নীড়পাতা » প্রথম পাতা » আ. লীগ চাঙ্গা, ঝিমিয়ে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতির মাঠ

আ. লীগ চাঙ্গা, ঝিমিয়ে বিএনপি

মোহাম্মদ আলী

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে বিএনপি। মাঠে সরব উপস্থিতি নেই দলটির। আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়েও দলটির মধ্যে কোন ধরণের উচ্ছ্বাস কিংবা আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। দেশে অতীতে তিনবার সরকার গঠন করা বিএনপির রাজনীতিতে যখন পিছুটান, তার বিপরীত চিত্র এখন আওয়ামী লীগে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে দলটি আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। আগামী উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে দলটি। জাতীয় পার্টি বিরোধীদলে থাকলেও আওয়ামী লীগের সাথে আঁটঘাট বেঁধে আছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্য তৎপরতা নেই।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এর আগে ২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার মধ্যে ৮টি আওয়ামী লীগ, ৩টি বিএনপি এবং অপর ৩টিতে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। আওয়ামী লীগের বিজয়ী উপজেলাগুলো হচ্ছে, সন্দ্বীপ, সীতাকু-, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ। বিএনপির বিজয়ী উপজেলাগুলো হচ্ছে হাটহাজারী, পটিয়া ও মিরসরাই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হন সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। কিন্তু এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বলতে গেলে মাঠে নেই বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট। মামলা, জেল এবং হতাশা থেকে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানান, প্রায় ১৩ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এর মধ্যে হামলা-মামলার শিকার হয়ে অনেকটা কোনঠাসা বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা একাধিকবার জেল খেটেছেন। মামলার হুলিয়া নিয়ে অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের চিড় ধরেছে। তাই দলীয় কর্মকা-ে নেতাকর্মীদের মাঠে কম দেখা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘হতাশা নয়, বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন দেশের রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সময়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হচ্ছেন। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি অচিরেই মাঠের আন্দোলনে নামবে।’
একই প্রসঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা যায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়াও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে না আসলে ভুল করবে। নির্বাচনে এসে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারে।’
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে বিএনপির সরব অবস্থান নেই। দলের সিনিয়র নেতারা জেলে থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশার মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে জেলে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ অনেক সিনিয়র নেতা। জেলে থাকলেও নির্বাচনের পর মুক্তি পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ অনেক নেতাকর্মী। এছাড়াও দলের সক্রিয় নেতাকর্মীরা একাধিক মামলার শিকার। অনেকে রয়েছেন আত্মগোপনেও। এ অবস্থায় বিএনপি মাঠে তেমন সক্রিয় নয়। সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সভা করে মহানগর বিএনপি। কিন্তু এ সভায় দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাকর্মী অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে সফর করে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধি দল। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সার্বিক অবস্থা জানতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের আসেন। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি দলটি চট্টগ্রাম অবস্থান করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে দলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। কিন্তু এরপরও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন কোন উচ্ছ্বাস ছিল না। আগে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে আসলে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের আগ্রহ থাকতো। কিন্তু এবার সে ধরণের কোন চিত্র দেখা যায়নি।
প্রতিনিধিদলটির প্রধান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী বিপদগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মী যারা মামলা-মোকদ্দমা ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার তারা কেমন আছেন, কীভাবে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা যায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, দলীয় প্রার্থী ও দল থেকে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা কর্মীদের জন্য কী করছেন তা জানাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল।’
আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও এখন বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে দলটি। চট্টগ্রামে তাদের প্রকাশ্য তৎপরতা নেই। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীরও প্রকাশ্য তৎপরতা নেই। অথচ দলটি সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক তৎপর ছিল। এমনকি বিগত উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রামে তিনটি উপজেলায় জয়লাভ করেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

Share