নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা অফিস

অনেক জায়গায় দেখি ক্লাস ওয়ানে ভর্তির জন্য ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। আমার প্রশ্ন, তারা সবকিছু শিখেই যদি স্কুলে যাবে, তাহলে স্কুলে গিয়ে কী শিখবে? এই প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবে শিখতে, তারাতো আগে থেকেই পড়ে আসবে না। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলবো, কোনমতেই যেন কোমলমতি শিশুদের কোনও অতিরিক্ত চাপ না দেয়া হয়। তাহলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। আর তাদের শিক্ষার ভীতটা শক্তভাবে তৈরি হবে। শিশুদের খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিক্ষাদানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুরা হাসি-খেলার মধ্য দিয়ে শিখবে। তাদের ওপর কোনো চাপ দেওয়া যাবে না। কিন্তু শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না থাকলেও অনেক মায়েদের ও বাবাদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। এটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর মেধা সমান থাকবে না, সবাই সমানভাবে শিখতে পারবে না। স্বাভাবিকভাবে যে যতটুকু শিখতে পারবে, ততটুকুর জন্যই তাকে সহযোগিতা করতে হবে যেন শিক্ষাকে আপন করে নিয়ে শিখতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকও চালু করেছি কিন্তু শিশুদের শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু অনেক দেশ আছে, যেখানে ৭ বছর বয়স থেকে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো হয়, তার আগে নয়। আসলে শিশুদের জন্য এমনভাবে পড়ালেখার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেন তারা খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে নিজের মতো করে শিখতে পারে। চাপ দিলে শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাবে, ভীতি তৈরি হবে। সেই ভীতি যেন শিশুদের মধ্যে তৈরি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুরোধ করব।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলেছি, ঢাকা হোক বা দেশের বাইরে যেকোনো জায়গায় হোক, সব জায়গাতে এলাকাভিত্তিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে হবে। এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও ভালোভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থায় শিশুর বয়স ৪-৫ বছর হয়ে গেলেই তাকে স্কুলে ভর্তি করে নিতে হবে। এই শিক্ষা তো তার অধিকার। অনেক উচ্চবিত্ত, বিত্তশালী আছে যারা সন্তানদের বিশেষ স্কুলে পড়াতে চান। তাদের কথা আলাদা। কিন্তু প্রতিটি শিশু যেন নিজ নিজ এলাকার স্কুলে সহজে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তাদের ওপর শিক্ষা নিয়ে কোনো মানসিক অত্যাচার করা যাবে না। হাসি-খেলার মধ্য দিয়ে তারা পড়বে। পড়ালেখাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
শিক্ষাকে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করতেই ডিজিটাল পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের যেন কেবল বই পড়েই শিখতে না হয়, তারা দেখেও শিখবে।

Share
  • 117
    Shares