নিজস্ব প্রতিবেদক

ধার্য করা টাকা না দেয়ায় ফুটপাত থেকে মালবোঝাই ভ্যান আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের এক এসআই’র বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠা পুলিশ সদস্য হলেন নগরীর আগ্রাবাদ বিল্লাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিশোর মজুমদার। তিনি দীর্ঘদিন থেকে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন। এদিকে গাড়ি আটকের বিষয় স্বীকার করলেও টাকা

দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশ সদস্য জানান, তাকে হেনস্তা করার জন্যই এ ধরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
অভিযোগ ওঠে গত এক সপ্তাহ আগে নগরীর আগ্রাবাদ লাকী প্লাজার সামনে ফুটপাত থেকে ১২টি ভ্যান আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এসআই কিশোর মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে সে ভ্যানগুলোর মালিকদের ফাঁড়িতে ডেকে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলেও পরে তিন হাজার টাকায় দফা-রফা করেন তিনি। টাকা দিতে না দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গাড়ি মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানিও করেন কিশোর। তবে নিজ ব্যবসা চালিয়ে নিতে ধার্য করা টাকা দিয়ে আটক হওয়া পাঁচ ব্যবসায়ী গাড়ি ছাড়িয়ে নিলেও অন্যগাড়িগুলো এখনো ফাঁড়িতে পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পূর্বকোণকে বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ২০ টাকা করে উনাকে (এসআই কিশোর) দিতাম। হঠাৎ করে এ মাসের শুরুতে তিনি মাসিক হারে চারহাজার টাকা করে দেয়ার প্রস্তাব দেন। টাকা না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার কথা বলেন তিনি। এত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে আমাদের গাড়িগুলো ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আমাদের ডেকে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলেও একদিন পর খবর পাঠায় ৩ হাজার টাকা করে দিলে গাড়িগুলো ছেড়ে দিবে। তবে এত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত গাড়িগুলো আমাদের দেয়নি’।
জানা যায়, নগরীর আগ্রাবাদের বিল্লাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই কিশোর মজুমদার দীর্ঘদিন থেকে তাঁর আওতাধীন এলাকার ফুটপাত দখলে নিয়ে টাকার বিনিময়ে হকারদের জায়গা করে দিচ্ছেন। এসব দোকান থেকে দৈনিক ও মাস হারে টাকা আদায় করেন তিনি। এসব টাকা নিজে প্রকাশ্যে আদায় না করলেও এ কাজের জন্যে কয়েকজন নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে মো. অলি, পারভেজসহ কয়েকজনকে দিয়ে টাকা তুলেন তিনি। এছাড়া ফাঁড়িতে নিয়োজিত কনস্টেবলের মাধ্যমেও টাকা আদায় করে থাকেন পুলিশ সদস্য কিশোর। ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্যও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এক চা দোকানি অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে কিশোর মজুমদার এসে বলেন- আগের চেয়ে ২ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে। টাকা দিতে না পারলে দোকান ছেড়ে দিতেও বলেন। তিনি (এসআই) বলেন, ‘আমার লোক আছে, তুই চইল্যা যা। আমি আমার লোক বসামু। আর টাকা দিতে পারলে সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারবি’।
তবে অভিযোগের সকল বিষয় অস্বীকার করে এসআই কিশোর মজুমদার পূর্বকোণকে বলেন, ‘চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপরাধে মূল সড়ক থেকে ১২টি ভ্যান আটক করা হয়েছে। তবে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। গাড়িগুলো দিচ্ছি না বলে তারা আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলছে। মাস্টার্স পাস করে চাকরি নিয়েছি, ফুটপাত থেকে টাকা আদায়ের মত এমন খারাপ নজর নেই আমার’। অলিকে দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অলি কে আমি চিনি না। তবে তার নাম শুনেছি। আমিও তার খবর নিচ্ছি’।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হরে জানিয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি (তদন্ত) জহির হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, ‘গাড়ি আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে টাকার আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

Share
  • 143
    Shares