আরফাতুল মজিদ , কক্সবাজার

কক্সবাজার শহরে জেলা প্রশাসনসহ দুদকের অভিযানের পরও থামছে না পাহাড় কাটা। দিনের পর দিন ভয়াবহ আকার ধারণা করেছে পাহাড়কাটা। একদিকে অভিযান চললেও অন্যদিকে চলছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার রমরমা কারবার। প্রশাসনের অভিযানকে তোয়াক্কা করছে না পাহাড়খেকোরা।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে ডাম্পারের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটিগুলো বিক্রি করছে। পাহাড় কেটে ভরাট করছে নিচু এলাকাও। বরাবরের মতোই প্রশাসনকে এড়িয়ে চলছে এরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিলংজা পাওয়ার হাউজস্থ দক্ষিণ হাজীপাড়া (খাদ্য গুদামের পিছনে) এলাকায় পাহাড়কাটা চলছে। বিশাল একটি পাহাড় ইতোমধ্যে অধিকাংশ সাবাড় করা হয়েছে। বিশাল পাহাড়টি কেটে ডাম্পার নিয়ে মাটিগুলো বিক্রি করছে তারেক আরমান নামে এক ব্যক্তি। আরমানের নেতৃত্বে দক্ষিণ হাজী পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি চলছেই বলে সেই এলাকায় জনশ্রুতিও রয়েছে। নিচু এলাকা ভরাটের কন্ট্রাক্ট নিয়ে বিশাল পাহাড়গুলো সাবাড় করলেও আইনের আওতায় আসেননি তিনি। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরে দুদকের পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযানের সময় পাহাড়কাটা বন্ধ করে দেয় আরমান। দুদকের অভিযান কিছুটা স্থগিত থাকায় গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়কাটা আবারো শুরু হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ে সৃজিত বড় বড় গাছও উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এখনো বেশ কয়েকটি গাছ পাহাড়ের ওপর পড়ে আছে।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক আরমান বলেন, বেশি পাহাড় কাটা হচ্ছে না। অল্প করে পাহাড়ের মাটি নেওয়া হচ্ছে কবরস্থান ভরাট করার জন্য। পাহাড়ের মাটি বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে কক্সবাজার লাইট হাউজস্থ ফাতের ঘোনার পাশেই মৌলভী পাড়া এলাকায় গত তিনদিন ধরে চলছে ভয়াবহরকমের পাহাড় কাটা। বিশাল পাহাড়ের একটি অংশ কেটে ইতোমধ্যে বাড়িও নির্মাণ করেছে। ইউসুফ নামে একব্যক্তি পাহাড়ি জায়গা ক্রয় করে বর্তমানে কাটা শুরু করেছে। আইয়ুব নামে একজন পাহাড় কাটার মাঝিকে চুক্তিভিক্তিক পাহাড়ের অংশটি কেটে সমান করার কন্ট্রাক্ট দিয়েছে ইউসুফ। নিয়মিত পাহাড় কেটে মাটিগুলো পাশের একটি নিচু প্লট ভরাট করছে আইয়ুব মাঝি। দৈনিক ৬ থেকে ৭ জন রোহিঙ্গা শ্রমিকের মাধ্যমে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। পাহাড় কেটে ঠেলাগাড়ি করে মাটিগুলো নিয়ে ভরাট করছে প্লটটি। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টার মধ্যে দৈনিক মাটি কাটার কাজ শেষ করে তারা।
জানতে চাইলে মৌলভী পাড়ায় তার কোনো জায়গা নেই বলে জানান ইউসুফ। তবে আইয়ুব মাঝি বলেন, জায়গাটি ইউসুফের। পাহাড় ধসে মাটিগুলো নিচে জমা হয়েছে। তাই ইউসুফের সাথে কথা বলে মাটিগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। এখানে তেমন পাহাড় কাটা হচ্ছে না।
এছাড়া কক্সবাজার সিটি কলেজস্থ গরুর হালদা এলাকায় চলছে পাহাড় কাটা। গরুর হালদা এলাকায় প্রায় তিনটি স্পটে সমানতালে চলছে পাহাড় কাটা। এই এলাকার পাহাড় কাটার মাঝি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বছরের পর বছর চলছেই পাহাড় কাটা। স্থানীয় জনৈক আতিক কোম্পানির প্রভাব খাটিয়ে মোহাম্মদ আলী পাহাড় কেটে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ফোরকান, মুবিন, শামিম, আমিন ও রহিম নামে একাধিক ব্যক্তির দখলে থাকা পাহাড় কেটে মাটিগুলো বিক্রি করে যাচ্ছে মোহাম্মদ আলী।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুল হাসান পূর্বকোণকে বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধ করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় অভিযান চালিয়ে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তারপরও অনেকেই গোপনে পাহাড় কেটে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ে এসব পাহাড় কাটার স্পটে অভিযান চালিয়ে মামলা দায়ের করা হবে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পাহাড় কর্তনকারী ও সরকারি পাহাড় বিক্রিকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। যেকোনো উপায়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। শহরের পাহাড় কাটার স্পটগুলোতে দ্রুত সময়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share