নিজস্ব সংবাদদাতা , মিরসরাই

মিরসরাইয়ে লরি ও মাইক্রো বাসের সংঘর্ষে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন চালকসহ তিনজন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে একই পরিবারের দুই শিশু। এছাড়া একই ঘটনায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের দুইজন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, আব্দুর রহমান (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী বিবি কুলছুম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক রুহুল আমিন। এরা সবাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা তাদের দেহাবশেষ বলতে পোড়া কঙ্কালটুকুই উদ্ধার করতে পেরেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ দুই শিশু আব্দুল মালেক রনি (১২) ও রাসেল (৯)। সম্পর্কে তারা নিহত আব্দুর রহমানের নাতি হয়। এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় আহত হন তার ছেলে আবুল কালাম ও ছেলের শ্যালক আবুল হাসান।
পুলিশ জানায়, মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় শিশু রনি ও রাসেলকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আহত ও নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য (মাইক্রোবাসের চালক ছাড়া)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে। চালক রুহুল আমিনের বাড়ি নোয়াখালির চাটখীল উপজেলার বানসা এলাকায়। ওইদিন দুর্ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্ধার কর্মী ও জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানান, মহাসড়কের নিজামপুর কলেজ এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত লরিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি লরির পেছনে আটকে যায়। পরে লরিটি চলতে থাকলে দুই গাড়ি ও সড়কে উপর্যুপরি ঘর্ষণ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মাইক্রোবাসের ভেতর থাকা সাতজনের মধ্যে তিনজন আগুনে পুড়ে মারা যান। দগ্ধ হয় দুই শিশু। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ায় প্রাণে বেঁচে যান দুইজন।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল আজম জানান, ধারণা করা হচ্ছে লরির পেছনে আটকে থাকা মাইক্রোবাসের সাথে সড়কের ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ঠ স্ফুলিঙ্গ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তাছাড়া মাইক্রোতে অনেক দাহ্যবস্তু থাকে আগুন দ্রুত জ্বলতে যেগুলো সহায়তা করে। মাইক্রোর দুটি সিলিন্ডারের একটিও বিস্ফোরিত হয়নি।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার জানান, ‘নিহতদের দেহাবশেষ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। লরিটির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিহত আব্দুর রহমান ও বিবি কুলছুমের ছেলে রুবেল হোসেন জানান, দুবাই থাকা তাঁর বড় ভাই আব্দুল মমিন দুই বছর পর দেশে আসে গত পরশু। আসার পর রাতে চট্টগ্রাম শহরে তার বাসায় থাকে। তাকে আনতে মাইক্রোবাসযোগে মঙ্গলবার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলো মা বাবা, এক ভাই, ভাইয়ের শ্যালক ও দুই ভাতিজা। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তারা। রুবেল আরো জানান, তার দুই ভাতিজা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র।
মঙ্গলবার বিকালে রুবেল হোসেন জানান, অগ্নিদগ্ধ তাঁর দুই ভাতিজা রণি ও রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

Share
  • 1
    Share