নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » হালী মোস্তফা

হালী মোস্তফা

(১৯৪৭-২০০০) জন্ম বাগিচাগাঁও, কুমিল্লা, ২ জানুয়ারি ১৯৪৭। স্থপতি ও লেখক। প্রকৃত নাম মোস্তফা হারুন কুদ্দুস। মা আফিয়া খাতুন। পিতা মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস (১৯০৬-১৯৮৮)। পৈতৃক বাড়ি, নাসিরকোট, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। কুমিল্লায় আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস স্কুলে বিদ্যারম্ভ। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে মেট্রিক (১৯৬২), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (১৯৬৫) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্যবিদ্যায় প্রথমশ্রেনিতে ¯œাতক (১৯৭০)। নেদারল্যা-ের সামাজিকবিদ্যা ইনস্টিটিউট থেকে নগর ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে ¯œাতকোত্তর (১৯৭৬)। স্কুলজীবনে বয়ঃস্কাউটের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। কর্মজীবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী স্থপতি, বাংলাদেশ কনসাল্টেন্ট লিমিটেডের প্রকল্প স্থপতি এবং শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প স্থপতি। স্থাপত্যিক পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নে পারঙ্গম। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ইরাকের ব্যবিলনের শূন্য উদ্যান সংরক্ষণ ও পুনঃসংস্কার প্রকল্পে কাজ করেন (১৯৭৮)। ১৯৭৯-তে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান শহীদুল্লাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটস লিমিটেডে সিনিয়র স্থপতি হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮১-এ পরিচালক পদে উন্নীত। ১৯৮৭-এ বিয়ে করেন, স্ত্রী হাসিনা বানু। তাঁর স্থাপত্যকর্মের মধ্যে তৃতীয় কলা ভবন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭১); শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (১৯৭২), সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মিরপুর (১৯৭৪); খামারবাড়ির কৃষিভবন, মিলনায়তন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর নিবাস (১৯৯৫); চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবাস ও হাউজ টিউটর নিবাস (১৯৯৬); বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, (১৯৯৭); ঢাকা সেনানিবাসের সম্মেলন কেন্দ্র ভবন (১৯৯৬), বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির অনুষদ ভবন, ভিআইপি হোস্টেল ও বিশ্রামাগার; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ একাডেমিক ভবন, (১৯৯৮); জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অণুষদ ভবন (১৯৮৮); কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কুমিল্লা ক্লাব, নাসিরকোট স্মৃতিসৌধ উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ কাজে লুই আই কানের সহযোগী। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শিল্পচৈতন্যের চূড়ান্ত প্রকাশ। তিনটি ত্রিভুজ আকারের ইটের দেয়াল তিনরকম উচ্চতায় গতিশীলতা এবং বলিষ্ঠ উপস্থাপনায় শহীদদের আত্মত্যাগ ও সাহসের মূর্ত প্রতীক নিদের্শ করছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূলমঞ্চের মাঝখানে মার্বেল পাথরে খোদিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাংশের ব্যবহার : ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ লিখেছেন উপন্যাস, শিল্প-সমালোচনা, সমাজ-সংস্কৃতি ও স্থাপত্য বিষয়ক প্রবন্ধ, অনুবাদ, কবিতা ও কলাম রচনা। নির্বাচিত রচনার সঙ্কলন ‘হালী মোস্তফা রচনা-সংগ্রহ’ (২০০৭)। ‘ইত্তেহাদ’-এ ‘হালী মোস্তফার শেষ কলাম’ (১৯৮০-৮৪) প্রকাশিত। মৃত্যু. ঢাকা ২৬ অক্টোবর ২০০০।

Share