মরিয়ম জাহান মুন্নী

কেউ কিনছেন। কেউ দেখছেন। প্রত্যেকটি বইয়ের স্টলে বইপ্রেমীরা। বেশীরভাগই শিক্ষার্থী। রয়েছে শিশুদের উপস্থিতিও। মা-বাবার সাথে আগমন তাদের। প্রায় সব বয়সের মানুষের সমাগম। এক কথায় বেশ সরগরম চট্টগ্রাম বই মেলা। বিকেল ৫ টার চিত্র এটি। সিজেকেএস জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বই মেলা লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও দর্শকদের এযেন এক মিলন মেলা। মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে বড় বড় প্লে-কার্ড। যেগুলোতে লেখা আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, প্রমথ চৌধুরী ও বেগম সুফিয়া কামালসহ কবিদের কিছু বাণী। গতকাল ছিল মেলার তৃতীয়দিন।

দর্শনার্থীদের ভীড় দেখে বুঝাই যায় বেশ জমে উঠেছে বই মেলা। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা বন্ধু-বান্ধবী মিলে দলে দলে আসছেন। বাবা-মার হাত ধরে আসছেন ছোট শিশুরা। তাদেরও আগ্রহের শেষ নেই। সবাই কিনে নিচ্ছেন তাদের পছন্দের বই। সব মিলিয়ে মুখরিত পুরো অঙ্গন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে উপলক্ষে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশকদের অংশগ্রহণে এই প্রথম বৃহৎ পরিসরে অমর একুশে বইমেলা’১৯ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। । ৮০ হাজার ৩শ বর্গ ফুটের মেলায় বইয়ের দোকান ১১০টি। তন্মধ্যে ঢাকার আছে ৬০টি, চট্টগ্রামের ৫০টি দোকান। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় করে দেয়া হয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থার জন্য সি সি ক্যামেরার আওতায় সম্পূর্ণ মেলা। মেলায় পরানো বই ছাড়াও এসেছে কিছু নতুন বই। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে প্রকাশিত এবারের নতুন বইগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য বই কাজী সাইফুল ইসলামের লেখা ‘জনকের জীবনগাথা’, ওবায়দুল কাদেরের ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ, অন্যান্য’, শেখ হাসিনার‘ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’ এবং মফিজ চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায়’ডা. মাহফুজুর রহমানের ‘ধানমন্ডী থেকে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি। এদিকে চট্টগ্রামের প্রকাশনী গুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো বাতিঘর, আহমদ পাবলিশিং হাউস, আপন আলো, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, দাঁড়িকমা প্রকাশনা, অমর একুশে বই মেলা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট-চট্টগ্রাম, কারেন্ট বুক সেন্টার, রাদিয়া প্রকাশনা, শালিক প্রকাশন, পূর্বা প্রকাশন, বলাকা, গাজী প্রকাশনী ও বিদ্যানন্দ, শব্দশিল্প প্রকাশন, রঙ পেন্সিল পাবলিকেশন, মনন প্রকাশনসহ আরো বিভিন্ন বইয়ের স্টল।
ঢাকার প্রকাশনা গুলোর মধ্যে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, কথাপ্রকাশ, অনিন্দ প্রকাশন, নাওরোজ প্রকাশন, রিমঝিম, বাবুই প্রকাশন, কুড়েঘর প্রকাশনী ও আহমেদ বুক হাউজসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার স্টল। দোকানগুলোতে রয়েছে এবছরের নতুন বিভিন্ন বই।
আপন আলোতে আলাপ হয় লেখক শামসুদ্দীন শিশির এর সাথে। তিনি বলেন, এর আগেও আমার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। এবারেও কিছু নতুন বই নিয়ে এসেছি ‘শিক্ষক অভিভাবক সমীপে, জনগোষ্ঠীর পরিচয়, ছোটদের অনুপম সেন, একীভূত শিক্ষা ও বীরশ্রেষ্ঠদের কথা। স্টলে রয়েছে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের ‘আমার ভালোবাসার উপন্যাস’ ‘আমার প্রেমের উপন্যাস’ ‘আমার বিরহের উপন্যাস’,। তরুণ লেখকদের মধ্যে রাকিব হাসানের গোয়েন্দা সমগ্র, আতিকুল ইসলামের ‘অর্ধমানব’ জি এম তারিকুল ইসলামের ‘আলোকিত নেত্রী শেখ হাসিনা’, অসীম চট্টোপাধ্যায় অনুদিত ‘চে গুয়েভারার ডায়েরী’ মীর-মানসের ‘ মীরমানস’ বীর বিপ্লবী ‘সূর্য সেন’ রেজাঊল করিমের ‘মায়া সভ্যতা’ সায়েন্স ফিকশনের বই মুহাম্মদ মনিরুল হুদা ‘হ্যালসিয়ান’, জেসমিন আক্তার ‘ছায়াবৃক্ষ’, ইকবাল খন্দকারের ‘ অভিশাপ্ত স্টেশন’, ‘মরাবাড়ির আত্মা’,। এছাড়াও শিশুদের জন্য নতুন নতুন অনেক বই। যেমন শিশু কানন ‘এসো গল্প করি, জাইমের লালঘুড়ি, একটি প্রজাপতি দিনের জন্য, লালনকে কে বাঁচাবে, ধ্রুপদী নায়িকাদের কয়েকজন, এপিটাফ, তুলতুলি ও পরি, আঙুল কেটে আড়ি, ভুতের কবলে ঠাকুরদাদা ইত্যাদি।
বই মেলায় আসা কামাল খন্দকার বলেন, বই মেলায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন তিনি, এরিমধ্যে বাচ্চাদের জন্য কিনেছেন কিছু গল্পের বই। নিজের পছন্দের কিছু বইও নিয়েছেন। এই প্রথম চট্টগ্রামে এমন মেলায় তিনি অনেক খুশি। কারণ বই মেলা নতুন নতুন বই আসে যেগুলোর জন্য আমাদের অনেকে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু এখন আমাদের শহরেই প্রতিবছর এমন হলে আর যেতে হবে না। কথা হয় বই স্টলের দোকানির সাথে। তারা জানান বিকেল চারটার পর থেকেই মেলায় খুব ভীড় হয়। সব বয়সের মানুষের পাশাপাশি বাবা-মার সাথে আসছেন শিশু-কিশোররা। তাদের পছন্দের তালিকায় গল্পের বই, বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন বই কিনছেন।

Share
  • 10
    Shares