নীড়পাতা » শেষের পাতা » মেট্রো সার্ভিসের চরম নৈরাজ্য ইপিজেড মোড়ে

দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, নিত্য ভোগান্তি কারখানা কর্মীদের

মেট্রো সার্ভিসের চরম নৈরাজ্য ইপিজেড মোড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী লোকাল বাসগুলোর ডাক নাম ‘মেট্রো সার্ভিস’। আর এই লোকাল বাসগুলোকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করার জন্য রোড পার্মিট দেয় বিআরটিএ। যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিটি মেট্রো সার্ভিসের বডিতে রং দিয়ে বড় করে লেখা থাকে কোন রাস্তায় কত নম্বার বাস যাবে। তাই প্রতিটি লোকাল বাসের গায়ে মেট্রো সার্ভিস লেখা থাকলেও সাধারণ যাত্রীরা এগুলো চিনে নম্বার দিয়ে। তবে সন্ধ্যা হলেই বডিতে লেখা গন্তব্য স্থানগুলোর কথা ভুলে গিয়ে নিজের পছন্দ মতো রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায় লোকাল বাসগুলো। শুধু রাস্তা নয়, ভাড়াও দ্বিগুণ আদায় করে তারা। ফলে বাসগুলোর চালক-হেলপারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা লোকাল বাসগুলোর গায়ে শেষ গন্তব্য স্থান সি-বিচ পর্যন্ত লেখা থাকলেও তা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফ্রি-পোর্ট মোড়ে এসে। ফলে বিকাল হলেই ফ্রি-পোর্ট মোড়ে বেড়ে যায় লোকাল বাসের চাপ। দ্বিগুণ ভাড়ার লোভে ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকদের অপেক্ষায় প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে থাকে প্রায় অর্ধশত খালি বাস। অন্যদিকে রাস্তার বিপরীতে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে শতশত শ্রমিক।
এসময় গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করতে দেখা যায় মো. সোহেল নামে এক শ্রমিককে। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কাটগড়ের মুসলিমাবাদ এলাকায় থাকি। বাসগুলো সি-বিচ পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও বেশি যাত্রীর লোভে তারা ফ্রি-পোর্ট থেকেই ঘুরিয়ে ফেলে। যদি কোন বাস যেতে চায়, তাহলে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। কখনো কখনো ভাড়ার কথা না বলে গাড়িতে তুলে দ্বিগুণ ভাড়া চায় হেলপাররা। এনিয়ে অনেক মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই

সোহেলের মতো শত শত শ্রমিক এভাবে জিম্মি হয়ে পড়ে লোকাল বাসগুলোর কাছে। নগরীর ফ্রি-পোর্ট মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা মো. রাজু নামে আরো এক শ্রমিক জানান, আমি গোল্ডেন বিচ এলাকায় যাবো। বাসে একটু সময় বেশি লাগলেও টাকা কম লাগে। তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু বাসগুলোর গায়ে সি-বিচ পর্যন্ত লেখা থাকলেও তারা সন্ধ্যা হলেই ফ্রি-পোর্ট এর পরে আর যেতে চায়না। রিকশ্া কিংবা টমটম নিয়ে বিকল্প পথে যাওয়া গেলেও ভাড়া অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে মাঝে মধ্যে দ্বিগুণ ভাড়া জেনেও উঠে পড়ি।
১০ নং রুটের বাস চালক মো. সুমনের কাছে গন্তব্য শেষ না করে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘সারাদিনে যা ভাড়া মারি তা দিয়ে কোম্পানিকে গাড়ির জমা টাকা দিতে পারি না। সন্ধ্যা হলে ইপিজেডের প্রায় সব কারখানাগুলো ছুটি হয়ে যায়। তখন শ্রমিকদের চাপ থাকে আর বাস কম থাকে। তাই একটু বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় সব বাসগুলো এখানে এসে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘উঠা-নামা কখনো কখনো ১০ টাকা আবার ১৫ টাকাও নিই। তবে তা শুধু ইপিজেড ছুটির সময় একবার’।
এছাড়া বেশকিছু বাস ফ্রি-পোর্টে মোড়ে এসে দাঁড়ালেই চালকদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় কিছু ব্যক্তিকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইপিজেডের কারখানাগুলোর জন্য বাস রিজার্ভ নেওয়ার কাজ করে তারা। কারখানা ছুটির সময় ফ্রি-পোর্ট মোড়ে বাস এলেই বাস চালকদের রিজার্ভ করতে আকর্ষণীয় ভাড়া বলাই এদের কাজ। এই সিন্ডিকেটের কারণে অনেক বাস গন্তব্যের শেষ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য যাত্রী তুললেও আবার নামিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. মঞ্জুরুল হক পূর্বকোণকে জানান, বাস চালকদের এ নৈরাজ্যের অভিযোগ অনেকবার পেয়েছি। এ ধরনের কাজ সব থেকে বেশি হয় ইপিজেড আর অক্সিজেন মোড়ে। ইপিজেডসহ সি-বিচ রুটে চলাচলকারী ১০ নম্বার ও ৬ নম্বার লোকাল বাসগুলো সি-বিচ পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও তারা ফ্রি-পোর্ট মোড়ে এসে তাদের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে নিউমার্কেট-ফতেয়াবাদ রুটে চলাচলকারী ৩ নম্বর বাসগুলোও গন্তব্য শেষ না করে অক্সিজেন মোড়ে এসে একই কাজ করে। আমরা বাস চালকদের এসব নৈরাজ্য বন্ধ করতে একাধিকবার উল্লেখিত স্থান দুটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। এ নৈরাজ্য বন্ধ করতে আমরা আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Share
  • 4
    Shares