নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর নতুন চাক্তাই ভেড়া মার্কেটের বস্তিতে গত শনিবার ভোর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকা-ে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট আট জন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১২ জন মালিকের ২১৫টি ঘর ও নয়টি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১৫ পরিবারের ৮৪৩ জন সদস্য। কলোনির প্রতিটি ঘর ছিল এক কক্ষ বিশিষ্ট। গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন ঠিক ছিল কিনা। কিভাবে লোকগুলো মারা গেছে। এছাড়াও তদন্তে আরো কিছু বিষয় রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আমরা বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছি। তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের চার সদস্যের তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
কলোনির ২১৫টি ঘরের মধ্যে ফরিদ কলোনির ৪৯টি ঘর আগুনের পুড়ে গেছে। যেখানে লোক সংখ্যা ছিল ১৯৪ জন। ফরিদ কলোনির ঘরগুলো দেখাশুনা এবং ভাড়া আদায় করতো আল-আমিনের মা। আব্দুর সাত্তারের ৩২টি ঘর পুড়ে গেছে। যেখানে লোক সংখ্যা ছিল ১৪৯ জন। এছাড়াও সানাউলের একটি বিশাল মুদি দোকান পুড়ে গেছে। আব্দুর সাত্তারের ঘরগুলো দেখাশুনা করতো দিলুর মা নামের এক মহিলা। বেলালের মালিকানাধীন ১২টি ঘর পুড়ে যায়। যেখানে লোক সংখ্যা ছিল ৫২ জন। বেলালের ঘর দেখাশুনা করতো হারুন। বাহাদুরের মালিকানাধীন ১১টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। এই ১১টি ঘরে লোক সংখ্যা ছিল ৪৭ জন। জসিমের মালিকানাধীন ৬টি পুড়ে যায়। জসিমের ঘরে ১৯ জন লোক ছিল। আব্দুল্লাহ হুজুরের ৭টি ঘরে ৩৩ জন লোক ছিল। জসিম এবং আব্দুল্লাহ ঘরগুলো দেখাশুনা করতো নাছির।
এছাড়া, সিরাজের কলোনিতে ১৪টি ঘর এবং লাকির একটি চায়ের দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। এই কলোনিতে লোক ছিল ৪৩ জন। লাকি নামের এক মহিলা এই ঘরগুলো দেখাশুনা করতো। লেদু কলোনির ১৯ ঘর পুড়ে গেছে। যেখানে ৬৯ জন লোক সংখ্যা ছিল। লেদু কলোনির ঘরগুলো দেখাশুনা করতো নুর আলম। মোর্শেদ আলীর ১৪টি ঘর আগুনে পুড়ে ৫৩ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কলোনির দেখাশুনা করতো ফাতেমা। এছাড়াও মোর্শেদ আলীর কলোনিতে সুরুজ মিয়ার দোকান, সোহেল হোটেল, সুমন টেইলার্স, শাহানুর ফার্ম, ও শাহাব উদ্দিনের দোকান পুড়ে যায়। সগির কলোনিতে ২৭টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। কলোনি দেখাশুনার দায়িত্বে ছিল নাসিমা। এই কলোনিতে ৮০ জন লোক থাকতো। মোয়াজ্জেম কলোনির ১০টি ঘরে ৪৩ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘরগুলো দেখাশুনা করতো শাহজাহান। বেলাল উদ্দিনের ১৪টি ঘরে ৬১ জন অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই কলোনিতে মনির সওদাগরের একটি টেইলার্স ও একটি মুদির দোকান পুড়ে যায়।

Share
  • 2
    Shares