নীড়পাতা » প্রথম পাতা » কর্ণফুলীর ১৭২ কি.মি. সমীক্ষার পরিকল্পনা

কর্ণফুলীর ১৭২ কি.মি. সমীক্ষার পরিকল্পনা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

কর্ণফুলী নদীর ১৭২ কিলোমিটার সমীক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী ভাঙন প্রতিরোধ, ড্রেজিং, পরিবেশ-প্রতিবেশগত প্রভাব, বনায়ন, বন সংরক্ষণ ও মৎস্য প্রজনন সংরক্ষণসহ নদী সংক্রান্ত সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কর্ণফুলীর নদীর বাংলাদেশের উৎপত্তিস্থল রাঙামাটির বারকল উপজেলার ঠেগামুখ থেকে পতেঙ্গার মোহনা পর্যন্ত এই সমীক্ষা পরিচালিত হবে। পুরো কর্ণফুলী মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে শাখা নদী ও খালগুলোর সমীক্ষা করা হবে। একইভাবে সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীতেও সমীক্ষা পরিচালিত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া পূর্বকোণকে বলেন, কর্ণফুলী নদীর বাংলাদেশ অংশের ১৭২ কিলোমিটার এলাকা এবং শাখা খালগুলো সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষার ভিত্তিতে নদী শাসন ও উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সরকার এখন বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়নের চেয়ে সমন্বিত ও দীর্ঘ মেয়াদি টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রী, সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর বোয়ালখালী ও রাউজান অংশে কর্ণফুলী নদী এবং খালের ভাঙনরোধে ৩৫১ কোটি টাকার ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছিল। নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও ড্রেজিং করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলার জন্য ৩১ কোটি টাকার পৃথক একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। একইভাবে রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙন প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়। এক বছর ধরে এসব প্রকল্প যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধানের কারণে ওই প্রকল্পগুলো এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, সমীক্ষায় নদী ও খালের ভাঙন প্রতিরোধ, ড্রেজিং, নদীর পরিবেশ-প্রতিবেশগত দিক চিহিৃত করে সমাধানের সুপারিশ করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রকল্প নেয়া হবে। কর্ণফুলী নদীর প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষার আগে নতুন কোন প্রকল্প প্রস্তাবনা আর পাঠানো হবে না। কর্ণফুলী নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও ড্রেজিংয়ের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়েল সভায় এসব প্রকল্পের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কর্ণফুলী নদী বেসিন প্রকল্প নামে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৭ কোটি টাকা করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ-১ এই সমীক্ষার কাজ সরাসরি তদারকি করবে। এই বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সামশাদ মাহমুদ ফাতিমা বলেন, আইডব্লিওএম, ঈছা বেলা ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সার্ভে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আগামী মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর ও সমীক্ষার কাজ শুরু করার আশা রয়েছে। এজন্য প্রায় ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
কর্ণফুলী ছাড়াও শাখা নদী হালদা, ঈছামতি এবং শিলক খালসহ নদী সংশ্লিষ্ট খালগুলোও সমীক্ষা করা হবে। অর্থাৎ নদীর পানি শাখা নদী ও খালের মাধ্যমে যতদূর বিস্তৃত হবে সেই এলাকা পর্যন্ত সমীক্ষায় করা হবে। তবে এই দুটির জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হবে।
একইভাবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীও সমীক্ষা করে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হবে।
প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, হালদা নদীর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকায় আদালাভাবে সমীক্ষার কথা ওঠেছিল। কিন্তু পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ না করে কর্ণফুলী প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে এক প্রকল্পের মাধ্যমে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, কর্ণফুলী নদী নিয়ে খসড়া মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে এই মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলীসহ ঢাকার আশপাশের নদীরগুলোর দখল-দূষণ ও নাব্যতা নিয়ে এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। মোহনা থেকে ২২ কিলোমিটার অংশ নিয়ে এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ওই অংশে নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।
কিন্তু একই অংশে নদী শাসনের উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিচালিত করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন, সমীক্ষার পর মাস্টারপ্ল্যানের অংশ বাদ দেয়া হতে পারে।

Share
  • 4
    Shares