নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাপ্রকল্প বে টার্মিনাল প্রকল্পে কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড এবং ট্রাক টার্মিনাল নির্মানের জন্য ভৌত কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার। ১০ টি স্কেভেটর এবং ২টি ড্রেজার আজ থেকে সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ নভেম্বর টেলি-কনফারেন্সে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এই প্রকল্পের। কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড এবং ট্রাক টার্মিনাল দিয়ে শুরু হবে এর প্রাথমিক কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে এখন সেখানে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ইতিপূর্বে ৬৭ একর জমির দখল দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। গতকাল তা পুরোপুরি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে সরেজমিনে। বন্দর এবং জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। বে-টার্মিনালের জমিতে লাল পতাকা ও খুঁটি স্থাপন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ । উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যম হালিশহর মৌজায় প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ব্যক্তিমালিকানাধীন ঐ জমির ক্ষতিপূরণ বাবৎ ৩৬৪ কোটি টাকা ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনকে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই ভূমির সাথে সমুদ্র মুখে প্রায় ৫০০ একর এলাকা রয়েছে দু’কিলোমিটার লম্বা। জোয়ারে ডুবে যায় সেই জায়গা। কোন বসতি বা স্থাপনা নেই সেখানে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ডেলিভারি ইয়ার্ড তৈরি করা হবে কন্টেইনারের। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ১০ শতাংশ কন্টেইনার ক্যাপাসিটি সেখানে স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। আর তা হবে বর্তমান ইয়ার্ডের এক্সটেনশন। এরপর ক্রমান্বয়ে ইয়ার্ড বাড়বে এবং ক্যাপাসিটি স্থানান্তর হবে। তখন জাহাজের হুক পয়েন্ট থেকে সরাসরি সেখানে এলসিএল কন্টেইনার নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে মাল সরবরাহ করা হবে। বন্দর কর্মকর্তারা মনে করছেন যে বে টার্মিনাল এলাকা থেকে এলসিএল পণ্য ডেলিভারি শুরু হলে অন্তত ৫ হাজার ট্রাকের আর জেটিতে প্রবেশের প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে এলসিএল কন্টেইনারের পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয় জেটি থেকে। এ কারণে জেটিতে এসব ট্রাককে প্রবেশ করতে হয়। পোর্ট এক্সেস রোড থকে বঙ্গোপসাগরের উচ্চ জোয়ারের সীমারেখা পর্যন্ত স্থানটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে বে টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য। উপকূলের প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে নির্মিত হবে এই টার্মিনাল। এই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ১১ কিলোমিটার প্রলম্বিত ডুবোচর রয়েছে। এই চর এবং উপকূল তীররেখার মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি চ্যানেল। সেখানে গভীরতা কোথাও ৭ মিটার, আর কোথাও ১০ মিটার। বন্দরের বহির্নোঙর ঐ চরের পশ্চিমে। বহির্নোঙরে পানির গভীরতা ১৩ মিটার পর্যন্ত। ডুবোচরটাকে টেকসই করা সম্ভব হলে নির্মাণ করতে হবে না ব্রেকওয়াটার। বে টার্মিনালে জাহাজ চলাচলের জন্য জোয়ারের প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ রাতদিন যাওয়া আসা করতে পারবে জাহাজ। আশা করা হচ্ছে যে টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম ২০২১ সালে শুরু হবে। প্রথমদিকে এর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ৫ লাখ ২২ হাজার টিইউস পর্যন্ত হবে। ২০৪৩ সালে তা ৩০ লাখ টিইউসে উন্নীত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক খরচ হবে ২ বিলিয়ন ডলার।

Share
  • 12
    Shares