নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি এবং সেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও মানছেন না উপজেলা হাসপাতালসমূহের অনেক চিকিৎসক। তারা সকাল ৮টার পরিবর্তে এক-দুই ঘণ্টা দেরিতে যাচ্ছেন। আবার আড়াইটার অনেক আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। রোগ নির্ণয়ের ইকুইপমেন্ট ও দক্ষ লোক না থাকা এবং চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাবে এসব কারণে উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলার রাউজান, সীতাকু-, হাটহাজারী, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, বাঁশখালী এবং পটিয়া সংবাদদাতা সরেজমিন পরিদর্শনে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আবুল কাশেম পূর্বকোণকে বলেন, অনিয়মের বিষয়গুলি আগে ছিল। এখন অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বায়োমেট্রিক মেশিনের মাধ্যমে উপস্থিতি আমরা দেখি। সকাল ৯টা. ১০টা, ১২টা এবং ২টার সময় উপস্থিতির শিট বের করি। তবে বলব না যে শতভাগ ঠিক হয়ে গেছে, পরিবর্তন আসছে। গতকাল একটি পরিপত্র জারি করেছি। যে সমস্ত উপজেলায় যেসব চিকিৎসক দেরিতে যাবে এবং আগে চলে আসবে তাদের দুর্গম এলাকায় বদলি করা হবে। ১০০ দিনের কর্মসুচির আওতায় এই প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়েছে। মাসখানেক হল একশ দিনের কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল পদায়ন ও পদোন্নতি কমিটিকে সাথে নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেহেতু বায়োমেট্রিকমেশিনে উপস্থিতি নেয়া হচ্ছে, তাতে কে কোন সময় উপস্থিত হচ্ছেন তা আমাদের নজরে চলে আসছে। যারা দেরিতে যাওয়া এবং আগে বের হয়ে যাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন না, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দুর্গম এলাকায় বদলি করা হবে। চাকুরিস্থলে বসবাসের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি নিয়ে বলেছেন। বিষয়টি সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
রাউজান: উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফিল্ড ট্রেনিং সেন্টারে দায়িত্বরত প্রত্যক ডাক্তার থাকেন শহরে। দেরিতে এসে চলে যান নির্ধারিত সময়ের আগে। গতকাল সকাল সাতটা থেকে সরেজমিন দেখা গেছে, কনসালটেন্টে (গাইনি) বিভাগে বসা ডা. জেবুন্নেছা কেয়া আসেন সকাল সোয়া দশটায়। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। কনসালটেন্ট (সার্জারী) বিভাগে মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন আকতার আরজু ও ডা. নিশাত আসেন দশটার পর। জুনিয়র কনসালটেন্ট বিভাগের ডা. এসএম ইকবালও আসেন দশটার পর। হাসপাতালের ই.পি.আই টেকনেশিয়ান মো. হারুন ৮ টা ৪০মিনিটে আসেন। তার সঙ্গে আসা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমান হাজিরা দিয়ে চলে যান। সকাল ৯টায়ও ল্যাব বিভাগ বন্ধ থাকায় পরীক্ষা করাতে আসা রোগীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। ১০টার পর পাওয়া যায় হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এক আরএমও’কে। ছিলেননা কাউন্সিলিং কক্ষের ডা. শুভাশিষ দাশও। তবে জরুরি বিভাগের ডাক্তার মুমিনুল হক, মেডিকেল এসিসটেন্ট ডা. জোবায়েত চৌধুরী, তার সহকারী এবং প্রসুতি বিভাগের কয়েকজন নার্স হাসপাতালে ছিলেন। বর্হিবিভাগের ডাক্তারদের গতকাল মঙ্গলবার সকাল দশটা-সোয়া দশটার আগে পাওয়া যায়নি। ডা. মুমিনুল হক বলেন ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তিনদিনের ছুটিতে আছেন। আরএমও রাত্রীকালীন ডিউটি করবেন, তাই তিনি একটু দেরিতে আসছেন।’ কাউন্সিলিং কক্ষের ডা. শুভাশিষ দাশ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ছুটিতে আছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন ‘একটু উনিশ-বিশ আছে। ওখানে পরিবার নিয়ে থাকার মতো জায়গা ও পরিবেশ না থাকায় চিকিৎসকরা শহরে থাকেন।
সীতাকু-: অধিকাংশ ডাক্তারই নির্দিষ্ট সময়ের পরে এসে সময় শেষ হবার আগেই চলে যান। এমনকি খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও নিয়ম মেনে হাসপাতালে অবস্থান করেন না। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকদের না পেয়ে হতাশ হন রোগিরা।
সরেজমিনে সকাল ৮টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তবে জরুরি বিভাগে ও নার্সের কক্ষে কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সরা ছিলেন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর চিকিৎসকরা এলেও সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসেছিলেন। কিন্তু যাবার বেলায় তাড়া দেখা গেছে সব চিকিৎসকের। তবে চিকিৎসা মোটের উপর ভালো বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন ভর্তি হওয়া রোগি ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে দুয়েকটি ঔষুধ ছাড়া সবই কিনতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. আবদুল মজিদ ওসমানী বলেন, বদলি, ডেপুটেশন এবং শূণ্য পদ থাকার কারণে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। তবে ওষুধ না দেয়া এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকরা চেম্বারে না বসার বিষয়ে তিনি সদুত্তোর দিতে পারেননি।
বোয়ালখালী: গতকাল সকাল সোয়া ৮টা। হাসপাতালের বহিঃবিভাবের নতুন ভবনের গেইটটিও খোলা হয়নি। ৯টায় খোলা হল টিকেট কাউন্টার। আরো ১০মিনিট পর কাজ শুরু করলেন। ততক্ষণে কাউন্টারের সামনে ২০-২৫জনের লাইন। টিকেট পাওয়ার পর চিকিৎসকের জন্য আরো আধঘন্টা অপেক্ষা। কিন্তু দুুপুর ২টার আগেই দুইজন মেডিকেল অফিসার ছাড়া বাকিরা অফিস ত্যাগ করেছেন। এমন চিত্র দেখা গেল বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এবিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিল্লুর রহমানের অফিসে গেলে অফিসের পিয়ন জানান, স্যার ঢাকা ট্রেনিং এ আছেন। এরপর তাঁর সেলফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
চন্দনাইশ: উপজেলা চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল ১০ জন চিকিৎসকের স্থলে ৯ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জনে ২ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। পদশূণ্য থাকা, ছুটি, এবং ডেপুটেশনে অন্যত্র থাকার এই করুণ দশায় পড়েছে হাসপাতালটি। সরেজমিন দেখা যায়, ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করেন। অপর ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রাশেদ ৩ দিনের ছুটিতে রয়েছেন বলে তিনি জানান। ১১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ডা. মঈন উদ্দিন চৌধুরী সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে আসেন। অপরদিকে জোয়ারা-হারলা কমিউনিটি সেন্টারের ডা. নুসরাত জাহান জরুরি বিভাগে সপ্তাহে একদিন দায়িত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্য চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকায় চন্দনাইশে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রাশেদ কোন রকম সদোত্তর দিতে পারেন নাই। এদিকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. সাইফুদ্দিন মাহমুদ ও ডা. উম্মে রেহনুমা তারানুম অনুপস্থিত ছিলেন। বাকিরাও যথাসময়ে হাসপাতালে আসেননি। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব বলেন, ডা. সাইফুদ্দিন মাহমুদ ছুটিতে রয়েছেন, ডা. উম্মে রেহনুমা তারানুম সকালে এসে শারীরিক অসুস্থতার কারণে চলে গেছেন।
হাটহাজারী: সকাল সাড়ে আটটা। তখনো তালা খোলা হয়নি উপজেলা হাসপাতালের অনেক কক্ষের। সকাল ৯টা থেকে আউটডোরে রোগী দেখা শুরু করেন চিকিৎসকরা। বেলা পৌনে একটার দিকে হঠাৎ ফাঁকা হয়ে যায় হাসপাতালের বহি:বিভাগ। কারণ এরপর চিকিৎসকরা আর অবস্থান করেন না। রোগীরাও বিষয়টি ভালভাবে জানেন। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায় হাসপাতালের এক্সরে রুম (৬২ নম্বর কক্ষ) ছিল তালাবদ্ধ। দেখা যায়নি মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ( রেডিওগ্রাফার) মিথুন লালাকে।
টিএইচও ডা. ইমতিয়াজ জানান, এক্সরে মেশিন নষ্ট থাকায় এবং রেডিওলজিস্ট পদ না থাকায় রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং কক্ষ বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনিয় লোকবল দেয়া হলে চালু রাখা যাবে অপারেশন থিয়েটার। আর তাহলে ছোটখাট অপারেশনের জন্য হাটহাজারী তথা এ অঞ্চলের মানুষকে শহরে ছুটতে হবে না।
বাঁশখালী : উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন গড়ে ৭/৮জন। যারা আসেন তারাও দেরিতে এসে আগে চলে যান। সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে দালালের দৌঁড়াত্ম। ভর্তি থাকা গন্ডামারা রহমানি মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির ছাত্রী তছলিমাকে (১২) স্যালাইন পুশ করছেন একজন আয়া। অথচ একাজের দায়িত্ব নার্সের। বাঁশখালী হাসপাতালের (আর.এম.ও) ডাক্তার তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ডাক্তাররা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, সেবা খাতে অভিযোগ থাকবে। তবে রোগীরা ওষুধ পায়। বাঁশখালী হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্তার কামরুল আযাদ বলেন, আয়া দিয়ে স্যালাইন পুশ বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। আর দালাল তাড়াতে থানা পুলিশের সহায়তা ছাড়াও মাসিক মিটিংয়ে বলা হয়েছে।
পটিয়া: পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সহকারী সার্জন ডা. শাহ মঈন উদ্দিন চৌধুরী গত ২০১৩ সাল থেকে বিনা কারণে অনুপস্থিত। জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী চিকিৎসক কাজী ফারহানা নুর গত এক মাস ধরে অফিসিয়াল ছুটিতে। আইএমও ডা. পাপিয়া চক্রবর্ত্তী ৬ মাসের মাতৃত্ব ছুটিতে রয়েছেন। গাইনী বিভাগে আসা রোগীরা চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবাল সকাল ১০টার দিকে গাইনী বিভাগের সামনে বেশ কয়েকজন রোগীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত চিৎিসকের দেখা না পেয়ে তারা ফিরে গেছেন। হতাহতরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসকেরা তাদের চমেক হাসাপাতালে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ আছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও সহকারীদের দিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এ নিয়ে হাসপাতাল তাদের সাথে রোগীর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসকরা রোগীদের চেয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বেশি ভাগ সময় দিয়ে থাকেন। রয়েছে দালালের দৌঁড়াত্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু ইউসুফ মো. ওয়াহিদ উল্লাহ বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকলেও ওর স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন অপর্যাপ্ত রয়েছে। এক্সরে মেশিন ও ডেন্টাল যন্ত্রপাতি অকেজো। ব্লাড ব্যাংক রিফিরেজটারও নষ্ট।
ফটিকছড়ি: উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য রোগির ওষুধ, পথ্য সবই সরবরাহ থাকলেও লোকবল নিয়োগ নেই। কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, গুরুতর কারণ ছাড়াই রোগীদের চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, জরুরি বিভাগে তারা জরুরি ইনজেকশন সরবরাহ নেই। তাই কিছু গুরুতর রোগীকে চমেকে রেফার করতে হয়। এবছর ৮৬ লাখ টাকার ওষুধ সরবরাহ পেলেও রোগীরা ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ডা. শাখাওয়াত তা অস্বীকার করেন
মিরসরাই: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মাস্তান নগর হাসপাতাল) সেবার মান আগের থেকে উন্নত হয়েছে। তবে নিয়মিত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে বর্হিবিভাগে রোগীরা এতদিন ভোগান্তির শিকার হলেও সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের কড়াকড়ির দরুন কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল সকালে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়োজিত ১৬জন চিকিৎসকের মধ্যে ছুটিতে থাকা গাইনি কনসালটেন্ট ছাড়া সকলেই উপস্থিত ছিলেন। এই উপজেলায় ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩১ বেডের উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ নুরুল আবছারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
রাঙ্গুনিয়া: উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালটির ভবন ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কক্ষে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়েছে পলেস্তরা। দীর্ঘদিন ধরে অবেদনবিদ না থাকায় হাসপাতালে শল্যচিকিৎসা হচ্ছেনা। নষ্ট হয়ে গেছে এক্স-রে যন্ত্র। আবাসিক মেডিকেল অফিসার নেই। ৫ টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য। রোগ নিরাময়ের কেন্দ্রটি এখন নিজেই মুমূর্ষু। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ডেন্টাল ইউনিট চেয়ার নষ্ট থাকায় দন্ত চিকিৎসাসেবা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। নারী ও শিশু ওয়ার্ডের অনেক বেডে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমিনুর রহমান বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নারী, শিশু, ল্যাবরেটরী, জরুরি বিভাগ ও প্রশাসনিক ভবনের কক্ষগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী পূর্বকোণকে বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলিতে যথাসময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং অবস্থান করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। বায়োমেট্রিক মেশিনে উপস্থিতির সব তথ্য এসে যাচ্ছে। যারা এখনো সংশোধন হয়নি আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের দুর্গম এলাকায় বদলি শুরু হবে।

Share
  • 6
    Shares