কামরুল ইসলাম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নের অম্বরনগর হিলট্র্যাক্টস। না এটা কোন পার্বত্য এলাকা নয়, তবুও নাম হয়ে গেছে হিলট্র্যাক্টস। স্থানীয়ভাবে এভাবে সবাই চিনে এলাকাটিকে। এখানে অবস্থান বেগমগঞ্জ-৪ গ্যাসক্ষেত্রের। মার্চে শুরু হচ্ছে ড্রিলিং। এখন চলছে প্রাক-প্রস্তুতি। ড্রিলিংয়ের জন্য রিগ সংযোজনের কাজ চলছে পুরোদমে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড ( বাপেক্স ) সূত্রে জানা গেছে, আজারবাইজানের যৌথ কোম্পানি সকার-একিউএস এখানে কূপ খনন করবে। তাদের সাথে ইতিপূর্বে বাপেক্সের টার্ন কি চুক্তি হয়েছে এ ব্যাপারে। সংস্থাটির প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অম্বরনগর হিলট্র্যাক্টস-এ পৌঁছেছেন। ড্রিলিংয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তাদের। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির সাপমারায় অবস্থিত সেমুতাং সাউথ-১ গ্যাসক্ষেত্র থেকে খনন যন্ত্রপাতি আসতে শুরু করেছে। এসব যন্ত্রপাতি ইতালি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে বেগমগঞ্জ-৪ গ্যাসক্ষেত্র এলাকা পরিদর্শনে গেলে সেখানে নিয়োজিত সকার-একিউএস’এর একজন প্রকৌশলী জানান, সেমুতাং সাউথ-১ কূপ খননে ব্যবহৃত রিগ দিয়ে এখানে খনন কাজ চলবে। সেখান থেকে প্রতিদিন রিগের বিভিন্ন যন্ত্র আসছে এবং সংযোজন করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন, মার্চের প্রথমদিকে ড্রিলিং শুরু হবে। ড্রিলিং কাজে নিয়োজিত কোম্পানির ২৭ জন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা কাজ করছেন অম্বরনগরে। এদের মধ্যে ১০ জন বিদেশি। সকার-একিউএস’এর কার্যক্রম আজারবাইজানে। এরবাইরে প্রথম আন্তর্জাতিক টেন্ডারে তারা কাজ পেয়েছে বাংলাদেশে।
বাপেক্সের পক্ষে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ করেছে। বাপেক্স সেখানে ড্রেজিং ও ভরাট করে তা বুঝিয়ে দিয়েছে সকার-একিউএস’কে। আজারবাইজানের প্রতিষ্ঠানটিকে যাবতীয় সহায়তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে এ কাজে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায়সমৃদ্ধ কে এন হারবার কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। অম্বরনগর হিলট্র্যাক্টস-এ নির্দিষ্ট এলাকার চতুর্দিকে দেয়া হয়েছে সীমানা বেড়া। সকার-একিউএস প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে থাকার জন্য সেখানে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৈরি করা হয়েছে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। কে এন হারবার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী গতকাল দৈনিক পূর্বকোণকে জানান, সেমুতাং দক্ষিণ-১ গ্যাসক্ষেত্র থেকে যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম স্থানান্তর করা হচ্ছে অম্বরনগর হিলট্র্যাক্টস-এ। সেমুতাং থেকে সেগুলো এখানে নিয়ে আসা বেশ দুষ্কর। অনেক যন্ত্রপাতি বেশ ভারি এবং বড় আকারের। কিন্তু এ ধরনের যন্ত্রপাতি আনার উপযোগী সড়ক পথ নেই। কোথাও কোথাও সংকীর্ণ রাস্তা। ভারি মালবোঝাই গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয় বহু পুল ও সেতু। সবকিছুকে ঠিকঠাক করে তারপর স্থানান্তর করা হচ্ছে ড্রিলিংয়ের যাবতীয় সরঞ্জাম। এরজন্য কোথাও কোথাও রাস্তার পাশের গাছ, গাছের ডালপালা কেটে ফেলতে হয়েছে। এমন কি দোকান, মার্কেট, বাড়ির মত কয়েকটি অবকাঠামোও ভাংতে হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে যন্ত্রপাতি আনা শুরু হয়েছে। সেমুতাং থেকে প্রথম চালানটি এসে পৌঁছে গত ২৮ জানুয়ারি। এরপর একের পর এক চালান আসছে। অনেক মাল পরিবহন করতে হচ্ছে চট্টগ্রাম দিয়ে। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও সেমুতাং-৪ এলাকা থেকে মালামাল এসে পৌঁছছে রাতে-দিনে। শেষ চালানটি মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। এখানে যাবতীয় সিভিল ওয়ার্ক, স্থানীয় সমস্যা, নিরাপত্তা, ক্যাটারিং, ক্যারিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে কে এন হারবার লিমিটেড। এখানে একটি ওয়াইফাই টাওয়ার বসানো হবে।
বেগমগঞ্জে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৭৭ সালে। এখানে মোট কূপ ৩টি। এগুলোর মধ্যে উৎপাদনে রয়েছে দু’টি। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে অম্বরনগর হিলট্র্যাক্টস-এর দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র বেগমগঞ্জ উপজেলায়, আর নতুনটি সোনাইমুড়ি উপজেলায়। তবুও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড ( বাপেক্স ) এর নথিপত্র অনুসারে নাম বেগমগঞ্জ-৪ কূপ। বেগমগঞ্জে গ্যাস পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল যে এখানেও মজুদ রয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপে গ্যাস জোনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরভিত্তিতে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে এখানে কূপ খনন করা হবে।

Share
  • 14
    Shares