিডনি ফেইলুরের সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ৫১% ও মহিলা ৪৯%। আক্রান্তদের বয়স ৪৬-৫৫ এর মধ্যে। যার মধ্যে ডায়াবেটিস রোগী আক্রান্ত হয় ৩৯% ও হাই ব্লাড প্রেসার এর জন্য ২৪%।
শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়া , রক্ত দূষন, কিডনির নালী গুচ্ছে সংক্রমন, কিডনির সংক্রমন ও গর্ভকালিন কিডনি রোগ একুইট কিডনি ফেইলুর কিডনি রোগের কারণ।
কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট : বাংলাদেশে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয় প্রায় ১২০। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪০০ কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে। কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিএসএমএমইউতে খরচ হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ : শরীর ফোলা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন যেমন কোকাকোলার মত হওয়া ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের সময় কান্নাকাটি করা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, এক ধারায় প্রস্রাব না হওয়া, সর্দি কাশি ছাড়া ঘনঘন জ্বর হওয়া, রক্তস্বল্পতা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, উচ্চ রক্ত চাপ, মূত্র নালীর অস্বাভাবিক অবস্থান ও বয়স অনুসারে শারীরিক বৃদ্ধি না হওয়া।
দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগ সনাক্ত করার উপায় : অধিকাংশ দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগের কোন প্রারম্ভিক উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় না। কিডনির কার্যকারিতা শতকরা ৯০ ভাগ নষ্ট হবার পরই উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। প্রস্রাবে প্রোটিনের (আমিষ) পরিমাণ ও রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর খুব সাধারণ পরীক্ষা দিয়ে এটি নির্ণয় করা সম্ভব। এছাড়া উচ্চ রক্ত চাপ এবং ডায়াবেটিস বড়দের কিডনি রোগের প্রধান কারণ।
দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় : সুস্থ থাকুন, সক্ষম থাকুন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ¯¦া¯হ্যকর খাবার গ্রহণ করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ধূমপান পরিহার করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন, পাতের লবণকে না বলুন ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ পরিহার করুন।
পূর্বকোণ : কোন ধরনের খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকবো এবং কি ধরনের খাবার গ্রহণ করলে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো?
ডা. এম এ কাসেম: ‘জীবের যত মজা শরীরের তত সাজা’। কথাটির মানে হলো যত মজাদার খাবার খাবেন কিডনির তত ক্ষতি হবে। বিশেষ করে ‘প্রোটিন’ খাবার যেটার এন প্রোডাক্ট হবে ইউরিয়া নামক বস্তু, ক্রেটিন নামক বস্তু, ইউরিক এসিড নামক বস্তু। এগুলো হলো এসিড জাতীয় পদার্থ এগুলো কিডনি দিয়ে বের হয়। সুতরাং কিডনি যদি সুস্থ না থাকে এগুলো খেলে আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। আমার উপদেশ থাকবে যতটুকু পারা যায় ফ্রেশ খাবার খাওয়া এবং যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলো অর্ধেকে নিয়ে আসতে হবে। যেমন মাছ, মাংস, দুধ এবং ডিম জাতীয় খাবার কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি খাবারে কাচা লবণ খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া প্রটাসিয়াম রিচ খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
পূর্বকোণ : সুস্থ মানুষের কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন?
ডা. এম এ কাসেম: সুস্থ মানুষকে প্রতিদিন অবশ্যই ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে। তবে শরীরের কথা নির্ভর করে পানির পরিমান কমতে পারে। যেমন শরীর ফুলা থাকা এবং শরীরে পানি জমা থাকা, প্রস্রাব কম হওয়া।
পূর্বকোণ : শিশু কিডনি রোগের সংক্রামণ ও এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধ কি?
ডা. বাসনা মুহুরী : বর্তমানে কিডনিতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সত্যিই ভয়াবহ। মূলত সচেতনতার অভাবেই কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় হাসপাতালে আসা যত শিশু মারা যাচ্ছে তার এক ভাগ কিডনি রোগের কারণে। শিশুরা জন্মগত ভাবেও কিডনি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের কিডনি রোগগুলো প্রতিকার এবং প্রতিরোধ যোগ্য। কয়েকটি কিডনি রোগের মধ্যে একটি হলো একোয়েট গ্লোমালুরু নেফ্রাইটিস। এটা হলে শিশুদের মুখ ও শরীর ফুলে যায়, ঘন ঘন পস্রাব হয়, প্রস্রাবের রং বদলে যায়। কোন কারণ ছাড়াই এ রোগটি হতে পারে। এগুলো দেখলে অভিভাবককে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া বাচ্চাদের বয়স এক বছর হওয়ার পর থেকে বছরে একবার করে হলেও ব্লাড প্রেসার মাপাতে হবে।
পূর্বকোণ : দেশের কোন জায়গায় শিশুদের কিডনি রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়?
ডা. বাসনা মুহুরী : বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে শিশু কিডনি বিভাগ আছে। যেখানে কিডনির চিকিৎসার পাশাপাশি ট্রান্সপ্লান্টেশন হয়ে থাকে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ রোগীর ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে। ডায়ালাইসিস কিছু সংখ্যক হাসপাতালে হয়ে থাকে। নবগঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশুদের কিডনি রোগ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে
পূর্বকোণ : প্রাথমিক অবস্থায় কিভাবে কিডনি রোগ শনাক্ত করা যাবে। শনাক্ত করতে সরকার ও জনগণ ও চিকিৎসকদের সাহায্য করা যায় কিনা-একটু বলুন।
ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক : কিডনি রোগের প্রাথমিক ও প্রধান কারণ ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ। এছাড়া যাদের প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হয়, অতিরিক্ত ব্যথার ঔষধ গ্রহণ এবং বংশগত কিডনি রোগ থাকলেও এ রোগের ঝুঁকি থাকে। কোমরের উপরের অংশে ব্যথা এবং প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, পুঁজ যাওয়া বা জ¦ালাপোড়া হলে এবং জ¦র আসলে বুঝতে হবে তার কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে। এছাড়া বংশগতভাবেও এ রোগ হতে পারে।
পূর্বকোণ : যেকোন চাকরিতে ইন্টারভিউ দিতে শারীরিক পরীক্ষা করা এবং পার্সপোট বা জাতীয় পরিচয়পত্র করতে হলেও এমন পরীক্ষা করা দরকার। তাহলে অন্তত মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক : অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমি মনে করি আপনি যে কথাটি বলেছেন এতেই উত্তর রয়েছে। তারপরও আমি বলবো-সরকারি-বেসরকারিসহ সমস্ত চাকরির ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা বাধ্যতামুলক করে দেয়া হয়, তাহলে সচেতনতার পাশাপাশি এ রোগের আক্রান্তের সংখ্যাও কমে যাবে।
পূর্বকোণ : প্রবাসে যারা থাকেন তাদের বেশিরভাগ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
ডা. দীপ্তি চৌধুরী : বিদেশের বেশিরভাগ পানির মধ্যে খনিজ পদার্থ থাকে। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি। যার ফলে তাদের এস্ট্রোনের পরিমাণও বেশি হয়। প্রবাসীরা প্রায় সময় এস্ট্রোন নিয়েই দেশে আসে। তাই বিদেশে যারা থাকে-তাদের সবসময় বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে তিন লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
পূর্বকোণ : কারা কিডনি দিতে পারবে এবং দিলে কোন ক্ষতির দিক আছে কি?
ডা. দীপ্তি চৌধুরী : যাদের কিডনি সম্পূর্ণ ভাল এবং যাদের ব্লাড প্রেসার বা ডায়বেটিস নেই তাদের কিডনি নেয়া বা দেয়া যাবে। কিডনি নেয়ার ক্ষেত্রে ৬০ বছরের নিচের বয়সের হতে হবে। আর কিডনি দিতে কোন সমস্য নেই। একটি সুস্থ্য কিডনি নিয়ে জীবন ধারণ করা যায়।
পূর্বকোণ : কখন, কোন অবস্থায় ডায়ালাইসিসের জন্য পরামর্শ দিবেন এবং খরচের বিষয় বলবেন কি?
ডা. এম এ কাশেম : কিডনি যখন বিকল বা ছোট হয়ে যায়, তখন ডায়ালাইসিস অথবা ট্রান্সপ্লান্টেশন করতে হবে। যখন কোন ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকেনা তখন আমাদের দেশের রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন। তখন তাকে বাঁচানোর জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয়। অন্যদিকে, ডায়ালাইসিস অনেক ব্যয়-বহুল। এটা ব্যক্তিগতভাবে বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর। যার জন্য দেশের অনেক রোগীরা ২/৩ মাস গেলে আর ডায়ালাইসিস করতে পারে না। প্রতিমাসে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় এ খাতে। এর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার দরকার।
পূর্বকোণ : একজন দর্শক জানতে চেয়েছেন- চট্টগ্রামে কতজন শিশু কিডনি রোগী আছেন।
ডা. বাসনা মুহুরী : আমাদের দেশে কোন ন্যাশনাল ডাটা নেই। এটা বলা খুবই কঠিন। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে কিডনি বিভাগ চালু হওয়ার পর আমরা ইনডোর ও আউটডোরের একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় গতবছরে- শুধুমাত্র শিশু কিডনি রোগী ৫০৮ জন আউটডোর এবং ১৯০ জন ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই হিসেবে ধারণা করছি ৫-৭% শিশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
পূর্বকোণ : একজন দর্শক (ফেসবুকের মাধ্যমে) জানতে চেয়েছেন কি কি জিনিস খেলে কিডনি রোগ হবে না।
ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক : কিডনি আমাদের শরীরের একটি অঙ্গ। কিডনির কাজ হচ্ছে-রক্ত ছেকে সেখান থেকে প্রসাব তৈরি করা এবং শরীর থেকে সব বর্জ্য বের করে শরীরে মৌলিক পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা, ভিটামি ডি ও আমিষের বিপাক ঘটনো। যে সব খাদ্যে প্রোটিনের আধিক্য বেশি, সে খাবরগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সাথে পরিমাণমত পানি পান করতে হবে এবং শাক সবজি বেশি খেতে হবে। তা হলে এর থেকে বাঁচা যাবে।
কিডনি বিষয়ক টকশো’র ধারণকৃত লাইভ অনুষ্ঠানটি দেখতে ভিজিট করুণ পূর্বকোণ ফেসবুক পেজ (/উধরষু-চঁৎনড়শড়হব) ও ইউটিউব চ্যানেলে (উধরহরশ চঁৎনড়শড়হব) ।

Share
  • 194
    Shares