প্রতিটি সমাজে নির্দিষ্ট কিছু আচরণবিধি আছে এর সদস্যদের জন্য যাতে তাদের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এর কিছু আইন লিখিত আকারে এবং যে এই আইন লংঘন করে আদালত তাকে শাস্তি দেয়। কিছু অলিখিত আইনও আছে যা সমাজের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমাজের সুখ-শান্তি নির্ভর করে। অনেকটাই এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করার ওপর। একজন সুনাগরিক এই লিখিত ও অলিখিত – উভয় নিয়মকানুনগুলোই মান্য করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের অনেক লোকই পূর্বোক্ত নিয়মগুলোর প্রতি উদাসীন। আমরা প্রায়ই কমলা বা কলার খোসা রাস্তায় ফেলে দেই যাতে কেউ আছাড় খেয়ে হাড় ভাঙ্গতে পারে। আমরা কখনো কখনো থু থু বা অন্যান্য জিনিস যত্রতত্র ফেলি। ফলে এগুলো রাস্তাঘাটকে নোংরা করে এবং পথচারীর গায়ে পড়তে পারে। এছাড়া পুঁতিদুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা ট্যাপ চালু রেখে পরিশুদ্ধ পানি অপচয় করে থাকি। গ্রামের লোকজন রোগাক্রান্ত মানুষের কাপড় চোপড় সেই জলে ধৌত করে যা থেকে তারা পান করার পানি সংগ্রহ করে। জবাই করা পশুর হাড়-গোড়, মলমূত্র রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ফেলে অনেকে পরিবেশ দূষণ করে।
যার ফলে পথচারীদের চলাফেরা দুঃসহ হয়ে পড়ে এবং নানা রোগব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হয়।
আমরা দেখি বাস বা ট্রামের ভিতর জায়গা থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। যারা বাসে উঠছে কিংবা নামছে তাদের অসুবিধার প্রতি এদের সামান্যতম তোয়াক্কা নেই। বেপরোয়াভাব প্রকাশ করে। আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে যখন দেখি নিকটবর্তী কারো দুর্ভোগ যন্ত্রণার কথা চিন্তা না করে মাইকের ব্যবহার করা হয়।
এইসব অভিজ্ঞতাগুলো দেখায় যে, আমরা নাগরিক ‘জ্ঞানবিবর্জিত’। একজন সুনাগরিক শুধু নিজেই নিয়ম রক্ষা করে না বরং অন্যরা যাতে না ভাঙে সেদিকেও খেয়াল রাখে। আমরা সেই সমাজ আশা করি যা সুখ শান্তি দেয়। কিন্তু সমাজ চলতে পারে না আমরা একে সহায়তা না করলে। কাজেই কখনো আমরা কাউকে ভুল করতে দেখলে আমাদের দায়িত্ব তাকে শুধরে দেওয়া। সার্বিক সুখ শান্তি বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জনগণ সচেতন হলে নাগরিকদের জন্য বিড়ম্বনাদায়ক আচার-আচরণ ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে এবং পথচারী ও যাত্রী সাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক।

লেখক : সম্পাদক, চট্টগ্রাম লেখক – সাংবাদিক ফোরাম

Share