আবসার হাবীব

ভালোবাসা ও প্রেমিক যুগল ……
প্রেমিক যুগল দেখলে কিংবা ভালোবাসার পাখি দেখলে কারো হয়তো মন আনচান করে উঠে। কারো হয়তো মন খুলে গান করতে ইচ্ছে করে। কারো হয়তো প্রিয়-প্রিয়তমাকে নিয়ে কেবলি ছুটতে ইচ্ছে করে। ভালো খেতে। কিংবা একান্ত নিভৃতে সময় কাটাতে। এই সুযোগটুকু এনে দিয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভ্যালেন্টাইনস ডে।
অন্য কোনো ছবির চেয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’র এই ছবি দেখে প্রিয়তম মানুষের কথা বার বার মনে পড়বে। হয়তো আপনার অন্তত এই একটি দিন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছে করবে, কিন্তু সেই সময় তো আপনার নেই – চাকরী-সংসার সব মিলিয়ে। তারপরও, বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় একটি ফুল কিংবা অন্যরকম একটি বিকেল উপহার দিন আপনার ভালো লাগবে। তরুণ-তরুণীর জন্য আজকের দিনটি মুক্ত হাওয়ায় বিচরণের জন্য একটি উৎসব মুখরদিন।
ভ্যালেন্টাইনস ডে ……..
১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে। মানে ভালোবাসবার দিন। এ দিনের একটি ছোট্ট করুণ কাহিনী আছে। এখানে পাঠকের জন্য উদ্ধৃত করা হলো : খ্রিষ্টীয তৃতীয় শতকে ইতালীর রোম শহরে ভালোবাসার জন্য প্রাণ দিয়েছিল ভ্যালেন্টাইন নামের এক যুবক। ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, সেই থেকে শুরু। ষোড়শ শতকে এসে এত যুক্ত হলো আধুনিকতা। প্রথমদিকে তামার পাত বা কাঠের ফলকে খোদাই করে প্রিয়জনকে জানানো হতো মনের কথামালা। সেটা এখন ভায়া কার্ড হয়ে ই-মেইল, ইন্টারনেটে এসে ঠেকেছে। তবে, এখন এই দিন প্রতীক বা রূপক মাত্র, ভালোবাসাবাসির ভুবনে নিত্যই ভ্যালেন্টাইন ডে।
বিজ্ঞানীরা অবশ্য হৃদয়ের ভালোবাসাকে একদম স্বীকার করেননি। বলেছেন, এর জন্য দায়ী আসলে কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থ। ডোপামিন, নরত্রপিনেফরিন এবং ফিনাইল ইথাইল অ্যামিন। যখন কাউকে দেখে মনে হয় ‘এই তুমি কি সেই’। তখনই ফিনাইল ইথাইল অ্যামিনের জগতে সাইরেন বেজে ওঠে। তখন শরীর জুড়ে শুরু ভালোবাসার কাঁপুনি, উত্তেজনায় দেহ কাঁপে থরথর করে। তবে এর শুরু আছে শেষ নেই। এটা একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া, সুতরাং আবেগের ঝড় একসময় থেমে যায়। আমাদের শরীরও ফিনাইল-ইথাইল অ্যামিনের দরকার পড়ে আগের সেই নির্মল আনন্দকে উপভোগ করার জন্য তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রেমকে দীর্ঘায়িত করার জন্য মস্তিষ্ক তৈরি করে এনডরফিন নামের আরেক জৈব পদার্থ। যা মানবের মনে দেয় প্রশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিরতা। গবেষকদের ধারণা অক্সিটোসিন নামের আরেকটি জৈব রাসায়নিক পদার্থের সাথে প্রেমের রয়েছে বেশ জোরালো যোগ-সাজ। অক্সিটোসিনকেই তারা দায়ী করেছে যৌন উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য। গবেষক ও বিজ্ঞানী যে ব্যাখ্যা দিক আমরা জানি ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক / আজ বসন্ত।’ আসছে ভালোবাসার দিন।
রবীন্দ্রনাথ ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন অনন্ত অনুভবের মাঝে ‘আমরা যাহাকে ভালবাসি কেবল তাহারই মধ্যে অনন্তের পরিচয় পাই। এমনকি জীবনের মধ্যে অনন্তকে অনুভব করিবার অন্য নাম ভালবাসা।’
ভালোবাসার স্মৃতি ……..
ভালোবাসার স্মৃতি এখন ফুল আর ফুল। একসময় হাতে করা সূঁই-সুতা-উল দিয়ে কাপড়ের উপর বিভিন্ন ধরনের যুগল পাখি, ফুল, প্রবাদ-প্রবচন লেখা ঘরে ঘরে শোভা পেতো। কিংবা প্রিয়জনের রুমালের কোণায়, বালিশে। কাজগুলো বেশ মজার এবং বাণী মনের গভীরে আলোড়ন তোলার মতো। এখন সে জায়গা দখল করেছে বিভিন্ন ধরনের শো-পিস। কাঁপা কাঁপা হাতে ভালোবাসার দিন শেষ। এখন সরাসরির যুগ। এখন ভালোবাসা গ্রহণ করতে যেমন তাড়াহুড়া, আবার ভাঙে হুট করে। অনেকটা বিনা নৌটিশে।
প্রেমিকার স্মৃতি বা সম্পর্ক বোঝানোর জন্য মধ্যযুগে বীরযোদ্ধারা রুমালের কোণায় রিবন বা লেইসের কারু কাজ করা সঙ্গে রুমাল রাখার প্রচলন ছিল। অনেকে মনে করেন এর ধারাবাহিকতায় ভালোবাসার ‘হার্ট-শেপড’ কার্ডের প্রচলন হয়। এসথার এহল্যান্ড নামের এক ব্রিটিশ মহিলা আধুনিক ভ্যালেণ্টাইন কার্ডের রূপকার ছিলেন। এখন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নানান রঙের নানান বর্ণের কার্ড উপহার দেয়ার জন্য কিংবা সংগ্রহে রাখার জন্য চমৎকার চমৎকার সব কার্ড পাওয়া যায়।
পুনশ্চ : ভালোবাসার দিনের কবিতা ……..
ভালোবাসা দিনের জন্য কিছু কবিতা এখানে টুকে দেয়া হলো, যা আপনার এবং প্রিয়তমের ভাবনার সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। কিংবা এইসব কবিতা থেকে কয়েক পংক্তি নিয়ে প্রিয়, প্রিয়তমকে পাঠাতে পারেন এসএমএস, সুন্দর ছবি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, একটি কার্ড, কিংবা চিঠিতে তুলে দিতে পারেন দুয়েকটি পংক্তি। দু’জনের ভালো লাগবে। তবে প্রিয় বা প্রিয়তমা কি চায় তা বুঝতে হবে, না হলে বিপদ। অন্তরকে অন্তর দিয়ে বুঝতে হবে। জানতে হবে। ভালোবাসায় বাঁধতে হবে।
১. যখন তোমাকে দেখি
তার চেয়ে বেশি যখন দেখি না।

২. কি ছিলো তোমার চোখে,
ফেরাতে পারি নি চোখ বহুদিন।
যেন দিগন্তের দিকে, মাথার
উপর দিয়ে
কোন স্থির অচঞ্চল জলস্রোতে
তাকিয়ে রয়েছো, মনে হ’তো।

৩. করুণা করেও হলে চিঠি দিও,
খামে ভরে তুলে দিও
আঙুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়,
বেশী হলে কেটে ফেলো তাও,…
মিথ্যা করেও হলে বলো,
ভালোবাসি।

৪. তোমাকে লিখিনি চিঠি –
খাম ছিঁড়লে
চাপা ঠোঁট খুলে যাবে,
ছোট্ট তিলে কেঁপে উঠবে
ক্ষতিগ্রস্ত এলাচের ঘ্রাণ;
কখনো দেইনি ফুল জন্মদিনে –
ফুলের ঈর্ষার হাত
বড়ো বেশি ¯িœগ্ধ হয়ে যাবে …

৫. তোমার মধুর শিষে ঘুমভাঙে
প্রভাতের সুর্যোদয় দেখি,
তোমাকে দেখি না,
তাকে, যাকে আমি ভালোবাসি
অনন্ত তৃষ্ণায়,
কাছে এলে বড়ো কষ্ট
দূরে গেলে আরো কষ্ট পাই।

Share