ইমাম হোসাইন রাজু

বই মানুষের অবসরের প্রিয় বন্ধু, তেমনি জ্ঞানের আধারও। যা ঘুমন্ত জ্ঞানকে জেগে ওঠতে বরাবরই সাহায্য করে থাকে। এই জন্যই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘ভাল বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়। জ্ঞানের বাহন হিসেবে বই বিশে^র সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যম’। অন্যত্রে পল্লী কবি জসিমউদ্দীন বলেছেন, ‘বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক’।
যথার্থই বলেছেন বিশ^ ও পল্লী কবি। জ্ঞানের আলো যে একজন পাঠককে ছড়িয়ে দিতে পারে বিশে^র চরাচরে। তার প্রমাণ চট্টগ্রামের অমর একুশে বই মেলা। গতকাল রবিবার ছিল ‘অমর একুশে বইমেলার’ নবম দিন। এই নয় দিনেই চট্টগ্রামের একুশে বই মেলায় প্রায় ৮০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টল মালিকরা। এতেই বুঝা যায় গতবারের তুলনায় এবারের বই মেলা অনেক বেশি জমজমাট। বিগত বছরের তুলনায় এবারের মেলার পরিধি বাড়ায় এবং পরিবেশ বেশ গোছানো থাকায় প্রকাশক ও বিক্রয় প্রতিনিধির মুখে ছিল হাসি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, অন্যদিনের মতো মেলা প্রাঙ্গণ জুড়েই ছিল পাঠকের সমাগম। ক্রেতায় পরিপূর্ণ ছিল স্টলগুলোতে। শুধু উপস্থিতি নয়, বই বিক্রির পরিমাণও ছিল গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যার ফলে স্টল মালিকদের মুখে ছিল বেশ তৃপ্তির ছাপ। পাঠক ও বই প্রেমীরাও তাদের পছন্দের বই সংগ্রহে ছিল ব্যস্ত। তাদের এই ব্যস্ততার সাথে মিল পাওয়া যায় ‘ভিনসেন্ট স্টারেট-এর কথায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যখন বই সংগ্রহ করি, তখন আমরা আনন্দকেই সংগ্রহ করি’।
চট্টগ্রামের এবারের বই মেলায় ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের ৫৪টি প্রকাশনসহ মোট ১১০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। যা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ। অন্যদিনের তুলনায় গতকালও বেচা-বিক্রি ভাল ছিল সব স্টলেই। কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে- ঢাকার প্রথমা প্রকাশনের বিক্রয় কর্মী ইব্রাহিম তানভীর পূর্বকোণকে বলেন, ‘গত বারের তুলনায় অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে বই বিক্রিতে ভাল অবস্থানে আছি। প্রতিদিন আমাদের বিক্রি ভাল হচ্ছে। এই পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে আমাদের। সামনে আরও বেশি বই বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদি। আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আনিসুল হকের বইগুলো’।
সব পাঠক বই না কিনলেও অধিকাংশ পাঠকেই তাদের পছন্দের বই কিনছেন জানিয়ে চট্টগ্রামের অক্ষর বৃত্ত প্রকাশনার নির্বাহী প্রকাশক কাজী জোহেব পূর্বকোণকে জানান, প্রথম দিকের তুলনায় এখন একটু বিক্রি কম হলেও বেশ ভালই বিক্রি হচ্ছে। আমাদের স্টলে শিশুদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার পর ভালই জমেছে এবারের মেলা। এবারের মেলায় প্রাপ্তিতা বেশিই পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ এ এমন থাকবে বলে আশাবাদি।
গতকালের মেলায় উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, সবসময় আমি বইমেলায় আসি। পাঠকের আর বইয়ের টানে সকল ব্যস্ততা ফেলেই মেলায় আসতে হয় আমাকে। চট্টগ্রামের মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা দেখেই বুঝতে বাকি নেই, এখানেও আমার মতো বইপ্রেমীরা আছে। বইপ্রেমীরা থাকলে বিক্রিও একটু বেশি হবে। এবারের আয়োজন ছিল অনেক গোছানো। যা আগামীতেও মেলা কর্তৃপক্ষ ধরে রাখবে।
প্রতিদিনই নতুন নতুন বই আসছে এবারের বই মেলায়। গতকালও মেলায় ড. সৌরভ সাখাওয়াত রচিত ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ নামক ইতিহাস ভিত্তিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়। এছাড়া এস এম ফরমানুল ইসলামের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা সম্বিলিত ‘ফিরে যাও সুশোভিতা’ ও ‘ফিরে যেতে আসিনি রুদ্র’ নামে দুটি বই এসেছে চট্টগ্রামের কালধারার স্টলে।

Share