মুহাম্মদ আবু নাসের

পোশা কের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা ধরনের বাচবিচার। শালীন পোশাক পরার অর্থ এই নয় যে, আপনাকে বড় আলখেল্লা কাপড়ে মুড়ে থাকতে হবে। নিজেকে মার্জিত আবরণে মোড়াতে তাই ব্যবহার করতে পারেন ফ্যাশনেবল নানা ডিজাইনের পোশাক। পোশাকের থিমেও শালীনতা বজায় রাখা যায়। পরিহিত পোশাকে যেন আপনার দেহের গড়ন আর্কষণীয়ভাবে স্পষ্ট না হয়। মূল থিম হল শরীরের গড়ন অস্পষ্ট রেখে ত্বক যতটা পারা যায় ঢেকে রাখা। যুগের পালা বদলে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যায় মনের মত ডিজাইনের পোশাক। শালীন পোশাক সেটি নারী কিংবা পুরুষ যেই হোক না কেন তার বৈশিষ্ট্য থাকবে। অর্থাৎ শরীরের সংবেদনশীল অংশকে আড়াল করে মানানসই ঢিলেঢালা পোশাক। এক্ষেত্রে শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্চাবি পায়জামা, সালোয়ার, কামিজ-ওড়না সবই গ্রহণযোগ্য। শুধু অপরের সামনে নিজেকে কামুক ও কামনার বস্তু রূপে উপস্থাপন থেকে বিরত রাখতে যেমন পোশাক পরা যায়, তাই-ই শালীন পোশাক বলে বিবেচিত হতে পারে।
শিক্ষায়তন, অফিস, সামাজিক অনুষ্ঠান, বেড়াতে যাওয়া, আড্ডা বা যে কোন অনুষ্ঠানে এ ধরনের পাশাক মানানসই। রুচিশীল শালীন পোশাক দেশীয় আবহাওয়াতেও স্বস্তিদায়ক। বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখে পোশাক নির্বাচন চলে। টিন বা ইয়াংরা যা পরবে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে তা বেমানান। অথচ মার্জিত পোশাকে অভ্যস্ত থাকলে ঝামেলার আশংকা খুবই ক্ষীণ।
ফ্যাশনেবল মানেই ওয়েস্টার্ন নয়।
পাশ্চাত্য মানেই অনেকের কাছে উঁচু স্তরের আদবকেতা। তাদের চাল চলন পোশাকের ধরন, সবই অগ্রগণ্য ও কামনার। ব্যবসায়ী মহল ক্রেতার এই দুর্বলতাকে আকর্ষণ করতে পোশাকে এনেছে বৈচিত্র্য। ফলে পোশাকে অনেকটাই থাকছে ওয়েস্টার্ন ছোঁয়া। কেউ তাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধকরলেও নিজের অজান্তেই অপরের চোখে আবেদনের বস্তু। কখনো কখনো বিড়ম্বনার শিকারও হতে হয়। অথচ, দেশীয় পোশাকে ও ফ্যাশনেবল হওয়া যায়। শুধু জানতে হবে ব্যবহারের ধরন।
আধুনিকতায় মার্জিত রুচির পোশাক : বিশ^ায়ন আর সময়ের বিবর্তন বলুন, প্রয়োজনের সবকিছু সামনে হাজির। শুধু বেছে নেয়ার দায়িত্ব নিজের। সবদেশের সব কালচার, ব্যবহৃত অনুষঙ্গ বা পোশাকের ধরন-ধারণ ও আমাদের হাতের নাগালে। তাই সে যেটিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেটিই ফ্যাশনে পরিণত হয়। শালীন পোশাক মানেই সাদামাটা হতে হবে তা নয়। এর সঙ্গে ব্যবহার করা যায় মানানসই অনুষঙ্গ। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সাজে যেন উগ্রতা প্রকাশ না পায়।
পোশাকের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। পোশাকের ধরন দেখেও বোঝা যায় মানুষটি কেমন মেজাজের। তাই তো কাউকে রগরগেভাবে উপস্থাপন করতে এক টুকরো সংক্ষিপ্ত পোশাকেই যথেষ্ট। পোশাক ঠিকই পরছে অথচ অন্যের আকর্ষণ লাভে দেহের সংবেদনশীল অংশগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। এসব এড়িয়ে নিজেকে ভদ্রোচিত প্রকাশে বা নমনীয় লুকে উপস্থাপনে শালীন পোশাকের তুলনা নেই।

Share
  • 1
    Share