আশিক বন্ধু

আমার কাধে হাত দিয়ে বলতো তখন- কেমন আছো? শব্দটি কানে বাজতে মনে হতো এটি কথা নয়, যেন সুর বাজছে। স্যারের সাথে আলাপে ভেসে আসা কথাকেও সুর গান মনে হতো আমার। যার কথা বলছি- তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয়, প্রিয় স্যার বরেণ্য গীতিকার, সংগীত পরিচালক আহমদ ইমতিয়াজ বুলবুল। একটি নাম, একটি কালজয়ী গানের ইতিহাস। আমাকে স্নেহ করতেন খুব। অনেকবার কথা ও সাক্ষাত হয়েছে। আমার স্বপ্নের সেই গানটিও শেষ হলো না যা মার্চে শেষ হতো। অনেক মিস করবো স্যার আপনাকে। তিনি বলেছিলেন- আমার বুকে ছিল জাতীয় পতাকা এবং পতাকার ওপর ছিল পবিত্র কোরআন।’- কথাটি শুনে মনে হয়েছে দেশের ও ধর্মেও প্রতি তার কতোটা আবেগ, সম্মান ও ভালবাসা আছে। তার দীর্ঘ সংগীত জগতে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সে অংশ নিয়েছিলেন। ’৭০ দশকের শেষ দিকে ‘মেঘ বিজলি বাজল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর শতাধিক ছবিতে, অসংখ্য অডিও অ্যালবামে তার কথা, সুর, সংগীত বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন, একাত্তরের মা জননী কোথায় তোমার, সেই রেল লাইনের ধাওে, সব কটা জানালা খুলে দাও না, সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য, আমার সারদেহ খেয়োগো মাটি, মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না, একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না, আমার বুকের মধ্যেখানে, আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি,
যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, আমার গরুর গাড়িতে বৌ সাজিয়ে
আম্মাজান আম্মাজান, অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে, ও আমার মন কান্দে, ও আমার প্রাণ কান্দে, কতো মানুষ ভবের বাজারে- এমন অসংখ্য কালজয়ী গান তার লেখা ও সুর করা। তিনি ২ জানুয়ারি ফেসবুক পোস্টে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আমাকে যেন ভুলে না যাও..স্টেটাসটিতে তার কন্ঠে কষ্ট এসেছে। ক্লান্তি এসেছে।
আজ তার অবসান হলো, তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। ভালো থাকবেন স্যার। আমার গানটি শেষ করা হলো না, এখন আপনাকে আর ফিরে পাবো না বাস্তবে। শুধুই মিস করবো, সারাজীবন রাখবো স্মরণে।

Share