নিজস্ব সংবাদদাতা , সাতকানিয়া

সাতকানিয়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে এক গৃহবধুকে শরীরে অকটেন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে পাষ- স্বামী। গৃহবধু হলেন, তছনুর আকতার সুমি (২২)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কেরানীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু বর্তমানে চমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধুর ছোট ভাই বাদি হয়ে ঘাতক স্বামীকে একমাত্র আসামি করে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্বামী সিএনজি টেক্সি চালক রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাতক স্বামী রবিউল ইসলামের ফুফু ছকিনা খাতুন (৬০) স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশকে বলেন, গত সোমবার সকালে আমার ভাইপো রবিউল ইসলাম তার স্ত্রীর কাছ থেকে সিএনজি চালিত ট্যাক্সির কাগজপত্র কোথায় রেখেছে সেগুলো দিতে বলে। কিন্তু স্ত্রী কাগজগুলো তার কাছে নাই বললে উভয়ের মধ্যে কয়েকবার তর্কাতর্কি হয়। সর্বশেষ ঘটনার দিন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রী সুমি তার রুমে খাটের মধ্যে শুয়ে থাকে। এসময় স্বামী রবিউল আবারও স্ত্রীর কাছে কাগজগুলো কোথায় জিজ্ঞেস করলে সে (স্ত্রী) তার কাছে নাই বলে। পরে রবিউল ক্ষীপ্ত হয়ে বলে, তোর মত মেয়েকে পুড়িয়ে মারলে কি হয় দেখি। তখন স্ত্রী সুমি হাতে থাকা ছুরি নিয়ে স্বামীকে মারতে উদ্যত হয়। পরে পাড়ার লোক গিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নেয়। স্বামী রবিউল ক্ষীপ্ত হয়ে ঘরের উঠানে রাখা সিএনজি চালিত ট্যাক্সি থেকে অকটেন নিয়ে এসে খাটের মধ্যে শুয়ে থাকা স্ত্রীর গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় স্ত্রী সুমির গায়ে আগুন লেগে তার পরনে থাকা কাপড়, খাট ও ঘরের মধ্যে আগুন লেগে যায়। পরে সুমি চিৎকার করে শরীরে লাগা আগুন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়লে ঘরের উঠানে থাকা শরীরে লাগা আগুনে একটি খড়ের গাদা পুড়ে যায়। পরে স্ত্রী পার্শ্ববর্তী পুকুরে লাফ দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঘর ও খড়ের গাদার আগুন নিভিয়ে ফেলে। আগুনে ঘরের কিছু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে সুমিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলার সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল, অবস্থার অবনতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে গৃহবধুর বাবা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের উত্তর ছদাহা উখিয়ারকুল সর্দার পাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক বলেছে, আমার মেয়ের শরীরের শতকরা ৬০ভাগ পুড়ে গেছে। সে বাঁচবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে মেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমার ছেলে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল কবীর বলেন, সিএনজি চালিত ট্যাক্সির কাগজ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ায় স্বামী তার ট্যাক্সি থেকে অকটেন নিয়ে স্ত্রীর গায়ে ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গৃহবধুর ছোট ভাই মো. রিয়াদ হোসেন বাদি হয়ে স্বামীকে একমাত্র আসামী করে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘাতক স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Share
  • 3
    Shares