নীড়পাতা » প্রথম পাতা » আস্থা নেই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায়

রোগীর চাপে বেসামাল চমেক হাসপাতাল

আস্থা নেই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায়

ইফতেখারুল ইসলাম

বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগীর স্রােত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দিকেই ছুটছে। মূলত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যথাসময়ে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও আন্তরিকতার অভাব, রোগ নির্ণয়ে টেকনেশিয়ান এবং যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে মানুষ ঘরের কাছের হাসপাতাল ফেলে শহরের আসছে। এতে গ্রামের রোগীদের সময় ও অর্থ দুটোই অতিরিক্ত ব্যয় হয়। অপরদিকে চমেক হাসপাতালে সবসময় অনুমোদিত শয্যার তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় রোগীর স্বজন। প্রতিনিয়তই হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ভিড় করে। যাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও বেশির ভাগ সময় সিট খালি থাকে না।
চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৫৭ সালে যাত্রা করা এ হাসপাতালে বর্তমানে ৪৫টি ওয়ার্ড, ৪৮টি বিভাগ এবং ১৫টি বহির্বিভাগ আছে। হাসপাতালে বর্তমানে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা এক হাজার ৩৪৮টি। প্রতিনিয়তই এখানে ভর্তি থাকে দুই হাজার ৫০০ থেকে ৮০০রোগী। গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকে। ভর্তিকৃত প্রতিটি রোগীর সঙ্গে থাকে তিন থেকে চারজন করে স্বজন। তাছাড়া প্রায় ১৫টি বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার রোগী সেবা নেন। এ বিভাগেও প্রতি রোগীর সঙ্গে থাকে এক থেকে দুইজন করে। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালে হাজারো রোগী-স্বজন এর সঙ্গে থাকে নানা প্রকারের যানবাহন। তাছাড়া সবার ব্যবহৃত উচ্চিষ্টসহ নানা বর্জ্য তো থাকেই। ফলে নোংরা হয় হাসপাতালের পরিবেশ।
চমেক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, উন্নত বিশ্বে একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে রোগীর সাথে স্বজনদের আসাটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীর সেবা দিতে আসা স্বজনও নানা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হন। অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে নিয়মিত বাগ্বিত-া হচ্ছে। কেউ কেউ বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন। অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এসব এড়াতে বিষয়টির প্রতি সবার সতর্ক থাকা উচিত।
চমেক হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, চমেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার তুলনায় তিনগুণ বেশি রোগী, রোগীর সঙ্গে স্বজন, বহির্বিভাগের রোগী এবং রোগীর স্বজন, সব মিলে এই হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসে। একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজনই যথেষ্ট। এ জন্য নানা প্রক্রিয়া হাতে নিয়েও স্বজনদের ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই এখন রোগীর সেবার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের নিয়ন্ত্রণ করাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে একে একে মডেল হাসপাতালে রূপান্তর করা গেলে রোগীর চাপ ধীরে ধীরে কমে আসতো। তিনি বলেন, একেকটি উপজেলা হাসপাতাল থেকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে গেলে রোগী এবং স্বজনরা চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। তখন দেখা যাবে মানুষ শহরে না ছুটে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাবে। এতে রোগীর সময় এবং অর্থ দুটোই বাঁচবে। অপরদিকে চমেক হাসপাতালের ওপরও চাপ কমবে।

Share
  • 1
    Share