কায়সার হামিদ মানিক , উখিয়া

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে ফের মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় শিশুসহ ২৭ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। রোববার মধ্যরাতে শাহপরীরদ্বীপ খুরেরমুখ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় দালাল চক্রের কোনো সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১০ নারী, ১১ শিশু এবং ১ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই কুতুপালং এবং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক আছাদুজ্জমান চৌধুরী এই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ খুরেরমুখ নামক স্থানে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য উত্তর লম্বরি পাহাড়ে কিছু রোহিঙ্গাকে জড়ো করা হয়েছে এমন তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। খুরেরমুখে বিজিবির অস্থায়ী চেকপোস্টের হাবিলদার মো. তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল এসব রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসবাদে রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ট্রলারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অধিনায়ক আছাদুজ্জমান চৌধুরী আরও জানান, অনিরাপদ জেনেও রোহিঙ্গারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে দালালের সহযোগিতা নিচ্ছেন। তবে কোন দালালের মাধ্যমে তারা যেতে এখানে এসেছেন তা কোনোমতেই স্বীকার করেননি। উদ্ধার হওয়া ৩ নারী, ৪ জন শিশু এবং একজন পুরুষসহ ৮ জন বালুখালী ক্যাম্পের। বাকি ৬ নারী এবং ৮ শিশুসহ ১৪ জন কুতুপালং ক্যাম্পের আশ্রিত রোহিঙ্গা। পরে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির এ অধিনায়ক।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেও মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফের পৃথক তিন স্থান থেকে ২ দালালসহ ৫০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছিল বিজিবি। তারাও টেকনাফ, উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পের আশ্রিত রোহিঙ্গা।
এদিকে একই দিন উখিয়ায় পুলিশ রাজাপালং ইউনিয়নের উত্তর পুকুরিয়া গ্রামের মৃত নুরুল কবিরের বাড়ি থেকে ৫ মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে। শনিবার রাতে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের উদ্ধাররা হচ্ছে, রহিমুল্লার ছেলে জহির (১৮), গুরা মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (১৯), নুরুল হকের ছেলে মো. হাসান (৩০), আলী আহম্মদের ছেলে নুরুল আমিন (১৯) ও নুর মোহাম্মদের মেয়ে মনোয়ারা বেগম (২০)।
জানা গেছে, উপকূলীয় ইউনিয়নের ইনানী গ্রামের ছলিমুল্লাহ মেম্বারের ছেলে মো. সোয়েব উদ্ধারকৃতদের মালয়েশিয়া পাচারের লক্ষে তার বোন পারুলের বাড়িতে জড়ো করে রেখেছিল। উল্লেখ্য, গেল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উখিয়া থানা পুলিশ সোনারপাড়া ডেইল পাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের বাড়ি থেকে ২০ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু উদ্ধার করেছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, উদ্ধার রোহিঙ্গাদের উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হবে।

Share