নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » আলোকিত সত্তা ঃ হযরত ছৈয়দ চাঁদ শাহ (রহ.)

আলোকিত সত্তা ঃ হযরত ছৈয়দ চাঁদ শাহ (রহ.)

বাংলাদেশে ইসলামের পবিত্র ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যে সকল অলি-আউলিয়া, সুফী-দরবেশ এসেছিলেন তন্মধ্যে হযরত শাহসুফি আল্লামা ছৈয়দ চাঁদ শাহ (রহ.) এর পূর্বপুরুষ ও ছিলেন। সম্ভবত সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে ইরাক থেকে তিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর গ্রামে আসেন। তিনি প্রথমে পূর্ব রাউজান রাবার বাগানের গহীন জঙ্গলে এক টিলায় রেয়াজত সাধনা করতেন। সে সময় বিভিন্ন হিংস্র জন্তু-জানোয়ারেরা উনার কাছাকাছি থাকত। ঐ টিলা এখন হযরত চাঁদ শাহ টিলা নামে পরিচিত। পরবর্তীতে কোন এক সময় তিনি বর্তমান ভিটায় আগমন করেন।
তাঁর বাড়ির সম্মুখস্থ বড় দীঘিটিও বর্তমানে হযরত চাঁদ শাহ (রহ.) দীঘি নামে পরিচিত। হযরত চাঁদ শাহ (রহ.) একজন উঁচু স্তরের দরবেশ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন আল্লামা ও ইসলামের প্রচারক। যেহেতু কদলপুর এলাকায় তৎকালে অনেক হিন্দু, বড়–য়া এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিল তাই অতি দায়িত্ব সহকারে এই মহৎ ব্যক্তিত্ব মানুষকে শরীয়ত, ত্বরিকত এবং সর্বোপরি ধর্মীয় সার্বিক বিষয়ে জ্ঞানদানের ব্যাপারে তৎপর ছিলেন। বিশেষ করে শুদ্ধভাবে কোরআন শরীফ তেলোয়াত, নামাজ, রোজাসহ আরো বিভিন্ন ব্যাপারে মানুষ ও এলাকাবাসীকে উৎসাহিত করতেন এবং সংলগ্ন খানকাতে দরস প্রদান মাহফিল অনুষ্ঠিত হত।
সবচেয়ে আশ্চর্য ও অলৌকিক ব্যাপার হল এই মহান অলি নিজ হাতে লিখে পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন কপি তৈরি করে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিতরণ করতেন। যার কপি তার উত্তরসুরীদের কাছে এখনো যত্ন সহকারে সংরক্ষিত আছে। তাঁর দরবার শরীফে প্রতিদিন ভক্ত, আশেকান এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন আসে নানা সমস্যা, রোগ-ব্যাধি, আশা, নিয়ত, মানত, দোয়া লাভ ও রূহানী ফয়েজ লাভের আশায়। আল্লাহ্র রহমতে অনেকেরই নিয়ত আশা পূরণ হচ্ছে। দরবারে আগত আশেক-ভক্তদের যারা বর্তমানে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আনজাম দিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে সাজ্জাদানশীন শাহজাদা ছৈয়দ মোক্তার শাহ (ম.জি.আ.) অন্যতম। পাশাপাশি সহযোগিতায় আরো আছেন শাহজাদা ছৈয়দ দিদারুল আলম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা ছৈয়দ মোকসুদুল আলম শাহ (ম.জি.আ.)।
মুশকিল কোশা, হাযত রওয়া হযরত শাহসুফি আল্লামা ছৈয়দ চাঁদ শাহ (রহ.) অসংখ্য কারামত জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পরেও প্রকাশ পাচ্ছে। হযরত চাঁদ শাহ (রহ.) কারামত সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে যে, ‘এই মহান আউলিয়া তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর নিজে মৃত্যুর দিন এলাকায় আপনজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং প্রচার আছে যে মৃত্যুর পর তিনি নিজের জানাজায় নিজেই ইমামতি করেন। ১৯৯৯ সালের দিকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে শাহজাদা সৈয়দ দিদারুল আলম প্রকাশ মিয়াকে স্বপ্নযোগে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয় যে, আমার পাকা মাজারের মধ্যে উঁই পোকা বাসা করেছে, তাতে আমার কষ্ট হচ্ছে।
তাই মাজার খুলে উঁই পোকার বাসা এবং তা পরিষ্কার করে দেয়া হোক।
হযরত চাঁদ শাহ (রহ.) নির্দেশমত ১৯৯৯ সালের ২৮ মে মাজার খুলে দেখা গেল ঠিকই মাজার শরীফের মধ্যে উঁই পোকার বাসা এবং তা পরিষ্কার করে দেওয়া হল।
এভাবে ২য় বারও উঁই পোকার উপদ্রব হলে পুনঃ নির্দেশে আবার ১৯৯৯ সালের ১৬ জুন উঁই পোকার বাসা পরিষ্কার করা হয় এবং স্থায়ীভাবে সুদৃশ্য মাজার নির্মাণ করা হয়। রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, মারফতের দীপ্ত প্রাণ হযরত শাহসুফি আল্লামা ছৈয়দ চাঁদ শাহ (রহ.)-এর মাজার রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের মীরবাগিচা এলাকায় প্রধান সড়কের সন্নিকটে অবস্থিত। এবার এ মহান সাধকের ১৯০তম বার্ষিক ওরশ উদ্যাপিত হচ্ছে। বার্ষিক ওরশে মানুষের ঢল, বর্ণাঢ্য আয়োজন, জৌলুস, ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্প, অস্থায়ী ক্যাম্প নিমার্ণ, পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা প্রভৃতি খুবই সুস্থ, সুন্দর ও মনোরম। আল্লাহ্তায়ালা আমাদেরকে এই আউলিয়ার রূহানী ফয়েজ লাভ করার সুযোগ করে দিক। -আমিন।

লেখক : সম্পাদক, তোহফায়ে রহমানিয়া

Share