মোহাম্মদ আলী

৯৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য হালদা নদীতে প্রতি বছর রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করার জন্য সরকারের বরাদ্দ মাত্র ৫০ হাজার টাকা। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে এ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত বিশাল এ নদীর জন্য মৎস্য বিভাগের সামান্য এই টাকা বরাদ্দের কারণে ক্ষোভ রয়েছে ডিম সংগ্রহকারীদের। হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর সুবিধার্থে তিনটি করে ৬টি মৎস্য হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়। এজন্য সরকারের ব্যয় হয় দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রত্যেকটি হ্যাচারিতে খনন করা হয় কমপক্ষে তিনটি করে পুকুর। এসব পুকুরের স্বচ্ছ পানি রেণু ফোটানোর কাজে ব্যবহার ছাড়াও মৎস্য চাষের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু নিয়মিত সংস্কারের অভাবে এসব পুকুর অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, রুই জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) ডিম ছাড়া মওসুমে দুই উপজেলায় ২৫ হাজার টাকা করে রেণু (আনুমানিক ৫০০ গ্রাম) কিনে সরকারি হ্যাচারির পুকুরে লালনপালন করা হয়। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে রেণুগুলো পোনায় পরিণত হওয়ার পর এগুলো হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। এদিকে হালদা নদীতে সামান্য পরিমাণের পোনা অবমুক্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

করেছেন ডিমসংগ্রকারীরা। ডিম সংগ্রহকারী হাটহাজারীর গড়দুয়ারা গ্রামের কামাল উদ্দিন সওদাগর ও মদুনাঘাট বড়–য়াপাড়ার বাসিন্দা আশু বড়–য়া এ প্রসঙ্গে দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘একটা ছোট পুকুরেও এক বছরে এর চেয়ে বেশি টাকায় পোনা ছাড়া হয়। পোনার জন্য মৎস্য বিভাগের এ বাজেট অতি নগণ্য।’ এই দুই ডিম সংগ্রহকারী হালদা নদীতে পোনা অবমুক্ত করতে সরকারি টাকা বরাদ্দের পরিবর্তে নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, হালদায় প্রায় এক হাজার ডিম সংগ্রহকারী রয়েছেন। ডিম ধরার সময় প্রতি দুইজনে একটি করে নৌকা ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে প্রতি নৌকায় ৫০ গ্রাম রেণু সংগ্রহ করে নদীর পাড়ে সরকারি হ্যাচারির পুকুরে লালনপালন করে হালদায় পোনা অবমুক্ত করলে অনেক উপকার হতো। এজন্য কোন ডিম সংগ্রহকারীর আপত্তি থাকার কথা নয়। এ জন্য রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অফিসকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। রেণুগুলো লালনপালনের পর যথাসময়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে কিনা তা সার্বক্ষণিক তদারকি করবে জেলা মৎস্য অফিস। তবে সবকিছুর আগে সংস্কার করতে হবে হ্যাচারির এসব পুকুর।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আজহারুল আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘হালদা নদীতে রেণু বা পোনা অবমুক্ত করার জন্য সরকারের তেমন কোন বরাদ্দ নেই। বিগত কয়েক বছর ধরে নদীর দুই পাড়ে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দের এই টাকা দিয়ে দুই উপজেলায় সরকারি হ্যাচারির পুকুরে হালদার রেনু ক্রয় করে চাষ করা হয়। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে রেণুগুলো পোনায় পরিণত হওয়ার পর নদীতে অবমুক্ত করা হয়।’
মৎস্য চাষীরা জানায়, সাধারণত পুকরে এক শতক এলাকায় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি পোনা ফেলা হয়। সে তুলনায় হালদায় ফেলা পোনার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এজন্য দরকার মৎস্য বিভাগের যথাযথ উদ্যোগ। ডিম সংগ্রহকারীদের সাথে আলাপ করে করণীয় নির্ধারণ করলে হালদায় রুই জাতীয় মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

Share