সৌমিত্র চক্রবর্তী , সীতাকু-

সীতাকু-ে এক সংখ্যালঘু বাড়ির সামনে টাইম বোমা রেখে গেল অজ্ঞাত দুষ্কৃতিরা! এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে জানমাল রক্ষার্থে ঐ রাস্তায় পথচারীর চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিলে তারা এসে বোমাটি নিস্ক্রিয় করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সীতাকু- পৌরসদরের ৪নং ওয়ার্ডের ভোলাগিরি তাঁতীবাড়ি রাস্তার মুখে কে বা কারা একটি প্যাকেট মোড়ানো বোমা রেখে যায়। বোমাটিতে একটি লাইট জ¦লজ¦ল করছিলো। ঐ পথ দিয়ে সীতাকু- রেলওয়ে স্টেশন ও বাজারে যাতায়াত করার সময় এক পথচারী বোমাটি দেখে আশপাশের সবাইকে জানালে এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বাবু সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানালে চট্টগ্রাম উত্তরের এডিশনাল এসপি মশিউদ্দৌলা রেজা, সীতাকু- সার্কেল এডিশনাল এসপি শম্পা রানী, ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন, ওসি (অপারেশন) মো. জাব্বারুল ইসলাম, ওসি (ইন্টিলিজেন্স) সুমন বণিকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তারা ঐ সড়ক দিয়ে পথচারীদের চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে তারা প্যাকেটে মোড়ানো বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণের জন্য চট্টগ্রামের বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজমকে খবর দিলে ইউনিট ইনচার্জ রাজেশ বড়–য়ার নেতৃত্বে একটি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বেলা পৌনে ২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বোমাটি পর্যবেক্ষণ করে ইউনিট ইনচার্জ রাজেশ বড়–য়াসহ অন্যান্য সদস্যরা বেলা ২টায় সেটি নিষ্ক্রিয় করেন। বোমাটি নিস্ক্রিয়করণের সময় সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
ভোলাগিরি এলাকার বাসিন্দা মো. একরাম হোসেন বলেন, বেলা ১১ টার দিকে তাঁতীবাড়ি রাস্তার মুখে একটি বোমা পাওয়া গেছে বলে শুনলে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। কারণ, এ এলাকায় এমনিতেই নানামুখী উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছু দিন আগে এ এলাকার যুবলীগ নেতা দাউদ স¤্রাট প্রকাশ্যে খুন হয়। এ নিয়ে এলাকায় এখনো আতংক বিরাজ করছে। তাছাড়া আগামী ৪ মার্চ শুরু হচ্ছে সীতাকু- মহাতীর্থে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিব চতুর্দশী মেলা। এ মেলায় দেশ বিদেশের ১০ লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর আগমন হয়। কিছু সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষ এ মেলাটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। যদিও প্রশাসনের শক্ত অবস্থানে তারা বারবার ব্যর্থ হয়। গতবছরও এই সময়ে এই এলাকার কাছাকাছি চৌধুরীপাড়ায় এবং নামার বাজার এলাকায় দুটি শক্তিশালী জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছিলো। সেখানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ও যৌথবাহিনীর সাথে বন্ধুক যুদ্ধে ৫ জঙ্গি নিহত হয়। সেসময় গ্রেপ্তার জঙ্গিরা শিব চতুর্দশী মেলায় হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলো। ঐ এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেলা কমিটির সাবেক সম্পাদক হারাধন চৌধুরী বাবু বলেন, আসন্ন মেলা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যস্ত রয়েছে। এ অবস্থায় আতংক ছড়ানোর জন্যই কেউ এমন করেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি প্রশাসনকে একটু আন্তরিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান রাজেশ বড়–য়া বলেন, ফেদারের বাক্স আকৃতির প্যাকেটে মোড়ানো এটি একটি টাইম বোমা। এর ভেতরে ক্ষতিকারক স্প্রিন্টার ছিলো না। কিন্তু এলাকায় আতংক ছড়াতে পারে। কেউ কোন অজ্ঞাত উদ্দেশ্যে এটি রেখে আতংক ছড়াতে চেয়েছিলো। খবর পেয়ে আমরা এসে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছি। তিনি আরো বলেন, আসলে যারা রেখেছিলো তারা এটি ফাটানোর জন্য সার্কিটে সংযোগও দিয়েছিলো। এর ভেতরে টাইমারও ছিলো। এটি এক- দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরণ হবার কথা। কিন্তু সার্কিটের একটি ভুল তার ব্যবহার করেছিলো তারা। এ কারণে লাইট জ¦ললেও বিস্ফোরণ ঘটেনি।
সীতাকু- থানার ওসি মো. দেলওয়ার ও ওসি (অপারেশন) জাব্বারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাই। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিলে তারা এসে এটি নিষ্ক্রিয় করে। তারা বলেন, এটি কে বা কারা রেখে গেছে জানতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সামনে শিবচতুর্দশী মেলাকে ঘিরে কেউ এসব অপচেষ্টা করছে কিনাও তাও বুঝতে পারছি না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে’। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

Share